২৩শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৮ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।মঙ্গলবার

শার্শায় নৌকা প্রতীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাসির উদ্দিন ।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মেহেদী হাসান, শার্শা প্রতিনিধি :

 

নৌকা প্রতীককে সমর্থন দিয়ে রক্তাক্ত পুটখালী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন থেকে সরে দাড়ালেন বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নাসির উদ্দিন।

বুধবার (২৪নভেম্বর)বিকালে পুটখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত শান্তির লক্ষ্যে এক উম্মুক্ত জনসভায় নৌকার পক্ষে সমর্থন জানিয়ে আনারস প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তার নির্বাচন পরিহার করেন।

উক্ত জনসভায় আওয়ামীলীগের মনোনীত নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুল গফফার সরদার বলেন, এখন থেকে পুটখালী ইউনিয়নে আর কোন রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হবেনা। হবেনা কোন মামলা মোকদ্দমা। নাসির উদ্দিন সমর্থকদের নামে যতগুলি মামলা হয়েছে তা পরিহার করবেন তার সমর্থকরা। এসাথে তিনি পুটখীলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে জয়লাভ করলে নাসির উদ্দিনের অভিজ্ঞতা এবং তার বিগত দিনের চেয়ারম্যানীর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দুজনে একসাথে মিলে পুটখালী বাসীর উন্নয়নে কাজ করবেন বলে জানালেন গফফার সরদার।

এসময় আনারস প্রতীক নিয়ে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীতা থেকে সরে দাড়ানো তরুণ সমাজ সেবক নাসির উদ্দিন বলেন, আমি পুটখালী ইউনিয়নে আর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ দেখতে চায়না। আমার সমর্থকরা মামলায় জর্জরিত হোক তা আমি চাইনা। আমি চাই পুটখালী বাসীর শান্তি। এলাকাবাসী আমাকে ভালোবাসে বিধায় তাদের ভালোবাসায় সেবার মন নিয়ে নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দীতা করছিলাম। পরে ভেবেছি আওয়ামীলীগ একটি শান্তিপ্রিয় দল আর সেই দলের একজন কর্মী হয়ে আমি নৌকার বিরোধিতা করতে পারিনা। তাই উম্মুক্ত জনসভার আয়োজন করে আমি আনারস প্রতিক নিয়ে আমার চেয়ারম্যান প্রার্থীতা পরিহার করে নৌকাকে সমর্থন করছি। এসময় তিনি পুটখালী বাসীকে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আব্দুল গফফার সরদারকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করার আহবান জানান। বলেন, পুটখালী ইউনিয়ন থেকে নৌকা মার্কার বিজয় হলে স্থানীয় এমপি শেখ আফিল উদ্দিনসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত শক্তিশালী হবে।

করোনা মহামারীতে দূরদিনে এলাকাবাসীকে অন্ন-বস্ত্র দিয়ে সেবা করে যাওয়া তরুণ সমাজসেবক “নাসির উদ্দিন” নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানোর ঘোষণা’য় উক্ত স্কুলপ্রাঙ্গণে এক শোকের ছায়া নেমে আসে। অজস্র মানুষের ক্রন্দনরত আহাজারিতে এলাকার আকাশে বাতাশে যেনো থমথমে ভাব বিরাজ করছিলো।

উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন শার্শা উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন, শার্শা সদর ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী কবির উদ্দিন তোতা, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহিম সরদার, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন রাসেল, বেনাপোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব বজলুর রহমান, পুটখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, আওয়ামীলীগ নেতা ফকির, রেজাসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগের সকল সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

খুলনার কয়রায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলার আয়োজনে ও কয়রা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় এ সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম মোহসিন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আলম।
এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী, বাঙ্গালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ গাজী, আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল সহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

নিরাপদ খাদ্যের মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ মোকলেছুর রহমান।

কয়রায় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত।

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।