নিজস্ব প্রতিনিধি।
খুলনা জেলার লবনচরা থানাধীন ঠিকরাবাদ সাকিনস্থ আলাউল কবির খাঁ এর জনৈক পবিত্র মজুমদারের মাধ্যমে আসামি মোঃ পলাশ আলীর সাথে পরিচয় হয়। আসামি ভালো বেতনে মালয়েশিয়ায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখালে আলাউল কবির খাঁ তার ০৬ জন নিকটাত্মীয়কে বিদেশে পাঠানোর জন্য আসামি মোঃ পলাশ আলীর সাথে যোগাযোগ করেন। আসামি পলাশ প্রত্যেককে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর জন্য ৫,৫০,০০০/- টাকা এবং ভিসা ও অন্যান্য কাগজপত্র প্রস্তুতের জন্য অগ্রিম টাকা দাবি করলে আলাউল কবির বিভিন্ন তারিখে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সর্বমোট ১৭,০০,০০০/- টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে আসামি পলাশ চাকরি প্রার্থীদের ঢাকায় নিয়ে মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করিয়ে ফেব্রুয়ারি/২০২৬ এর মধ্যে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর আশ্বাস দিলেও দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও তাদের বিদেশে পাঠায়নি এবং বিভিন্নভাবে কালক্ষেপণ করতে থাকে। সর্বশেষ গত ১৫/০৮/২০২৬ তারিখে আসামি পলাশ আলাউল কবিরের বাড়িতে এসে চাকরি প্রার্থীদের মালয়েশিয়ায় পাঠাতে পারবে না এবং গ্রহণকৃত টাকাও ফেরত দিতে পারবে না মর্মে জানালে আলাউল কবির বাদী হয়ে আসামি মোঃ পলাশ আলী সহ ০২ জনের বিরুদ্ধে লবনচরা থানায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন যার মামলা নং-১৫, তারিখঃ ২৩/০৮/২০২৬ খ্রিঃ, ধারা-৪০৬/৪২০ পেনাল কোড। মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় পিবিআই, হেডকোয়ার্টার্সের সিদ্ধান্তক্রমে পিবিআই, খুলনা তদন্তভার গ্রহণ করে এবং পুলিশ সুপার জনাব রেশমা শারমিন, পিপিএম-সেবা তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে এসআই (নিঃ) মোঃ হাবিবুর রহমানকে নিয়োগ করেন।
পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মোঃ মোস্তফা কামাল এর সার্বিক দিক-নির্দেশনায় পিবিআই খুলনার পুলিশ সুপার জনাব রেশমা শারমিন, পিপিএম-সেবা এর তত্ত্বাবধানে এবং সহযোগীতায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত এজাহারনামীয় আসামি মোঃ পলাশ আলীর অবস্থান শনাক্ত করে। তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ পিবিআই খুলনার একটি চৌকস দল অদ্য ২৮/০৮/২০২৬ খ্রিঃ রাত্র ০১.৪৫ ঘটিকায় ময়মনসিংহ জেলার সদর থানাধীন গোলপুকুরপাড়স্থ কর অঞ্চল ভবন, ময়মনসিংহ হতে এজাহারনামীয় আসামি মোঃ পলাশ আলীকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি মোঃ পলাশ আলী অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করে। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতে গ্রেফতারকৃত এজাহারনামীয় আসামি মোঃ পলাশ আলী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
পিবিআই এর তদন্ত এবং গ্রেফতারকৃত আসামির জবানবন্দি থেকে জানা যায়, আসামি মোঃ পলাশ আলী বাদীকে উচ্চ বেতনে মালয়েশিয়ায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখালে বাদী তার নিকটাত্মীয়দের মালয়েশিয়াতে পাঠানোর জন্য আসামির মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের হিসাবে ১৭,০০,০০০/- (সতের লক্ষ) টাকা প্রদান করে। পরবর্তীতে আসামি পলাশ বাদীপক্ষকে মালয়েশিয়াতে না পাঠিয়ে উক্ত অর্থ আত্মসাৎ করে। এ বিষয়ে পিবিআই, খুলনা এর পুলিশ সুপার জনাব রেশমা শারমিন, পিপিএম-সেবা বলেন, "আর্থিক অস্বচ্ছলতার সুযোগ নিয়ে উচ্চ বেতনে চাকরি দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে অর্থ আত্মসাৎকারী প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে পিবিআই জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে। সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করব, আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হয়ে সচেতন থাকুন এবং প্রতারণার শিকার হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করুন।"মামলার সঙ্গে জড়িত এজাহারনামীয় অন্য আসামিদের গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মামলার তদন্তও চলমান রয়েছে।