পরেশ দেবনাথ কেশবপুর যশোর প্রতিনিধি।
কেশবপুর পাঁজিয়ার কৃতি সন্তান খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও সভ্যতা ডিসিপ্লিনে কর্মরত উপ-রেজিস্ট্রার মোঃ সিরাজুল ইসলাম খান গতকাল (শুক্রবার) রাত আনুমানিক ২.২০ মিনিটে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর। তিনি স্ত্রী, ১ ছেলে ও ২ মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। শনিবার (১১ এপ্রিল-২৬) বাদ যোহর কেশবপুরের পাঁজিয়াস্থ নিজ গ্রামে নামাজে জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
ফুলতলা উপজেলার জামিরা বাজার আসমোতিয়া স্কুল এন্ড কলেজের ভূগোল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক, পাঁজিয়ার কৃতি সন্তান, লেখক, প্রাবন্ধিক তাপস মজুমদার জানান, মোঃ সিরাজুল ইসলাম খান পাঁজিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১৯৮৮ ব্যাচের মেধাবী ছাত্র ছিলো। পরবর্তীতে তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা সাহিত্যে সম্মান ও এম. এ শেষ করেছেন। তারপর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেছিলেন রেজিস্ট্রার পদে। বর্তমানে তিনি ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদে ছিলেন। এক সময়কার ফুটবল মাঠের তুখোড় খেলোয়াড়। ভীষণ একগুঁয়ে স্বভাবের। কখনো কখনো মাঠেও সেটা প্রকাশ পেতো। খেলাধুলা ও সাহিত্য সাংস্কৃতিকে ভালোবাসতেন, খেলার মাঠে যেমন সরব ছিলেন তেমনি পাঁজিয়া বইমেলাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। খুলনাতে দীর্ঘদিন চাকরি করলেও জন্মভূমি পাঁজিয়ার প্রতি খুবটান ছিল। তাইতো পাঁজিয়াতে থাকবেন বলে নিজের মনের মতো করে একটি বাড়িও করেছিলেন। কিন্তু সেই বাড়িতে আর থাকা হলো না। দীর্ঘ ১ বছর অসম্ভব মনোবল নিয়ে মরণব্যাধি ক্যানসারের সাথে যুগ্ধ করেছেন। পৃথিবীর সব মায়া ত্যাগকরে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। সিরাজ ভাই-এর সাথে অনেক স্মৃতি। বাড়িতে এলেই আমার বাবার (তার বাংলার প্রিয় শিক্ষক) সাথে একবার দেখে করে যেতেন। সিরাজুল ভাই-এর চলে যাওয়াতে গভীর শোকাভিভূত। তাঁর আত্মার চিরশান্তি কামনা করি।
তাঁর প্রিয় শিক্ষাগুরু সুধীর নাথ জানান, ভাষা হারিয়ে ফেলেছি! ১৯৮১-৮৪ এর দিকে একান্তে সিরাজুলের সাথে ছিলাম প্রাইভেট টিচার হিসেবে। তুখোড় মেধা আর সরলতা ছিল তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। সিরাজুল, মিলন ভঞ্জ, মনোরঞ্জন দেবনাথ, শংকর দেবনাথ, রাশিদুল ইসলাম, মুকুল (সাবেক চেয়ারম্যান) সবাই এক চৌকিতে বসে লেখাপড়া করতো। আমার হৃদয় নিংড়ে তাদেরকে উজাড় করে দিতাম। তাদের প্রদত্ত সন্মান, ভালবাসা আমাকে নিগুঢ় ভাবে বেঁধে রেখেছিল আস্টেপিষ্ঠে। তাই অসুস্থতার খবর শুনেই তার গ্রামের বাড়িতে গেছিলাম, ঢাকা বি,আর,বি হাস পাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আমার বন্ধু ওয়াহিদুজ্জামান কে সুপারিশ করে সুচিকিৎসার বন্দোবস্ত করেছিলাম, এমনকি চেন্নাইতে চিকিৎসাকালীন যতটা সম্ভব করেছি, তবু্ও সে আমাকে ছেড়ে গেল, এ বেদনা রাখার জায়গা নেই; ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের হলেও সে ছিল আমার আবাল্যের বন্ধুর মত। ঈশ্বর তাকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন। শোকাহত স্বজনদের জানাই গভীর সমবেদনা।
এদিকে তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ রেজাউল করিমসহ অন্যান্য শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। এছাড়া এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শত শত আবালবৃদ্ধবনিতা তাঁর বাড়িতে জড়ো হয়ে শোকজ্ঞাপন করেছেন।
ছবিঃ
১১/০৪/২৬