১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।মঙ্গলবার

লাকসাম স্কুল পড়ুয়া ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

রবিউল হোসাইন সবুজ,কুমিল্লা প্রতিনিধিঃ

 

সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে বিকালে নিজ ঘরে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে লাকসামে এসএসসি পরীক্ষার্থী নুসরাত আক্তার (১৭) নামের এক স্কুল ছাত্রী। নুসরাত পৌর শহরে আল আমিন ইন্সটিটিউট স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।

 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার সিংজোড় বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করে এই ছাত্রী।

স্কুলছাত্রী নুসরাত ওই এলাকার প্রবাসী বাবু মিয়ার বড় মেয়ে। মৃত্যুর ঘটনার প্রেমের সম্পর্ক ও ছাত্রীর বাবা-মায়ের বাধা-হুমকিতে নুসরাত গলায় ওড়না দিয়ে আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়া।

 

এসএসসি পরীক্ষার্থী নুসরাতের মৃত্যু খবর শুনে সাধারণ মানুষ ও ছাত্র-ছাত্রীরা ওই বাড়ীতে এসে ভিড় করেন। হত্যা না আত্মহত্যা এ নিয়ে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে রাত ১০ টায় লাকসাম থানার পুলিশ সিংজোড় বেড়িবাঁধ এলাকা থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

 

স্থানীয় ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড়া ইউনিয়ন সিংজোড় বেড়িবাঁধ এলাকার বাসিন্দা প্রবাসী ব্যবসায়ী বাবু মিয়ার বড় মেয়ে নুসরাত আক্তারের সঙ্গে পাশের বাড়ির এক ছেলের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। নুসরাতের বাবা-মা তাদের প্রেমের সম্পর্ক মানতে রাজি হননি।

 

পিতামাতার অবাধ্য হয়ে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে প্রায়ই লাকসাম বাজারে আসা-যাওয়া করত নুসরাত। এমনকি তাদের দেখা ও কথা না হলে মাঝেমধ্যে আত্মহত্যা চেষ্টাও করত নুসরাত।

 

এ নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে বাবা-মা’র সঙ্গে নুসরাতের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে সে এসএসসি পরীক্ষার অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে স্কুলে যায়। বিকালে বাড়িতে এসে নিজ ঘরের দরজা বন্ধ করে গলায় ফাঁস দেয়। পরে দরজা ভেঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় তার লাশ ঝুলতে দেখতে পায় স্বজনরা। এরপর পুলিশকে খবর দিলে লাশ উদ্ধার করে।

 

লাকসাম থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন ভুইয়া বৃহস্পতিবার রাতে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, স্কুল ছাত্রীর লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বিস্তারিত বলা যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি