১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।শনিবার

রাতের আধাঁরে বাড়ির রাস্তা জবর দখলের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সৈয়দা: রোকসানা পারভীন রুবিঃ
টঙ্গীর উত্তর আউচপাড়া খাঁ-পাড়া পাঞ্জুখান রোডে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের আধাঁরে জনৈক হাতেম খানের বাড়ির রাস্তা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জবর দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার রাতে খবির আহম্মেদ ওরফে পিস্তল কবিরসহ একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাউন্ডারী ওয়াল ভেঙ্গে রাস্তা দখলের চেষ্টা চালায়। পিস্তল কবিরের সন্ত্রাসী বাহিনীর আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রাণনাশের ভয়ভীতি ও হুমকি ধামকিতে ভূক্তভোগী হাতেম খান পরিবার পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনায় ভুগছেন। এঘটনার খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
ভূক্তভোগী হাতেম খান অভিযোগ করে বলেন, আউচপাড়াস্থিত মৌজার সি.এস-১১৪, এস.এ-১৫৫, আর.এস-২১৩ নং খতিয়ানভূক্ত সি.এস ও এস.এ-১১৭, আর.এস-২১৯নং দাগে এবং সি.এস ও এস.এ ১১৯ নং আর.এস-২২০ নং দাগে মোট ১২৩৫ শতাংশ জমিতে (যার জোত নং-২৬৫৭) বাড়িঘর তৈরি করে বহু বছর যাবত বসবাস করে আসছেন। এতে এলাকার খবির আহম্মেদ ওরফে পিস্তল কবিরের কুনজর পড়ে এবং সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে বাড়ির লোহার গেট ও ওয়াল ভেঙ্গে জবর দখলের চেষ্টা চালায়। পরে হাতেম খান গাজীপুর বিজ্ঞ অতিরিক্ত সহকারী জজ আদালতে গত ৬ নভেম্বর একটি দেওয়ানী মোকাদ্দমা নং-৫২/২০১৮ দায়ের করেন। এতে বিজ্ঞ আদালত গত ১২ নভেম্বর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন এবং উভয়পক্ষকে শান্তি-শৃংখলা বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। এখবর পেয়ে খবির আহম্মেদ ক্ষিপ্ত হয়ে গত বুধবার হাতেম খান বাজারে যাওয়ার পথে এশিয়া পাম্পের রাস্তায় রিভলবার, দা, চাপাতি, ছোরা, লোহার রড, বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ধরে এবং অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে। এসময় সন্ত্রাসীরা তাকে পিস্তল উচিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে মৃত আঃ গনির ছেলে খবির আহম্মেদ ওরফে পিস্তল কবির, মৃত-আব্দুল হাশেমের ছেলে আমির হোসেন, নূরুল ইসলাম, মৃত-আঃ কুদ্দুসের ছেলে ফরহাদ হোসেনসহ ৮-১০ জনের একদল সন্ত্রাসী আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশী অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বাড়ির রাস্তা জবর দখলের চেষ্টা চালায় । এসময় ওই সন্ত্রাসীরা বাড়ির বাউন্ডারী ওয়াল ভেঙ্গে লোহার গেট লাগিয়ে দেয়। ঘটনার টের পেয়ে হাতেম খান এগিয়ে গেলে সন্ত্রাসীরা তাকে অস্ত্র উচিয়ে গুলি করার হুমকি প্রদান করে এবং এবিষয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এঘটনায় গত ২২ নভেম্বর গাজীপুর বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১০৭/১১৪/১১৭(গ) ধারায় একটি পিটিশন মোকাদ্দমা নং-১১৭৯/২০১৮ দায়ের করেন।
তিনি আরও বলেন, পিস্তল কবির এলাকায় একজন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে টঙ্গী থানায় ১৮৭৮ সালে অস্ত্র আইনের (সংশোধনী)/২০০২ এর ১৯(এ) ধারায় মামলা নং-৬৫(১০)১৫ রয়েছে।
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে খবির আহম্মেদ তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বাড়ির সামনে থেকে হাতেম খানের বাড়ি পর্যন্ত ১০ফুট প্রশস্ত রাস্তা রয়েছে যা এলাকার জনসাধারণের চলাচলের জন্য নির্ধারিত। কিন্তু হাতেম খান রাস্তা বন্ধ করে লোহার গেট তৈরি করে রেখেছেন। এতে আমার বাড়ির ভাড়াটিয়া এবং ফ্ল্যাটের ক্রেতারা বাসা থেকে বের হতে পারছে না।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি