২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।শনিবার

শাজাহানপুরে শীতকালীন শাক সবজি চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

নাজিরুল ইসলাম, শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:

বাজারে আগাম শীতকালীন শাক সবজি তুলতে পারলেই বেশি লাভ। সে লক্ষ্যেই বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার কৃষকেরা সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

 

করোনার প্রভাবে আর বৃষ্টিতে শীতকালীন আগাম সবজি জমি প্রস্তুত করতে এবছর কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে কৃষকদের।

 

উপজেলার বামুনিয়া, শাহনগর, কামারপাড়া, আমরুল অঞ্চল শাকসবজি চাষের প্রধান এলাকা হিসেবে পরিচিত। এছাড়াও বেগুন চাষের জন্য দাঁড়িগাছা, মরিচ চাষে গোহাইল ও জামাদার এলাকার সুখ্যাতি রয়েছে। বাজারে আগাম টমেটো আনতে দুরুলিয়া থেকে খোট্রাপাড়া এলাকার কৃষকরা মাচা তৈরি করে টমেটো চাষ করছেন।

 

উপজেলার প্রায় সব জায়গায় কমবেশি শীতকালীল সবজি মুলা, বেগুন, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, শীম, লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাক ও পেঁয়াজের চাষ হয়।

উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর উপজেলায় ১২৬০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরেজমিনে উপজেলার আড়িয়া ও চোপিনগর ইউনিয়নের কয়েকটি মাঠ ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা শীতের আগাম সবজির চারা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ কেউ সবজির চারা জমিতে রোপণ করছেন। আবার কেউ কেউ জমিতে আগাছামুক্ত করতে নিঁড়ানি দিচ্ছেন।

 

চোপিনগর এলাকার চাষি এনামুল হকের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, তার ৬০ শতক জমিতে মূলার সঙ্গে লাল শাক চাষ করেছেন। পুরুষ শ্রমিকের মজুরি বেশি, তাই নারী কৃষক দিয়ে জমিতে আগাছামুক্ত করছেন তিনি।

 

বামুনিয়া চাঁদ বাড়িয়া গ্রামের চাষি সাইফুল ইসলাম জানান, ‘এ বছর প্রথমবার ২০ শতক জমিতে আগাম ফুলকপির চাষ করেছি। ইউনাইটেড সীড বীজ কোম্পানি মুক্তা জাতে চারা সংগ্রহ করে রোপণ করি। ফলন খুব ভালো হয়েছে, চাহিদা বেশি থাকায় জমি থেকেই ১০০ টাকা কেজি দরে পাইকাইরা ফুলকপি নিয়ে যাচ্ছেন। সব খরচ বাদ দিয়ে ৫০ হাজার টাকার মত লাভ হবে বলে আশা করছি ।’

 

দাঁড়িগাছা এলাকার বেগুন চাষি মতিউর রহমান জানান, ‘এ বছর ৩ বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছি। বৃষ্টিতে গাছের বৃদ্ধি কম হলেও, এখন বেগুন গাছগুলো স্বাভাবিক আছে। আবহাওয়া এমন থাকলে আগামী মাসে ভালো ফলন পাওয়া যাবে।’

 

জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূরে আলম জানান, শীতকালীন সবজির দিকে উপজেলার কৃষকদের বিশেষ নজর থাকে। এ বছর ১ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি চাষাবাদ হচ্ছে। আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নানা রকম সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও বাম্পার ফলনের আশা করছি।’

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি