অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ
খুলনার কয়রা উপজেলার বাঘালী ইউনিয়নের বামিয়ার জিআই ক্লাব সংলগ্ন অস্থায়ী গরুর হাটে গরু বিক্রয় করতে নিয়ে যাওয়ার পথে নসিমন উল্টে ১ ঔষধ ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের সাত বছরের শিশু সন্তানসহ আরো ২ জন আহত হয়েছে।
২৬ মে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের খিরোল গ্রামের মাওলানা শামসুজ্জামান ঢালীর একমাত্র পুত্র মিজানুর রহমান ঢালীর (৩৬) নিজ বাড়ীতে পালিত গরু ইঞ্জিনচালিত নসিমনে করে বিক্রয় করতে নিয়ে যাওয়ার পথে দুপুর আড়াইটার দিকে কয়রা পাইকগাছা সড়কের ইসলামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে নসিমনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে পড়ে উল্টে যেয়ে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
গ্রামবাসীর সুত্রে জানা যায়, নিহত মিজানুর রহমানের ভাণ্ডারপোল বাজারে একটি ঔষধের দোকান আছে। তিনি ঔষধ ব্যাবসার পাশাপাশি বাড়ীতে গরু লালন-পালন করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে মিজানুর রহমান কয়েকটি গরু নসিমনে করে বামিয়ার গরুর হাটে বিক্রয়ের জন্য রওনা দেন। পথে ইসলামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে কয়রা পাইকগাছা সড়কে পৌছলে গরু বোঝাই ইঞ্জিন চালিত নসিমনটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এ সময় মিজানুর রহমানের গলায় ও মাথায়সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। স্থানীয়রা এসে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মিজানুর রহমান ঢালীকে মৃত ঘোষণা করেন।
আহতরা হলেন, নিহতের শিশু সন্তান হাবিব (৭) ও একই গ্রামের আতিয়ার রহমান ঢালী (৪০) এবং ভাণ্ডারপোল গ্রামের আব্দুল সানা (৬০)।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সুজিত কুমার বৈদ্য বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে। তার গলা ও মাথায় গুরুতর জখম রয়েছে। আতিয়ার রহমানকে বাড়ীতে পাঠানো হয়েছে। আব্দুল সানার জখম গুরুতর হওয়ায় এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতের ৭ বছরের শিশু সন্তান হাবিবের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
কয়রা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ শাহ আলম দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
কয়রা, খুলনা প্রতিনিধি
তারিখঃ ২৭/০৫/২৬ ইং।