১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

সরিষাবাড়ীতে অন্তঃসত্বা গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

স্বপন মাহমুদ, সরিষাবাড়ী প্রতিনিধি:
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে শিল্পী আক্তার (২৫) অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২২ আগস্ট) সন্ধায় সরিষাবাড়ী পৌরসভার বাউসি মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূ ওই গ্রামের ইলেকট্রিক মিস্ত্রি শওকত আলীর স্ত্রী।
ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা গেছে, নিহতের পেটে আঘাতের চিহ্ন ও ডান হাতের কনুই থেকে কাঁধ পর্যন্ত বৈদ্যুতিক ছেঁকার চিহ্ন ছিলো।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বাউসি মধ্যপাড়া গ্রামের মৃত শাহজাহান আলীর ছেলে শওকত আলীর সাথে ২০১৩ সালে পার্শ্ববর্তী গজারিয়া গ্রামের খলিলুর রহমানের মেয়ে শিল্পী আক্তারের বিয়ে হয়। রোজা খাতুন নামে ৪ বছর বয়সী তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই উভয়ের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। এর জের ধরে ২০১৯ সালে শওকত তার স্ত্রী শিল্পিকে তালাক দেয়। আদালতে মামলা দায়ের হলে শওকত আলী হাজতবাস করে। পরে জামিনে এসে সে পুণরায় শিল্পী আক্তারকে বিয়ে করে। কিন্তু তাদের মধ্যে পূর্বের মতোই কলহ চলছিল। এদিকে রবিবার বিকেলে শিল্পী আক্তার বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন বলে প্রচার করে তার স্বামী। বিষয়টি এলাকায় সন্দেহের সৃষ্টি হলে খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে যায় থানা পুলিশ।

নিহতের স্বামী শওকতের দাবি, তার স্ত্রী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন। চিকিৎসার জন্য তাঁকে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করা হয়।

নিহতের ভাই সেলিম ও ছোটবোন শিফা আক্তার বলেন, বোনকে প্রায়ই নির্যাতন করে বাড়ি পাঠিয়ে দিত তার দুলাভাই। শিল্পির স্বামী শওকত ইলেকট্রিক মিস্ত্রি তাই কিভাবে বিদ্যুৎ শর্ট দিয়ে মারতে হয় সেটা সে জানে। সকালে মারা যায় শিল্পি কিন্তু খবর দেওয়া হয় সন্ধার দিকে। মৃত্যুর বিষয়টি রহস্যজনক বলে ধারণা করছে পরিবার। রাতেই লাশ থাকায় নিয়ে যায় পুলিশ।

এব্যাপারে সরিষাবাড়ী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মজিদ সাংবাদিকদের জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লাশ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয় সোমবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হবে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি