২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৬ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।বৃহস্পতিবার

লালমনিরহাটে অস্ত্র হাতে নিয়ে অর্ধলাখ টাকার বাঁশ কেটে নেয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

লালমনিরহাটে অস্ত্র হাতে নিয়ে অর্ধলাখ টাকার বাঁশ কেটে নেয়ার অভিযোগ

মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ: লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলায় হাবিবুর রহমান নামে এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে এক গরীব কৃষকের বেঁচে থাকার সম্বল অর্ধলাখ টাকার বাঁশ কেটে নেয়ার অভিযোগ।

মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে আদিতমারী থানা পুলিশ গিয়েও বাঁশগুলো উদ্ধার করতে পারেনি।

অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান আদিতমারী উপজেলার তালুক পলাশী গ্রামের মৃত সদ্দি গুড়াতির ছেলে। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক সুফিয়ান সুহরি একই গ্রামের মৃত সহির উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, পলাশী বাজার হতে মহিষাশ্বহর গামি সড়কের পাশে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ৪শতাংশ জমিতে বাঁশ বাগান করেন সুফিয়ান সুহরি। অন্য কোন জমি না থাকায় ওই বাঁশ বাগানের আয়ে দীর্ঘ ২০/২৫ বছর ধরে চলে তার সংসার। সোমবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে হঠাৎ দলবল ও দেশী অস্ত্র নিয়ে ওই বাঁশ বাগানের সমস্থ বাঁশ কেটে নিয়ে যায় প্রতিবেশী প্রভাবশালী হাবিবুর রহমান। এ সময় বাঁধা দিতে গেলে সুফিয়ান সুহরিকে অস্ত্র দিয়ে জখম করার চেষ্টা চালায়। জীবন বাঁচাতে ছটকে পড়েন এ কৃষক। এরপর ওই বাঁশ বাগানের সমস্থ বাঁশ কেটে নিয়ে যায় প্রভাবশালী হাবিবুর রহমান। এসব বাঁশের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫৫হাজার টাকা। এ ঘটনায় বাঁশ উদ্ধার ও ক্ষতিপুরন দাবি করে হাবিবুর রহমানসহ ৫জনের বিরুদ্ধে ওই দিন রাতে আদিতমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কৃষক সফিয়ান সুহরি। অভিযোগটি আমলে নিয়ে মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও বাঁশগুলো উদ্ধার করতে পারেনি।

কৃষক সুফিয়ান সুহরি সাংবাদিকদের বলেন, ২৫/৩০বছর ধরে এ বাঁশ বাগানের আয়ে সংসার চলছে। বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল এ বাঁশ বাগান। সেটাও অস্ত্রের মুখে জিম্মী করে সবগুলো কেটে নিলো হাবিবুর। থানায় অভিযোগ দিলেও তা উদ্ধার করতে পারেনি। বরংচ অভিযোগ তুলে না নিলে মেরে ফেলার হুমকী দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অভিযুক্ত প্রভাবশালী হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, বাঁশগুলোর ছায়ায় আমার ক্ষেতের ফসল হয় না। তাই কেটে নিয়েছি।

আদিতমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) গুলফাম সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি