২২শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৭ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

লালমনিরহাটে ৩৪বছরের ইতিহাসে ডোবালো নৌকা!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ:

লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার মদাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদেরের টানা দীর্ঘ ৩৪বছরের পদ নৌকাই ডোবালো।

রোববার (২৮ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে পরাজিত হয়ে দীর্ঘ ৩৪বছরের চেয়ারম্যান পদটি হারিয়ে ফেলেন আব্দুল কাদের বিএসসি।

 

জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন আব্দুল কাদের। এরপর ১৯৮৮ সালে মদাতী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হারিকেন প্রতীকে প্রথম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। এরপর শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে দিয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেন আব্দুল কাদের। জনগণের যেকোনো সমস্যায় ঝাঁপিয়ে পড়তেন। জনগণের সুখে দুঃখে পাশে ছিলেন। জনগণও তার সেবায় সন্তুষ্ট হয়ে তার পাশেই থেকেছেন। নির্বাচন এলে প্রচার প্রচারণায় তার তেমন কোনো ব্যয় ছিল না। ছিল না কোনো সভা সমাবেশ মিছিল বা উঠান বৈঠক। তিনি নিজেই মাইকিং করে নিজের প্রতীকের প্রচারণা করতেন। নির্বাচিত জন

প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের খুব কাছে থেকে সেবা দিয়েছেন তিনি। জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে প্রতিটি নির্বাচনে তাকেই ভোট দিয়ে নিরঙ্কুশ বিজয় নিশ্চিত করত। জনসেবায় কর্তৃত্ব অর্জনের স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে রাস্ট্রীয়ভাবে দুইবার পুরস্কৃত করে থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইন সফরে পাঠায় সরকার। এভাবে ৬টি নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে টানা ৩৪বছর মদাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন আব্দুল কাদের। এর মধ্যে প্রথমবার হারিকেন ও পাঁচবার আনারস প্রতীকে নির্বাচন করেন।

পরাজয়ের গ্লানি ছিল না তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে। জীবনে প্রথমবার নৌকার মাঝি হয়ে এবারের নির্বাচনে ভরাডুবি হয় তার। অবসান ঘটে ৩৪বছরের ইতিহাস। রাজনৈতিক জীবনে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এরপর প্রাক্তন এমপি মৃত মজিবর রহমানের হাত ধরে জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেন। সর্বশেষ গত ২০১৩ সালে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে যোগদান করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির পদ পান আব্দুল কাদের। গত ইউপি নির্বাচন ২০১৬ তে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে তৎকালিন মদাতী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনিচুর রহমানকে পরাজিত করেন। আনিচুর রহমান ৬ মাস আগে মারা গেলে এবারের ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে পরাজিত হন আব্দুল কাদের। এ নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামী লীগের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন বিপ্লবের কাছে প্রায় ৩হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে যান নৌকার মাঝি আব্দুল কাদের।

 

তবে স্থানীয়দের অনেকের দাবি, বিগত নির্বাচনের চেয়ে এই নির্বাচনে তার প্রচার প্রচারণায় আধুনিকতা ও বিলাসিতার ছাপ পড়ে। খরচ বেশি হলেও ভোটাররা এতে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

 

কেউ কেউ বলছেন, মদাতী ইউনিয়নে নৌকা বিরোধী ভোট বেশি থাকায় ব্যক্তি পছন্দের হলেও প্রতীকের কারণে পরাজিত হয়েছেন দীর্ঘ ৩৪ বছরের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের।

 

আব্দুল কাদের বলেন, সমাজকল্যাণমন্ত্রী আমাকে ডেকে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন। ভেবেছিলাম সরকারি দলের প্রতীক উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে জনগণ আগের চেয়ে বেশি ভোট দেবেন। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টো। নৌকা প্রতীক দেওয়া হলেও আমার পাশে দাঁড়ায়নি স্থানীয় আওয়ামী লীগ। আর নৌকা প্রতীকের কারণে অধিকাংশ সাধারণ ভোটার আমাকে ভালবাসলেও নৌকায় ভোট দেননি। তাই পরাজয় ঘটেছে। মূলত এ পরাজয় আমার নয়, নৌকার।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

খুলনার কয়রায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলার আয়োজনে ও কয়রা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় এ সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম মোহসিন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আলম।
এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী, বাঙ্গালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ গাজী, আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল সহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

নিরাপদ খাদ্যের মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ মোকলেছুর রহমান।

কয়রায় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত।

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।