পরেশ দেবনাথ, বিশেষ প্রতিনিধি।
কেশবপুরে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দুর্নীতি নির্মূলে করনীয় বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত যশোর জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে ও কেশবপুর উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় এবং উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ওই বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
বুধবার (১০ জুন-২৬) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে কেশবপুর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি দীন ইসলাম-এর সভাপতিত্বে এবং উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার তোরাবুল ইসলাম-এর পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবং প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও রানারআপ দলের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত যশোর জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক চিরঞ্জীব নিয়োগী, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সেখ ফিরোজ আহমেদ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রুপালী রানী।
প্রতিযোগিতায় মঙ্গলকোট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, কেশবপুর সরকারি পাইলট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও সাগরদাঁড়ি মাইকেল মধুসূদন ইনস্টিটিউশন এই ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। প্রত্যেক বিদ্যালয় থেকে তিন জন করে মোট ১২ জন শিক্ষার্থী ছিলো। এর মধ্যে বিতর্কের পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তির লড়াইয়ের মাধ্যমে মঙ্গলকোট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৬০.৮৩ নম্বর পেয়ে বিজয়ী এবং কেশবপুর সরকারি পাইলট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৫৬ নম্বর পেয়ে রানারআপ হয়েছে। এছাড়াও শ্রেষ্ঠ বিতার্কিক হয়েছেন মঙ্গলকোট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র অর্ক পাল। বিতর্কের বিষয় গুলো ছিলো "দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামাজিক মূল্যবোধের তুলনায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রয়োজন"। "দুর্নীতি প্রতিরোধে যুবসমাজের সক্রিয়তা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকার চাইতেও কার্যকর"। "দুর্নীতি নির্মূলে সামাজিক মুল্যবোধের পুনরুদ্ধার প্রশাসনিক সংস্কারের চাইতেও গুরুত্বপূর্ণ"।
বক্তারা বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে শুধু আইন বা শাস্তির চেয়ে সামাজিক সচেতনতা বেশি কার্যকর।আইনের কঠোর প্রয়োগ নয়, সামাজিক সচেতনতাই পারে দুর্নীতি রুখতে। সমাজের প্রতিটি স্তরের মূল্যবোধ ও নৈতিকতা চর্চা বাড়াতে পারলেই দুর্নীতির মূল উপড়ে ফেলা সম্ভব। তাই দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তরুণদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিলে তরুণরা দুর্নীতির কুফল সম্পর্কে জানতে পারে তাদেরকে ভাবতে শেখায়। পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তির লড়াইয়ের মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়াও সততা ও নিয়মানুবর্তিতার চর্চা হয়। তাতে করে জীবনে দুর্নীতি করার সুযোগ পেলেও তারা কখনো করবেনা। এছাড়াও প্রতিটি পরিবার থেকে শিশুদের সততার শিক্ষা দেওয়া হলে তারা বড় হয়ে দুর্নীতিমুক্ত থাকবে।
বক্তারা আরও বলেন, শুধু সচেতনতা দিয়েই দুর্নীতিবাজদের থামানো যাবে না। সমাজে দুর্নীতি প্রতিরোধ ও নির্মূল করতে হলে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর কঠোর নজরদারি এবং সঠিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দুর্নীতিবাজদের সঠিক শাস্তি হলেই দুর্নীতি কমবে। সমাজে দুর্নীতিবিরোধী পরিবেশ থাকলে দুর্নীতিবাজরা ভয় পাবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত যশোর জেলা কার্যালয়ের কনস্টেবল এমরান হোসেন, কনস্টেবল হুমায়ূন কবির, সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সভাপতি হাজী রুহুল কুদ্দুস, ন্যাশনাল প্রেস সোসাইটি, গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংস্থা কেশবপুর উপজেলা শাখার সভাপতি শামীম আখতার মুকুল, সহ সভাপতি এনামুল হাসান নাঈম, কেশবপুর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সুফিয়া পারভীন শিখা, কেশবপুর থানা প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি পরেশ চন্দ্র দেবনাথসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ।
ছবিঃ
১০/০৬/২৬