পরেশ দেবনাথ, বিশেষ প্রতিনিধি।
যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের দীর্ঘ প্রায় ২৩বছরেও কোনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন না হওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে হতাশা, অনিশ্চয়তা ও সাংগঠনিক স্থবিরতা বিরাজ করছে। দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এত দীর্ঘ সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠন কমিটিহীন থাকা বিরল ঘটনা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, এটি শুধু সাংগঠনিক বিষয় নয়, বরং তৃণমূল রাজনীতির গতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে সর্বশেষ কেশবপুর উপজেলা যুবদলের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে একাধিক নেতা দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও নতুন কোনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি।
২০০৪ সালের পর থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত একাধিক জাতীয় সংসদ নির্বাচন, উপনির্বাচন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হলেও কেশবপুর উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক কাঠামো নবায়ন হয়নি। ফলে সংগঠনটি কার্যত নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় রয়েছে বলে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে।
উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও ৯৯টি ওয়ার্ড পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা জানান, কমিটি না থাকায় সংগঠনের কার্যক্রমে সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সভা-সমাবেশ আয়োজন এবং জাতীয় দিবস পালনসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে আগের মতো গতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে উদ্যোগের অভাবে কর্মসূচি সীমিত হয়ে পড়ছে।
তারা আরও জানান, পূর্বে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নিয়মিত সভা, কর্মী সমাবেশ এবং দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত হলেও বর্তমানে তা অনেকাংশে কমে গেছে। সাংগঠনিক তৎপরতা কমে যাওয়ায় কিছু এলাকায় দলীয় উপস্থিতিও দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তৃণমূল পর্যায়ের কয়েকজন নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দীর্ঘদিন নেতৃত্ব না থাকায় নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ কমে যাচ্ছে। কেউ নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ছেন, আবার কেউ ভিন্নমুখী হয়ে যাচ্ছেন। এতে সংগঠনের ধারাবাহিকতা ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গঠনের প্রক্রিয়া প্রভাবিত হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
তবে সংশ্লিষ্টদের অনেকেই মনে করছেন, দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হলে সংগঠনে নতুন গতি ফিরতে পারে। বিশেষ করে ৯৯টি ওয়ার্ডজুড়ে আনুমানিক ১০০০ থেকে ১৫০০ নেতাকর্মীর নতুন করে দায়িত্ব পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে, যা তৃণমূল পর্যায়ে উৎসাহ ও অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, কেশবপুর উপজেলা অতীতে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় একটি এলাকা হিসেবে পরিচিত ছিল। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে এ অঞ্চলের নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে দীর্ঘদিন সাংগঠনিক কাঠামো হালনাগাদ না হওয়ায় সেই গতি বর্তমানে কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে।
উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্টদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য, ভারসাম্যপূর্ণ ও কর্মীবান্ধব কমিটি ঘোষণার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন। তাদের মতে, এতে সংগঠন পুনরায় সক্রিয় ও সুসংগঠিত হয়ে উঠবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একটি অঙ্গসংগঠন দীর্ঘদিন কমিটিহীন থাকলে তা সাংগঠনিক দুর্বলতা সৃষ্টি করে এবং তৃণমূল পর্যায়ে কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়। একই সঙ্গে নতুন নেতৃত্ব গঠনের প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হয়।
কেশবপুরের সচেতন মহল মনে করছেন, সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা নিরসন সম্ভব। দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হলে কেশবপুর উপজেলা যুবদল পুনরায় একটি সক্রিয় ও গতিশীল সাংগঠনিক কাঠামো ফিরে পেতে পারে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। দীর্ঘ শূন্যতায় দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানান তারা।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, যুবদলের কমিটিসহ অন্যান্য কমিটির বিষয় আলাপ-আলোচনা চলছে।
২৭/০৪/২৬