১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

রংপুরে হারাগাছে মা ও শিশু কল্যাল কেন্দ্রে রাতে সেবা বন্ধ: ঝোপঝাড়ে সন্তান প্রসব এক মা।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার শ্রমিক অধ্যুষিত হারাগাছে অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের গর্ভবর্তী নারীদের স্বাস্থ্য সেবা এবং নিরাপদ ও স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের একমাত্র আশ্রয়স্থল হারাগাছ মাতৃমঙ্গল বা মা ও শিশু কল্যাল কেন্দ্র। কিন্তু স্বাস্থ্য কেন্দ্রে বিকেল থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত প্রতিদিনি ১৮ ঘন্টা সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকে। ফলে রাতে কোন গর্ভবর্তী নারী নিরাপদ ও স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের জন্য এসে বিপাকে পড়ে কেন্দ্রের আশপাশ ঝোপঝাড়ে সন্তান প্রসব করছেন। গত মঙ্গলবার রাতে সাড়ে ১২ টার দিকে হারাগাছ ইউনিয়নের চরনাজিরদহ মফিজপাড়া গ্রামের শাহাদত হোসেনের গর্ভবর্তী স্ত্রী লিমা বেগম নিরাপদ ও স্বাভাবিক সন্তান প্রসব করতে এসে মা ও শিশু কল্যাল কেন্দ্রের ভবনের আশপাশ মাঠে ঘাসের উপর সন্তান প্রসব করেন। লিমা বেগমের স্বামী শাহাদত হোসেন বলেন, আল্লাহর রহমতে স্ত্রী ও সন্তান বেচে গেছে। আর কিছু সময় পাড় হলে স্ত্রী-সন্তান দুইজনেই মারা যেত। তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার সন্ধায় তার স্ত্রীর সন্তান প্রসবের ব্যাথা উঠে। বাড়ীতে স্থানীয় দাইরা চেষ্ঠা করা হয়। পরে নিরাপদ ও স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের জন্য রাত সাড়ে ১১ টার দিকে হারাগাছ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে স্ত্রীকে নিয়ে আসি। কিন্তু মাতৃমঙ্গল কেন্দ্রে কোন ডাক্তার ও নার্স কেউই নাই, কেন্দ্রের কেচি গেটে তালা ঝুলছে। প্রসবের ব্যাথায় স্ত্রী ছটফট করতে থাকে। পরে কেন্দ্রের ভবনের পাশে ঘাসের উপর শুয়ে পড়ে মেয়ে সন্তান প্রসব জন্ম দেয় তার স্ত্রী। পরে রাত একটার দিকে অটোবাইকে করে স্ত্রী ও মেয়ে সন্তারকে বাড়ীতে নিয়ে যান । স্থানীয়রা জানায়, হারাগাছের বেশির ভাগ মানুষ শ্রমিক। তাদের পক্ষে শহরের বেসরকারি হাসপাতালে গর্ভবর্তী নারীদের চিকিৎসাসেবা নেওয়া অসম্ভব। শ্রমিক পরিবারের গর্ভবর্তী নারীদের একমাত্র নিরাপদ ও স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের আশ্রয়স্থল হারাগাছ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র। কিন্তু মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে অনেক গর্ভবর্তী নারীরা সেবা পায় না। দীর্ঘদিন ধরে রাতেই বেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এখানে যারা দায়িত্বে রয়েছেন তারাও ঠিকভাবে সেবা প্রদান করেন না। মিনাবাজার এলাকার রানা মিয়া বলেন, হারাগাছ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা তিনি প্রায় দিনে আসেন না। মাঝে মাঝে আসেন, অল্প সময় থেকে আবার শহরে চলে যান। ফলে সেবা নিতে আসা অনেক গর্ভবতী নারী বিপদে পড়ে মা ও শিশু কল্যাল কেন্দ্রের আশপাশ ঝোপঝাড়ে সন্তান প্রসব করে ফেলছে। তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার রাতেও একজন গর্ভবতী নারী মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মাঠে ঘাসের উপর সন্তান প্রসব করেছেন। এপর্যন্ত চলতি এক সপ্তাহে রাতের বেলায় তিনজন নারী এভাবে সন্তান প্রসব করেছেন। আকবর আলী নামে আরেক জন বলেন, মা ও শিশুদের মৃত্যু হার কমাতে এবং নিরাপদ ও স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের জন্য নিকটস্থ্য স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য প্রতিদিনেই টেলিভিশন ও পত্রিকায় প্রচার করছে। কিন্তু স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এই অবস্থায়। অনেকেই সেবা নিতে এসে ফিরে যায়। হারাগাছ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে রাতে কোন লোক থাকে না । অথচ থাকার জন্য আলাদা ভবন রয়েছে।

হারাগাছ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা জান্নাতুল ফেরদৌউস জানান, এখানে তিনি ও দুইজন দাই নার্স সহ তিনজন দায়িত্বে আছেন। যদিও ২৪ ঘন্টা গর্ভবতী নারীদের সেবা দেওয়ার কথা। কিন্তু তিনজনের পক্ষে ২৪ ঘন্টা সেবা দেওয়া সম্ভব না। তিনি বলেন, সপ্তাহে শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার ছয়দিন সকাল নয়টা থেকে বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত তারা গর্ভবতী নারীদের সেবা দিচ্ছেন। আগে ল্যাম্ব এনজিওর স্বাস্থ্যকর্মীরা ছিল তখন রাতে সেবা চালু ছিল। এখন এনজিওর স্বাস্থ্যকর্মীরা না থাকায় বিকেল থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত ১৮ ঘন্টা সেবা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ জানেন। এছাড়া তিনি গতকাল বুধবার থেকে চারদিনের ছুটিতে আছেন। এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি প্রায় দুই মাস আগে এ উপজেলায় যোগদান করছেন। তিনি যোগদানের পরেই হারাগাছ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিবার কল্যান পরিদর্শিকার ব্যাপারে অভিযোগ জানতে পেরেছেন।বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। নিরাপদ ও স্বাভাবিক সন্তান প্রসব করতে এতে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের ঘাসের উপর সন্তান প্রসবের বিষয়টি দু:খজনক বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো: সাইদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঘটনাটি তিনি এইমাত্র জানতে পারলেন। নিরাপদ ও স্বাভাবিক সন্তান প্রসবের জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে মা ও শিশু কল্যাণগুলোতে অসহায় দরিদ্র মানুষের আশ্রয়স্থল। কিন্তু জনবল সমস্যা রয়েছে। ফলে সেবা কিছুটা বিগ্নিত হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।

অররবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনা ঃ

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে আসাদুল ইসলাম (১৯) নামে কয়রার এক কলেজছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার ভোরে আসাদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে। আমাদী জায়গীমহল খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় আসাদুলের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কলেজছাত্র আসাদুল। কিন্তু প্রেমিকা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভিডিও কলে রেখে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

কলেজছাত্রের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, আসাদুল ইসলামের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানতাম। মেয়েটির সঙ্গে কয়েকবার দেখাও করেছেন তিনি। পরে ঐ মেয়েটিকে বিয়ের জন্য আসাদুল তার পরিবারকে জানান। তার পরিবার তাদের বিয়েতে রাজি হয়। কিন্তু পরে জানতে পারি মেয়েটি রাজি হয়নি। হয়তো সেই দুঃখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কয়রা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন জানান, কলেজছাত্রটি আলাদা ঘরে থাকতেন। সেখানেই তার মরদেহ পাওয়া গেছে। তার সোজাসুজি রাখা ভিডিও কল চালু অবস্থায় একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে অপর প্রান্তে থাকা কাউকে ভিডিও কলে রেখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কয়রার যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।