১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

শাজাহানপুরে একযোগে সকল ইউনিয়নে কোভিড-১৯ টিকাদানের শুর: পরিদর্শনে উপজেলা প্রশাসন।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

নাজিরুল ইসলাম, শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি:

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে ১০ টিকাকেন্দ্রে প্রথম ধাপে কোভিড-১৯ টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সকাল থেকে রোদ-বৃষ্টি অপেক্ষা করে টিকাকেন্দ্রগুলোতে আগ্রহ নারী ও পুরুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে।

 

আজ শনিবার সকাল ৯ টা থেকে উপজেলার ১০ টি কেন্দ্রে টিকা কার্যক্রম শুরু এবং শেষ হয় বিকাল ৩ টা।

 

প্রথম পর্যায়ে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে ৬০০টি টিকা টোকেনধারীকে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে।প্রতিটি ইউনিয়ন ১ কেন্দ্রে ৩ টি বুথর মাধ্যমে টিকা দেওয়া হয়েছে । টিকাকার্যক্রমে প্রত‍্যেক কেন্দ্রে ৬ জন টিকাদানকর্মী ও তাদের সহযোগিতা করার জন্য ৯ জন স্বেচ্ছাসেবক দ্বায়িত্ব পালন করছে।

 

সরেজমিনে টিকাকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, পুরুষের চেয়ে নারীর টিকা নিতে আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মত। দুপুরে প্রখর রৌদ্র উপেক্ষা করে টিকা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবগুলো কেন্দ্র টিকা প্রদান শেষে টিকা গ্রহণকারীদের বিশ্রামের ব্যবস্থা করেন। এসময় টোকেন ছাড়া টিকা নিতে আগ্রহী অনেক তরুণ তরুণী ও বয়স্ক নারী পুরুষ টিকা না পেয়ে ফিতর যেতে দেখা গেছেন।

 

আমরুল ইউনিয়ন নগর মাদ্রাসাকেন্দ্রে টিকা নিতে আসা নগর হাট গ্রামের রেহেনা বেগম বলেন, সকাল সাড়ে ৯ টায় টিকা নিতে মাঠের মধ্যে রোদে দাঁড়িয়ে ছিলাম। অবশেষে টিকা নিয়েছি। তবে আমার শরীরে কোন সমস‍্যা দেখা দেয়নি। আমি সম্পূর্ণ সুস্থ্য আছি।

 

গোহাইল ইউনিয়নের আফজাল হোসেন বলেন, স্থানীয় ইউপি সদস্যর কাছ থেকে টিকা টোকেন আর ভোটার কার্ডের ফটোকপি নিয়ে টিকা নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি আর কতক্ষণ পরে টিকা নিতে পারবো বুঝতে পারছি না।

 

কথা হয় মাদলা ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলীর সঙ্গে তিনি জানান, একটু আগে টিকা নিয়েছি। আমার কোন অসুবিধা হয়নি।

 

৩২৬ জনকে রোববার টিকা নেওয়ার জন্য এসএমএস পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু শুধু রেজিস্ট্রেশন কার্ড নিয়ে টিকা নিতে এসেছে মানুষ। ৩২৬ জনকে রোববার টিকা নেওয়ার জন্য এসএমএস পাঠানো হয়েছিল।

 

উপজেলা গোহাইল ইউনিয়নে টিকা কার্যক্রম উদ্বোধন শেষে সকল ইউনিয়নের প্রত‍্যেক টিকাকেন্দ্র পরিদর্শন করেন জেলা আওয়ামীলীগের সদস‍্য ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক সোহরাব হোসেন ছান্নু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান ভিপি এম সুলতান আহম্মেদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হেফাজত আরা মিরা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দিলীপ কুমার চৌধুরী, খরনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভিপি সাজেদুর রহমান শাহীন, আড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান, মাদলা ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান, চোপিনগর ইউপি চেয়ারম্যান মোজাফফর রহমান, আমরুল ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান অটল, আশেকপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ফিরোজ আলম, গোহাইল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলী আতোয়ার তালুকদার ফজু, খোট্রাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল ফারুক, মাঝিড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি একেএম জিয়াউল হক জুয়েল, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান প্রমুখ।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মোতারব হোসেন বলেন, উপজেলা ইউনিয়ন ওর্য়াড পর্যায়ে প্রথম দিন ১০টি টিকাকেন্দ্রের জন্য ৬ হাজার ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন টিকাকেন্দ্রে টিকা নিতে টিকা কার্ড ও ভোটার কার্ড অবশ্যই সঙ্গে আনতে হবে।

 

উপজেলা কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কার্যক্রমের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আহমেদ বলেন, উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ৬০০ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।প্রথম পর্যায়ে যারা টোকেন পেয়েছেন তারাই ভ্যাকসিন পাচ্ছে।

এ সময় তিনি, বাকিদের ধৈর্য ধারন করার জন্য অনুরোধ করেন। পর্যায়ক্রমে সকলকে ভ্যাকসিন দেওয়া আশ্বস্ত করেন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি