পরেশ দেবনাথ, বিশেষ প্রতিনিধি।
কেশবপুরের বিভিন্ন সংগীত একাডেমিতে বিশ্ব সংগীত দিবস উদযাপন করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে কেশবপুরের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান চারুপীঠ একাডেমিও আড়ম্বরপূর্ণ ভাবে দিবসটি পালন করেছে।
রোববার (২১ জুন-২৬) বিকেলে চারুপীঠ একাডেমির উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে একাডেমির সংগীত বিভাগের অধ্যক্ষ স্বরজিৎ মন্ডল-এর সভাপতিত্বে এবং চারুপীঠ একাডেমির প্রচার সম্পাদক বাপ্পা পালের পরিচালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন, ডাক্তার পম্পা কুন্ডু। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক উৎপল দে। সম্মানিত অতিথি ছিলেন, শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ মজুমদার ও শিক্ষক নন্দ দেবনাথ। সমবেত সংগীতের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে একক সংগীত পরিবেশন করে চারুপীঠ একাডেমির শিক্ষার্থী সৃজন দে, অর্ঘ্য বসু, রুপকথা দে, দিপ দেবনাথ, চিত্রা মজুমদার প্রমুখ।
আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কেশবপুরে সুস্থ ধারার শিল্প-সংস্কৃতি চর্চা বিস্তার এবং নতুন প্রজন্মকে সংগীত ও নান্দনিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে চারুপীঠ একাডেমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। উপজেলা শহর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক বিকাশে প্রতিষ্ঠানটির নিরলস প্রচেষ্টা ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বক্তারা আরও বলেন, চারুপীঠ একাডেমির নির্বাহী পরিচালক উৎপল দে-এর আন্তরিক প্রচেষ্টা, দূরদর্শিতা ও সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতার ফলে প্রতিষ্ঠানটি কেশবপুরে একটি পরিচ্ছন্ন ও সৃজনশীল সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। নিজেদের অর্থায়ন, শ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে একাডেমির পরিচালক, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা শিশু-কিশোরদের জন্য আনন্দ, চর্চা ও বিকাশের এক সুন্দর ক্ষেত্র তৈরি করে চলেছেন।
স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজন, সুধীসমাজ ও অভিভাবকরা মনে করেন, চারুপীঠ একাডেমির মতো প্রতিষ্ঠান সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে এবং নতুন প্রজন্মকে মাদক, অপসংস্কৃতি ও অবক্ষয়ের পথ থেকে দূরে রেখে সৃজনশীলতার পথে এগিয়ে যেতে সহায়তা করে। তারা প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানান।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সংশ্লিষ্টদের মতে, চারুপীঠ একাডেমি কেবল একটি সংগীতচর্চার প্রতিষ্ঠান নয়; বরং এটি কেশবপুরে শিল্প, সাহিত্য, সংগীত ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার এক নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে ইতোমধ্যে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছে। দিন দিন এগিয়ে যাক এই অন্যতম সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানটি।
ছবিঃ
২১/০৬/২৬