১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।মঙ্গলবার

রাজারহাটে তিস্তা নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

নয়ন দাস,কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ

 

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় তিস্তা নদীর প্রবল ভাঙনে বিলীন হচ্ছে প্রতিদিন বসতভিটাসহ আবাদি জমি ও নানা স্থাপনা।

বন্যার পানি নেমে গেছে ঠিকই কিন্তু ক্ষত শুকাতে না শুকাতেই দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন।

 

হুমকিতে রয়েছে উপজেলার ঘড়িয়াল ডাঙা ইউনিয়নের গতিয়াশাম কমিউনিটি ক্লিনিকটি। অন্যদিকে, হুমকির মুখে রয়েছে নামাভরাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনসহ আরো কয়েকশ ঘড়বাড়ি।

 

জানা গেছে, সম্প্রতি বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর গত এক মাসে তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে শত শত পরিবার। তীব্র ভাঙনে তিস্তা পারের বাসিন্দারা সর্বহারা হলেও জিও ব্যাগ ফেলা ছাড়া ভাঙন প্রতিরোধে টেকসই কোনো ব্যবস্থা নেয়নি স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

 

রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গতিয়াশাম কমিউনিটি ক্লিনিকটি স্থানীয়দের চিকিৎসার একমাত্র আশ্রয়স্থল। বর্তমানে এ চিকিৎসা কেন্দ্রটি তিস্তার ভাঙনে হুমকিতে রয়েছে।

 

নদীর কিনারে দাঁড়িয়ে প্রহর গুণছে কখন ভেঙে নদীগর্ভে চলে যায়। যেকোনো মুহূর্তে নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে ভবনটি। এতে করে ওই গ্রামের অন্তত ৭ থেকে ৮ হাজার মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসা বঞ্চিত হবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নদী পাড়ের বাসিন্দরা জানান, ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে প্রায় ২৩ লাখ টাকা ব্যয়ে আট শতক জমির ওপর কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনটি নির্মাণ করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর।

 

স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির অনুদানের জমিতে নির্মিত এই ক্লিনিকটি ওই এলাকার বাসিন্দাদের চিকিৎসা সেবার ভরসাস্থল হয়ে উঠেছে। কিন্তু তিস্তার চলমান ভাঙনে স্থানীয় বাসিন্দারা ভিটেমাটি ছাড়া হওয়ার পাশাপাশি তাদের চিকিৎসার আশ্রয়স্থলটিও হারিয়ে যাচ্ছে।

 

কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি মো. আলতাব হোসেন বলেন, গতিয়াশাম কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যামে এই এলাকার প্রায় আট হাজারেরও বেশি মানুষ চিকিৎসা সেবা পেয়ে থাকেন। সরকারি ওষুধসহ প্রাথমিক চিকিৎসার বিভিন্ন সরঞ্জামাদি রয়েছে এখানে। ভবনটি না থাকলে ভোগান্তিতে পড়বে সেবা গ্রহীতারা।

 

ক্লিনিকটির জমি দাতা হাদিউজ্জামান আনসারি জানান, আমরা স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতা ও স্বেচ্ছাশ্রমে ভাঙন রোধে চেষ্টা করছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে যদি পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তাহলে হয়তো ক্লিনিকটি রক্ষা করা যাবে না।

 

ঘড়িয়াল ডাঙা ইউপি চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ কর্মকার জানান, ক্লিনিকটি নদীতে বিলীন হলে ওই এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হবে। আমরা কর্তৃপক্ষকে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া অনুরোধ করেছি।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সদ্য যোগদানকৃত নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, আমি ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছি। পানি কমে যাওয়ায় তিস্তার ভাঙনের হার পূর্বের তুলনায় কম। তিনি এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।

 

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি