১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

শিক্ষকের প্রহারে সাড়ে চার বছরের শিশু ইসমাইল এখন হাসপাতালে ।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ইমরান হাসান বুলবুল, ত্রিশাল(ময়মনসিংহ)প্র­তিনিধিঃ

ময়মনসিংহের ত্রিশালে মুফতি আবু সাঈদ নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষকের প্রহারে হাসপাতালে কাতরাচ্ছে সাড়ে চার বছরের শিশু ইসমাইল। বাবা-মার ডির্ভোস হওয়ায় দাদুর বাড়িতে পালিত শিশুটি পরিবার ভয়ে মুখ খোলতে নারাজ! মাদ্রাসা কমিটি ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে রাজি হয়েছে। মাদ্রাসার শিক্ষক মুফতি সাঈদ লাপাত্তা।

মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের চাউলাদি আমতলা বাজারে দুষ্টুমি করায় শিশুটিকে বেধড়ক মারধর করেন স্থানীয় মারকাযুশ শায়খ হুসাইন আহমদ মাদানী (রহ.) মাদ্রাসার ওই শিক্ষক। মারতে মারতে শিশুটিকে একপর্যায়ে সিঁড়ি থেকে নিচে ফেলে দেন তিনি। এতে তার মাথা ও মুখে মারাত্মক জখমের সৃষ্টি হয়। শিশুটি এখন ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের ভর্তি রয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশুটির মা-বাবার ছাড়াছাড়ি হয়েছে বেশ কিছুদিন হলো। বাবা সুলতান মিয়া আরেকটি বিয়ে করে অন্যত্র থাকেন। শিশুটি বৃদ্ধ দাদির কাছে থেকে বড় হচ্ছে। চঞ্চল প্রকৃতির হওয়ায় মাদ্রাসার সামনে সে দুষ্টুমি করছিল। এ কারণে তাকে ধরে নিয়ে বেদ দিয়ে বেধড়ক পিটুনি দেন মাদ্রাসা শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম আবু সাঈদ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মুনসুর বলেন, শিশুটিকে বেশ মারধর করা হয়েছে। তার শরীরে অনেক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে মুখ ও মাথার আঘাতের চিহ্ন একটু গভীর। তাকে আমরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছি।

 

মারধরের সত্যতা স্বীকার করে মসজিদ ও মাদ্রাসা কমিটির সদস্য নূরুল ইসলাম বলেন, আমরা মসজিদ ও মাদ্রাসা কমিটি এই শিশুটির যাবতীয় চিকিৎসা ব্যয় বহন করব।

মাদ্রাসা কমিটির সভাপতি এবিএম আরিফুর রহমান সেলিম বলেন, আমি ঘটনাটি জানার পর শিশুটিকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। তার চিকিৎসা চলছে। ঘটনাটি অনাকাংক্ষিত। হুজুর এর আগে কখনও এমনটি করেননি। এখন কেন এমনটি হলো তা আমিও বুঝতে পারছি না।

 

কর্মস্থালে না থাকায় মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে মুফতি সাইদ অপরাধ স্বীকার করে বলেন, তাকে এভাবে মারা ঠিক হয়নি। তবে আমি তাকে সিঁড়ি থেকে ফেলে দেইনি। সে আগেই সিঁড়ি থেকে পড়ে মাথায় ও মুখে আঘাত পেয়েছে। এরপরেও কেন তাকে মারা হলো এমন প্রশ্নে সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি তিনি। আপনি এখন কোথায় আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ত্রিশাল আছি বলে লাইনটি কেটে দেন।

 

 

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি