পরেশ দেবনাথ, বিশেষ প্রতিনিধি।
যশোর জেলা বিএনপি'র সাবেক সহ-সভাপতি, কেশবপুর উপজেলা বিএনপি'র সভাপতি ও মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান শহীদ আবু বকর আবু'র রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর-২৬) বিকেলে অধিকার বাগদহা শ্রমিক কল্যাণ সংস্থার আয়োজনে বাগদহা বেলুর মোড় প্রাঙ্গণে ওই দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে অধিকার বাগদহা শ্রমিক কল্যাণ সংস্থার সভাপতি আসাদুজ্জামান-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও ৩নং মজিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির পলাশ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও ৩নং মজিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আলাউদ্দীন মোড়ল, মজিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত সাবেক শিক্ষা অফিসার আবুল কাসেম, বায়সা শ্রীরামপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম, ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা কেশবপুর উপজেলা শাখার সভাপতি শামীম আখতার মুকুল, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদের সদস্য কৃষিবিদ তাজাম্মুল ইসলাম দিপু, বাগদহা বায়তুস সালাম জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল হামিদ, বড়েঙ্গা সম্মিলনী বিদ্যাপীঠের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম, অধিকার বাগদহা শ্রমিক কল্যাণ সংস্থার সহ-সভাপতি আব্দুল মতলেব। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন, অধিকার বাগদহা শ্রমিক কল্যাণ সংস্থার উপদেষ্টা ফরিদুজ্জামান ফরিদ।
বক্তারা বলেন, শহীদ আবু বকর আবু ছিলেন আমাদের গ্রামের অবিভাবক। তিনি ছিলেন জাতীয়তাবাদী আদর্শের আপোষহীন নেতা এবং কেশবপুরের সর্বস্তরের মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয় একজন নেতা। তার জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ শাসনামলে তাকে হত্যা করা হয়। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা থাকাকালীন পুলিশের দেওয়া ওই রিপোর্ট সাজানো ছিল। ওই রিপোর্ট ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। এই মহান নেতা খুন হওয়ার ৮টি বছর অতিবাহিত হলেও আজও পর্যন্ত আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তার হত্যার কোন রহস্য উদঘাটন করতে পারিনি। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে এই হত্যা মামলা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান বক্তারা।
এর আগে আছর নামাজ বাদ কেশবপুর উপজেলার ৩নং মজিদপুর ইউনিয়নের বাগদহা গ্রামের কৃতি সন্তান শহীদ আবু বকর আবুর পারিবারিক কবর স্থানে গিয়ে তাঁর কবর জিয়ারত এবং মরহুম আবু'র আবু'র রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বাগদহা বায়তুস সালাম জামে মসজিদের সাবেক ইমাম ও সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা ময়েজউদ্দিন গাজী ও দক্ষিণপাড়া চেয়ারম্যান পাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ ক্বারী মোঃ কওছার আলী।
উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৬ কেশবপুর আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী আবু বকর আবু ২০১৮ সালের ১২ নভেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে মনোনয়ন ফরম ক্রয় করেন। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯ নভেম্বর সাক্ষাৎকার বোর্ডে অংশ নেওয়ার জন্য রাজধানীর পল্টন এলাকার মেট্রোপলিটন হোটেলে ৪র্থ তলায় ৪১৩ নম্বর রুমে অবস্থান করছিলেন। ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যার পর থেকে তিনি নিখোঁজ হন। পরেরদিন ১৯ নভেম্বর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার তেলঘাট এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে লাশ ভাসতে দেখে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে অজ্ঞাতনামা হিসেবে ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠান। সেখানে অনুমান রাত ৮টার দিকে আবু বকর আবু'র মরদেহ শনাক্ত করেন তারই আপন ভাইপো হুমায়ুন কবির।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, বাগদহা মাঝেরপাড়া জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি সাঈদুর রহমান, অধিকার বাগদহা শ্রমিক কল্যাণ সংস্থার প্রধান উপদেষ্টা আলহাজ্ব মাজাহারুল ইসলাম, উপদেষ্টা জালাল উদ্দিন মোড়ল, সহসভাপতি আলিনুর কবীর তুহিন, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, সহ-সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ রাশেদুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মোমিনুর রহমান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শাহনাজ পারভীন, সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক জিল্লুর রহমান সহ সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
ছবিঃ
১৮/০৯/২৬