২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৬ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।বৃহস্পতিবার

লালমনিরহাটে ৬০বছরের পুরাতন রাস্তায় দোকান নির্মাণ করে চলাচলে বাধা : দুর্ভোগে ৩শত পরিবারের।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি:

 

লালমনিরহাটে ৬০বছরের পুরাতন রাস্তায় দোকান নির্মাণ করে চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এতে দুর্ভোগে পরেছে প্রায় ৩শত পরিবার।

 

লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার সারপুকুর ইউনিয়নের পাঠানটারী এলাকায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

 

এ বিষয়ে দুর্ভোগ পোহানো পরিবারগুলো স্থানীয় সারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ, আদিতমারী উপজেলার সহকারী (ভূমি) কমিশনার, আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর দুর্ভোগের প্রতিকার ও সুষ্ঠ সমাধান চেয়ে অভিযোগ দিয়েছে স্থানীয়রা।

 

স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক সংযুক্ত সারপুকুর ইউনিয়নের পাঠানটারী এলাকায় একটি বেসরকারি রাস্তা দীর্ঘ ৬০বছর থেকে চলাচলের জন্য ব্যবহার করে আসছিলো এলাকাবাসী।

 

স্থানীয়রা বলেন, আমাদের এলাকায় প্রায় ৫শত লোকের বসবাস। এই রাস্তা দিয়েই স্কুল-কলেজ, হাট-বাজারে যাতায়াত এবং অধিকাংশরাই কৃষির সাথে সম্পৃক্ত হওয়ায় কৃষি পণ্য বিপনন ও সরবরাহ কাজে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু হঠাৎ গত ২ আগস্ট ২০২১ইং তারিখে ঐ এলাকার মৃত বক্তার আলীর ছেলে আব্দুস সামাদ (৬০) ও তার পরিবারের সদস্যরা মহাসড়ক সংলগ্ন রাস্তার মুখে একটি দোকান নির্মাণ করে চলাচল বন্ধ করে দেয়।

 

এ বিষয়ে এলাকাবাসীর সাথে জমি সংক্রান্ত মত পার্থক্য থাকায় গত ১১ আগস্ট ২০২১ইং সকলের সম্মতিসূচক ৪জন জমি পরিমাপকারী (আমিন) দিয়ে আব্দুস সামাদের জমি মাপা হয় এবং তার জমি বুঝে দেওয়া হয়। এছাড়া মানবিক কারনে এলাকাবাসী নির্মাণকৃত দোকান সরিয়ে নিতে ৮হাজার টাকা প্রদান করে।

 

অভিযোগে স্থানীয়রা উল্লেখ বলেন, ঐ সময় সকলের সামনে সামাদ ১০দিনের মধ্যে দোকান সরিয়ে নিয়ে রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার কথা বললেও বিভিন্ন তালবাহানায় এখনও সরিয়ে নেননি তিনি।

 

স্থানীয়দের দাবী দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত পূর্বক রাস্তাটি চলাচলের জন্য পূণরায় উন্মুক্ত করা হোক।

 

রাস্তা সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত আব্দুস সাত্তারের সাথে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

 

আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মোক্তারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, রাস্তা দিয়ে চলাচলে বাধা সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ঐ এলাকায় আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে অবনতি না হয় সেজন্য কাজ করছে পুলিশ।

 

আদিতমারী উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী অফিসার দিলশাত জাহান সাংবাদিকদের বলেন, রাস্তায় দোকান নির্মাণ করে চলাচলে বাধা সংক্রান্ত একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি