১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

লালমনিরহাটে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আলহাজ্ব নুরুজ্জামান আহমেদ এমপির ভাইকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কার।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ:

 

  • দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্ত্রীকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী করায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপির ছোট ভাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ লালমনিরহাট জেলা শাখার সহ-সভাপতি ও কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহাবুজ্জামান আহমেদকে বহিস্কার করা হয়েছে। একই সাথে আরও ৭জন দলীয় নেতাকে বহিস্কার করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ লালমনিরহাট জেলা শাখা।

 

বুধবার (২৪ নভেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ লালমনিরহাট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মতিয়ার রহমান। এর আগে মঙ্গলবার (২৩ নভেম্বর) রাতে লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

 

বহিস্কৃত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ লালমনিরহাট জেলা শাখার সহ-সভাপতি মাহাবুজ্জামান আহমেদ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপির ছোট ভাই ও কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারমযান। মাহাবুজ্জামানের স্ত্রী কালীগঞ্জ উপজেলা মহিলা লীগের সভাপতি সাজেদা বেগম ওই উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। কয়েক দিন আগে সাজেদা বেগমকেও বহিস্কার করা হয়েছে।

 

এছাড়াও ওই উপজেলার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ লালমনিরহাট জেলা শাখার সদস্য ও মদাতী ইউনিয়নের মোটর সাইকেলে প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লব, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ আলী প্রামাণিক, চলবলার ৫নং ওযার্ড সভাপতি খবির উদ্দিন, গোড়ল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন, কাকিনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল হক, কাকিনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরাজুল ইসলামকেও বহিস্কার করা হয়েছে।

 

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ লালমনিরহাট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মতিয়ার রহমান সাংবাদিকদের জানান, দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাহাবুজ্জামান আহমেদের স্ত্রী বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করছেন। এছাড়াও বাকিরা কেউ নিজে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। কেউ আবার বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় তাদের দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।

অররবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনা ঃ

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে আসাদুল ইসলাম (১৯) নামে কয়রার এক কলেজছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার ভোরে আসাদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে। আমাদী জায়গীমহল খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় আসাদুলের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কলেজছাত্র আসাদুল। কিন্তু প্রেমিকা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভিডিও কলে রেখে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

কলেজছাত্রের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, আসাদুল ইসলামের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানতাম। মেয়েটির সঙ্গে কয়েকবার দেখাও করেছেন তিনি। পরে ঐ মেয়েটিকে বিয়ের জন্য আসাদুল তার পরিবারকে জানান। তার পরিবার তাদের বিয়েতে রাজি হয়। কিন্তু পরে জানতে পারি মেয়েটি রাজি হয়নি। হয়তো সেই দুঃখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কয়রা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন জানান, কলেজছাত্রটি আলাদা ঘরে থাকতেন। সেখানেই তার মরদেহ পাওয়া গেছে। তার সোজাসুজি রাখা ভিডিও কল চালু অবস্থায় একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে অপর প্রান্তে থাকা কাউকে ভিডিও কলে রেখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কয়রার যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।