১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

লালমনিরহাটের দেউতিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতির নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

লালমনিরহাটের দেউতিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতির নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ

মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ: লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের দেউতিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে
নৈশপ্রহরী ও আয়া পদে নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পঞ্চগ্রাম ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ও উক্ত বিদ্যালয়ের সভাপতি আজিজার রহমানের বিরুদ্ধে। শুধু ওই বিদ্যালয়ের সভাপতিই নন, প্রধান শিক্ষক হীরা লাল রায়ের বিরুদ্ধেও নিয়োগ দিতে চাকুরী প্রত্যাশীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাদের যোগসাজশে চাকুরী প্রত্যাশীরা দিশেহারা হয়ে লালমনিরহাট জেলা শিক্ষা অফিসসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন।

প্রাপ্ত অভিযোগ ও খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, লালমনিরহাট সদর উপজেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নে দেউতিরহাট উচ্চ বিদ্যালয় অবস্থিত। উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হীরা লাল রায় গত ১৪ জুলাই/২১ইং তারিখে জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় আয়া ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেন। অন্য কেউ যাতে এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি না পায় সেজন্য গোপনীয়তা রক্ষায় গত ১৪ জুলাই/২১ইং তারিখে জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকার সবকপি কিনে নেন। তারপরেও বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ২টি পদের বিপরীতে বেশকিছু নারী-পুরুষ আবেদন করেন। কিন্তু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পঞ্চগ্রাম ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ও উক্ত বিদ্যালয়ের সভাপতি আজিজার রহমান নিরাপত্তাকর্মী পদে তার ছেলে শাজাহান এবং ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হীরা লাল রায় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময় আয়া পদে সুমি বেগমকে মনোনীত করেন।

করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মোকাবেলায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার দফায় দফায় লকডাউন কার্যকর করেন। চলতি বছরের সর্বশেষ লকডাউন ১০ আগস্ট পর্যন্ত ছিল। এ লকডাউনে সমস্ত অফিস আদালত বন্ধ ছিল। আর যদি শিক্ষা খাতের কথা বলি, তা তো খোলার কোন নাম গন্ধই নেই। তারমধ্যেও তারাহুরা করে দেয়া হয়েছে গত ১৪ জুলাই নিরাপত্তাকর্মী ও আয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেউতিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের। কারণ নিরাপত্তাকর্মী পদে ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি আজিজার রহমান তার ছেলে শাজাহানকে এবং প্রধান শিক্ষক হীরা লাল রায় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময় আয়া পদে সুমি বেগমকে নিয়োগ দিবেন। কিন্তু ২৪ আগস্ট সভাপতি আজিজার রহমানের ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ ছিল। শিক্ষা অধিদপ্তরের নীতিমালা অনুয়ায়ী ম্যানেজিং কমিটির মেয়াদ ১ মাসের কম হলে বিদ্যালয়ের সভাপতিকে আর ডিজির প্রতিনিধি মনোনয়ন করা যাবে না। ফলে তড়িগড়ি করে ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি আজিজার রহমান তার ছেলে শাজাহানকে এবং প্রধান শিক্ষক হীরা লাল রায় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময় আয়া পদে সুমি বেগমকে নিয়োগ করেন।

নিরাপত্তাকর্মী পদে শাজাহান ও আয়া পদে সুমি জে.এস.সি ও জে.ডি.সি পাশ করেননি। প্রধান শিক্ষক হীরা লাল রায় টাকার বিনিময় সুকৌশলে সার্টিফিকেট তৈরি করেছেন। যা ওই সার্টিফিকেট সূত্র ধরে নিচের ক্লাসগুলো তদন্ত করলে প্রমাণ মিলবে যে, সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক কি পরিমাণ অনিয়ম করেছেন।

অপর চাকরিপ্রত্যাশী হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, আমিও নিরাপত্তাকর্মী পদে আবেদন করেছি। কিন্তু কোন কাগজপত্র পাইনি। এখন শুনছি, নিরাপত্তাকর্মী পদে সভাপতির ছেলে ও আয়া পদে প্রধান শিক্ষক মনোনীত প্রার্থীকে টাকার বিনিময় নিয়োগ দিয়েছেন। আমরা এর প্রতিকার চাই।

দেউতিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হীরা লাল রায়ের বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নী।

অভিযোগের বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আজিজার রহমান সাংবাদিকদের বলেন, নিয়ম অনুয়ায়ী ২জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তাছাড়া তিনি আর কিছু বলতে রাজি হয়নি।

লালমনিরহাট জেলা শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ পেয়েছি, তদন্তের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
মোঃ মাসুদ রানা রাশেদ, লালমনিরহাট প্রতিনিধি। ০১৭৩৫৪৩৮৯৯৯

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি