পরেশ দেবনাথ, বিশেষ প্রতিনিধি।
যশোরের কেশবপুর উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের গড়ভাঙ্গা বাজারের অভ্যন্তরীণ সড়কে দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে, যেন দেখার কেউ নেই। বাজারের অভ্যন্তরীণ সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ব্যবসায়ী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে কাদা ও পানি জমে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ বাজারের সড়কটি জনদুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারের প্রধান অভ্যন্তরীণ সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে গর্তগুলো কাদা-পানিতে পরিণত হওয়ায় মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, ভ্যানসহবিভিন্ন যানবাহন চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেকেই কাদা এড়িয়ে চলতে গিয়ে পিছলে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। বাজারে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাদেরও প্রতিদিন দুর্ভোগের স্বীকার হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির কোনো সংস্কার না হওয়ায় পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। সড়কটি নিচু হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকে। বর্ষা মৌসুমে পুরো রাস্তা কাদা-পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি কমে যায় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। পানি জমে থাকার কারণে কোথায় গর্ত কম-বেশি বোঝার উপায় থাকে না।
স্থানীয় কাঁচামাল ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান বলেন, “প্রতিদিন কাদা-পানি মাড়িয়ে দোকানে আসতে হয়। বৃষ্টির সময় রাস্তায় হাঁটুপানি জমে যাওয়ায় ক্রেতাদের চলাচল ব্যহত হয়। অনেকেই কাদা-পানির কারণে বাজারে আসতে চান না, ফলে বেচাকেনাও স্বাভাবিকভাবে কমে যায়। আবার চলাচলের সময় অনেকেই পিছলে পড়ে আহত হন। তাই সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করাজরুরী হয়ে পড়েছে।"
ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী কওছার আলী বলেন, “প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই দোকানের সামনে কাদা-পানি জমে যায়। এমন পরিস্থিতিতে কাদা-পানি মাড়িয়ে নিজেই দোকান খুলতে ইচ্ছা করে না, সেখানে ক্রেতারা কীভাবে আসবেন? ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা হলে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে।"
পথচারী হারুন অর রশীদ বলেন, “বাজারের এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা এখন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সামান্য অসাবধান হলেই পিছলে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।”
বাজার কমিটির সভাপতি শরিফুল ইসলাম বলেন, “বাজারের অভ্যন্তরীণ সড়কটি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটা লাঘব হবে।”
এ বিষয়ে পাঁজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রুপালী রানী বলেন, "ইউনিয়ন পরিষদে নতুন বরাদ্দ পাওয়া গেলে গড়ভাঙ্গা বাজারের ওই সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দ্রুত কাজটি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে বলে আশ্বাস দেন।"
ছবিঃ
২৩/০৭/২৬