১৬ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।২রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।রবিবার

সৌন্দর্য হারাচ্ছে প্রাচীন মসজিদকুঁড়ের ঐতিহাসিক মসজিদ।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

অযত্ন ও অবহেলায় সৌন্দর্য হারাতে বসেছে খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদিগকে ইউনিয়নের মসজিদকুঁড়ের ঐতিহাসিক প্রাচীন মসজিদকুঁড় মসজিদটির।

সাত ফুট চওড়া চুন-সুরকির গাঁথুনির নান্দনিক ইটের দেয়াল। দেড় হাজার বর্গফুট আয়তনের মসজিদের ভেতরে মাত্র চারটি পাথরের খুঁটির ওপর ৯টি সুদৃশ্য গম্বুজ। রয়েছে চার কোণে ৪টি গোলাকার টারেট। বাইরের দেয়াল পোড়ামাটির চিত্রফলক দ্বারা অলংকৃত। তবে চমৎকার এসব স্থাপত্যশৈলী লবণাক্ততায় গ্রাস করছে ধীরে ধীরে। খসে পড়ছে সুদৃশ্য চিত্রফলক। দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দক্ষিণ বাংলার এ প্রত্নসম্পদ মসজিদকুঁড় মসজিদ সৌন্দর্য হারাতে বসেছে।

 

খুলনা শহর থেকে প্রায় ৮৪ কিলোমিটার দক্ষিণে কয়রা উপজেলার আমাদি ইউনিয়নের সবুজে ঘেরা মসজিদকুঁড় গ্রামের কপোতাক্ষ নদের তীরে নয়ানাভিরাম এ মসজিদটি অবস্থিত। প্রচলিত আছে, নির্মাণকালের প্রায় তিনশ বছর পর জলদস্যুদের অত্যাচারে এ অঞ্চল জনমানবশূন্য হলে সেখানে ঘন জঙ্গলে পরিণত হয়। এতে মসজিদটিও ঝোপঝাড় ও মাটির নিচে অর্ধেক ঢাকা পড়ে যায়। ১৯৪৭ সালে মসজিদটির সন্ধান মেলে। ঘন জঙ্গল কেটে ও মাটি খুঁড়ে এ মসজিদ আবিস্কার হওয়ায় নাম দেওয়া হয় মসজিদকুঁড় মসজিদ। সেই থেকে মসজিদের নামেই গ্রামটি পরিচিতি পেয়েছে মসজিদকুঁড় নামে।

 

ধারণা করা হয়, ১৪৫০ সালের দিকে হযরত খানজাহান আলীর (রহ.) বিশ্বস্ত সহচর বুড়া খাঁ ও তার ছেলে ফতেহ খাঁ মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদের পশ্চিম পাশে কপোতাক্ষ নদ ও অন্য তিন পাশে পরিখা খনন করা ছিল। যার দুই পাশে বর্তমানে ভরাট করে বসতি গড়ে উঠেছে। বর্তমানে মূল চত্বরের জমিও দখল হয়ে যাওয়ায় সৌন্দর্য হারাচ্ছে মসজিদটি। এক সময় টেরাকোটা দিয়ে সজ্জিত ছিল এটি। এর অনেকটাই এখন খসে পড়েছে, নয়তো খোয়া গেছে। এছাড়া নদীভাঙনের ফলে মসজিদ সংলগ্ন কবরস্থানটির অস্তিত্ব নেই এখন। স্থানীয়রা জানান, কবরস্থানটিতে মসজিদ নির্মাণকারীদের বংশধরের কবর ছিল।

 

গ্রামের বাসিন্দা জুলফিকার আলী বলেন, মসজিদকুঁড় মসজিদটি সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় থাকায় এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও তাদের। বর্তমানে মসজিদটি অবহেলা ও অযত্নে সৌন্দর্য হারাতে বসেছে।

 

দর্শনার্থী আশরাফুল আলম বলেন, মসজিদটির দেয়ালের অনেক শিল্পকর্ম খসে পড়ছে। লবণাক্ততায় এর ইটও ক্ষয়ে যাচ্ছে। এতে মসজিদটি ঐতিহ্য হারাতে বসেছে।

 

মসজিদের বর্তমান ইমাম মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, শূন্য দশমিক ৪৫ একর জমির ওপর মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত। এটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের। তবে তাদের নিয়োগপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা অথবা কর্মচারী এখানে নেই।

 

খুলনা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা বলেন, খুলনা বিভাগের সব পুরাকীর্তি রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আপাতত জনবল সংকটে মসজিদকুঁড়ের মসজিদটি দেখভালের জন্য সেখানকার খাদেম ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে কমিটি করে দেওয়া হয়েছে।

 

 

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি