পরেশ দেবনাথ, কেশবপুর, যশোর।
কেশবপুর উপজেলার ৮নং সুফলাকাটি ইউনিয়নের ময়নাপুর গ্রামের একটি সরকারি ইটের সলিং রাস্তার উপরে অবৈধভাবে ৫০ গজের মধ্যে ৩টি স্পিড ব্রেকার নির্মাণ করা হয়েছে। এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাস্তার উপরে যন্ত্রতন্ত্র স্পিড ব্রেকার স্থাপন করার কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কবলে পড়ে অনেকেই রক্তাক্ত জখম হয়ে মারাত্মক আহত হচ্ছে। এছাড়াও মটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, ইঞ্জিনচালিত ভ্যানসহ ছোটখাটো যানবাহনের বেশ ক্ষতি হচ্ছে। দূর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেতে এবং জনস্বার্থে সরকারি রাস্তার উপর থেকে অবৈধভাবে নির্মিত স্পিড ব্রেকারগুলো অপসারণের জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ময়নাপুর গ্রামের বাসিন্দা প্রকাশ চন্দ্র মন্ডল গত ২৮-১০-২০২৫ তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার গত ৩০-১০-২০২৫ তারিখে বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলীকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করেন। পরবর্তীতে উপজেলা প্রকৌশলী গত ১১-১১-২০২৫ তারিখে উপ-সহকারী প্রকৌশলী বিচিত্র কুমার জোদ্দারকে সরজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেন। তারই নির্দেশনা মোতাবেক বিচিত্র কুমার সরজমিন পরিদর্শন করে গত ২৩-১২-২০২৫ তারিখে লিখিত প্রতিবেদন তার নিকট জমা দেন। লিখিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, কেশবপুর উপজেলার ৮নং সুফলাকাটি ইউনিয়নের সাতনলা গাজীর মোড় হইতে ময়নাপুর সাইক্লোন সেন্টার ও স্কুল অভিমুখী তিনটি গতিরোধক রয়েছে এইচবিবি রাস্তার উপরে। দুইটি ডাঃ তুষার মন্ডলের বাড়ির সামনে যা ব্যক্তিগত স্বার্থে স্থাপন করা হয়েছে। আরেকটি অশোক মন্ডলের বাড়ির সামনে যাহা খুবই উঁচু। গতিরোধকের জন্য দূর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে সাধারণ জনগণ। গতিরোধকগুলো অপসারণের প্রয়োজন। এই প্রতিবেদন জমা দিলেও আজও পর্যন্ত গ্রামীণ রাসায় অবৈধ স্পিড ব্রেকারগুলো অপসারণের জন্য উপজেলা প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। কিন্তু কেন ?
যেকোন সড়ক বা মহাসড়কে জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং বিশেষ করে হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ, হাটবাজার বা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় গাড়ির গতি কমানোর জন্য স্পিড ব্রেকার ব্যবহার করা হয়।সাধারণত একটি স্পিড ব্রেকার বা হাম্পের উচ্চতা ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি এবং প্রস্থ ১ থেকে ৩ ফুট হয়ে থাকে। অথচ গ্রামের একটা ইটের সলিং রাস্তার উপরে ৮ ইঞ্চি, ৬ ইঞ্চি উচ্চতা এবং ৩ ফুট প্রস্থ করে স্পিড ব্রেকার স্থাপন করা হয়েছে। স্পিড ব্রেকার স্থাপনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা প্রশাসনের অনুমতি নেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। ব্যক্তি উদ্যোগে যত্রতত্র স্পিড ব্রেকার বসানো হয়েছে। যত্রতত্র স্থাপন করা এসব স্পিড ব্রেকারের কারণে জনগণের উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হচ্ছে। মাঝে মধ্যে দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। খুব দ্রুত সময়ে এই গ্রামীণ রাস্তার উপর থেকে অবৈধভাবে স্থাপিত স্পিড ব্রেকারগুলো অপসারণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ছবিঃ
১০/০৫/২৬