১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

লালমনিরহাটের বীরমুক্তিযোদ্ধা কমরেড শামসুল হকের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

লালমনিরহাটের বীরমুক্তিযোদ্ধা কমরেড শামসুল হকের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ:

মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) প্রবীণ রাজনীতিবিদ, ভাষা সংগ্রামী, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি লালমনিরহাট জেলা কমিটির সাবেক সভাপতি, বীরমুক্তিযোদ্ধা কমরেড শামসুল হকের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

এ উপলক্ষে লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট পৌরসভার খোর্দ্দ সাপটানা (বিডিআর হাট)স্থ নিজ বাসভবনে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় তাঁর স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, নাতী, নাতনী, আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষীগণ উপস্থিত ছিলেন।

কমরেড শামসুল হক লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ী ইউনিয়নের খাতাপাড়া গ্রামে ১৯৩৪ সালের ৭ মে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম মহিউদ্দিন সরকার ও মাতার নাম মরহুমা সহিজন নেছা। তিন সন্তানের মধ্যে কমরেড শামসুল হক দ্বিতীয়। তিনি খাতাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লালমনিরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় হতে লেখাপড়া করেন। অতঃপর ইনেস্পেক্টর হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ লালমনিরহাট জেলা শাখার আজীবন সদস্য, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি লালমনিরহাট জেলা শাখার সাবেক সভাপতি, সুইড বাংলাদেশ লালমনিরহাট শাখার সভাপতি, বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়ের সভাপতি, বার্ণহার্ডট কিন্ডার গার্টেন স্কুলের সভাপতি, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)র অনুপ্রেরনায় গঠিত স্বজন সদস্য, লালমনিরহাট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সদস্যসহ লালমনিরহাটের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে আমৃত্য জড়িত ছিলেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে তাঁর সরব উপস্থিতি সবাইকে প্রাণবন্ত করতো। তাঁর কর্মময় জীবনের স্বীকৃতি স্বরূপ ভাষা আন্দোলন, রাজনীতি ও সমাজকর্মে বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ লালমনিরহাট জেলা শাখা প্রৌঢ় সম্মাননা স্মারক-২০১১, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট লালমনিরহাট ভাষা সৈনিক সম্মাননা-২০১৫সহ বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে লালমনিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ১০ম শ্রেনিতে পড়ার সময় তিনি ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িয়ে পড়েন। লালমনিরহাটে গঠিত ভাষা সংগ্রাম পরিষদের তিনি অন্যতম সদস্য ছিলেন। তিনি ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। ১৯৮১ সালে মহুকুমা ও ১৯৮৪ সালে জেলা গঠনে তাঁর ভূমিকা ছিল অন্যতম। অধুনালুপ্ত স্টেশন ক্লাবের তিনি ক্যাশিয়ার ছিলেন। এছাড়াও লালমনিরহাট সরকারি কলেজ, কবি শেখ ফজলল করিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় গঠনে তাঁর ভূমিকা প্রশংসনীয় ছিল।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি