২৩শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৮ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।মঙ্গলবার

সিলেটের ‘স্বর্ণকিশোরী’ নুবায়শার হাতে স্বর্ণপদক হস্তান্তর।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

এম এ রশীদ বিশেষ প্রতিনিধি :

ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন (ইউপিইউ) কর্তৃক আয়োজিত ৫০তম আন্তর্জাতিক পত্রলিখন প্রতিযোগিতায় ১৯২টি দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে প্রথমস্থান অর্জনকারী সিলেটের কিশোরী নুবায়শা ইসলামের হাতে স্বর্ণপদক হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

শনিবার (৬ নভেম্বর) বিকাল ৪টায় সিলেট প্রধান ডাকঘরের কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত এ পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম.এ. মান্নান এমপি।

 

সিলেট পোস্টাল বিভাগের ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল মুহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ইউপিইউ’র ৫০তম আন্তর্জাতিক পত্রলিখন প্রতিযোগিতার ১ম পুরস্কার বিজয়ী সিলেটের নুবায়শা ইসলামের হাতে স্বর্ণপদক, সনদপত্র, অভিনন্দনপত্র ও উপহারসামগ্রী তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।

 

১৯২টি দেশের লক্ষাধিক প্রতিযোগীর মধ্যে ১ম পুরস্কার (স্বর্ণপদক) লাভ করেন নুবায়শা। পত্র লেখার বিষয় ছিল কোভিড-১৯। নুবায়শা তার অনাগত বোনকে উদ্দেশ্যে করে লেখা চিঠিতে করোনাকালে মৃত্যুভয়, স্বজন হারানোর ভয়ের কথা উল্লেখ করেও প্রচন্ড আশাবাদ ব্যক্ত করে একটি ভালো সময়ের জন্য প্রত্যাশা করেছে। অনুষ্ঠানে স্বর্ণপদক বিজয়ী নুবায়শা ইসলামের রেকর্ডকৃত ভিডিও প্রদর্শনী করা হয়।

 

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. খলিলুর রহমান।

 

এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ সিরাজ উদ্দিন, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার মো. নিশারুল আরিফ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরুল হাসান ও সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ডাঃ মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ক্বারি মাওলানা খালেদ মুহাম্মদ ও পবিত্র গিতা পাঠ করেন সিলেট ডিপিএমজি কার্যালয়ের স্টেনো চুমকী রাণী তালুকদার।

 

প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী এম.এ. মান্নান এমপি তাঁর বক্তব্যে বলেন, সারা বিশ্বের মধ্যে ৫০তম আন্তর্জাতিক পত্রলিখন প্রতিযোগিতায় ১৯২টি দেশের লক্ষাধিক প্রতিযোগীকে পিছনে ফেলে আমাদের সিলেটের মেয়ে নুবায়শা ইসলাম স্বর্ণপদক বিজয়ী হয়েছেন। যা আমাদের সিলেট তথা সারা বাংলাদেশের গর্ব। তিনি নুবায়শার প্রতিভার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তার মাতা-পিতাসহ শিক্ষক-শিক্ষিকাগণের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

 

এছাড়াও অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথিবৃন্দ নুবায়শা ইসলামকে ‘স্বর্ণকিশোরী’ হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করে তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। অতিথিবৃন্দ নুবায়শা ইসলামের এই অর্জনকে জাতির জন্য একটি মাইল ফলক হিসেবে উল্লেখ করে নুবায়শার এই প্রাপ্তিকে দেশের জন্য একটি গৌরবময় অধ্যায় হিসেবে অবহিত করেন।

 

অনুষ্ঠিত আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) সামচ্ছুদ্দিন সালেহ আহমদ চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী মাহমুদ, সিলেট বিভাগীয় সহকারী পোস্ট মাস্টার জেনারেল সুজিত চক্রবর্তী, ট্রেজারি পোস্ট মাস্টার মুজিবুর রহমান, এজিএম তুহীদুর রহমান ও এপিএমজি তন্ময় দে চৌধুরী প্রমুখ।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

খুলনার কয়রায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলার আয়োজনে ও কয়রা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় এ সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম মোহসিন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আলম।
এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী, বাঙ্গালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ গাজী, আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল সহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

নিরাপদ খাদ্যের মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ মোকলেছুর রহমান।

কয়রায় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত।

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।