২৩শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৮ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।মঙ্গলবার

রংপুরে ভাড়াকরা মামলাবাজের ঐন্দ্রজালিক জাদুর, মন্ত্রে যত ভূল।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

রংপুরের বিজ্ঞ আমলী আদালতে দায়ের করা সি আর ৭৮১/২০ মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানা নিয়ে রংপুর পুলিশের একটি ইউনিট নগরীর ঠিকাদার পাড়ায় অবস্থিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মায়ের দোয়া আয়রন স্টোর থেকে দুইজনকে হেফাজতে নেয়। বিনা মেঘে বজ্রপাতের ঘনঘটা তৈরী হয় তাৎক্ষণিক মুহূর্ত,কবে মামলা হলো কে মামলা করলো, কি মামলা, ঘটনাস্থলে জানতে পারেন গ্রেফতারকৃতরা। গত ১৫ নভেম্বর বিকেল ৫ টায় আইন সহায়তা কেন্দ্রের রংপুর বিভাগীয় সভাপতি মোঃ এজাজ আহম্মেদ ও তার বাবা প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী মোঃ হাসান আলী এমন পরিস্থিতির স্বীকার হয়েছেন।মামলার নথিতে অসঙ্গতি দেখে আদ্যপান্ত খোজার চেষ্ঠায় টানা কয়েক দিন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য রেকর্ড করি আমরা।যেহেতু তথ্য না দেওয়ার সংস্কৃতি ব্যাক্তি সহ সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের অনীহা ওপেন সিক্রেট। ঘটনার তারিখ ১৭/১১/২০২০, আদালতে ডায়েরী হয় ১৫/১২/২০২০, তদন্তকারী কর্মকর্তার ব্যাখ্যামূলক সূচীপত্রের বর্ণনা ৩/১২/২০২০ ঘটনার ১২ দিন আগে প্রস্তুত করা দেখে অন্তত ৫ জন আইনজীবী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মামলার ২য় স্বাক্ষী মোঃ জীবন শেখ বাজারে থাকায় রাত ৯.৪৫ ঘটিকায় বাড়িতে এসে জানতে পারে,ঘটনাটি সে নিজে দেখে নাই অথচ তার আক্রান্ত হওয়ার ছবি নথিতে সংযুক্ত করে আদালতকে প্রভাবিত করেছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বর্ননা অনুযায়ী,ট্রাক রাস্তা বন্ধ করে থাকতে দেখে স্থানীয় এনামুল এর সঙ্গে মারামারি হয়।যদিও ট্রাকের ছবি সংযুক্তিতে কোন তারিখ সময় দেখা যায় নি।এই সবকিছুর মন্ত্রদানকারী মোঃ নূর আলম,সেও একটি মামলার বাদী এমন কথা নির্দিধায় স্বীকার করেছেন তাদের মুহরী রতন মিয়া।বলা বাহুল্য তারা ইতোমধ্যে হয়রানিমূলক অন্তত ৩ টা মামলা সাজিয়ে ভূক্তভূগী পরিবারবারটিকে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে জর্জরিত ও অনেক কষ্টের মধ্যে ফেলেছেন বলে দাবী করেন ব্যাবসায়ী হাসান আলী। সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে এজাজ আহম্মেদ সাংবাদিকদের বলেন, ২০০৮ সালের আল্টাস্নোগ্রাফি রিপোর্ট সংযুক্ত করে ২০২০ সালে মামলা দায়েরের বিষয়টা আমাদের খুবই মর্মাহত করেছে। উল্লেখ্য,পূর্বের মামলার বাদী সুজনের বাবা ফরিদ শেখ ২য় মামলার বাদী আতিকা বেগম সুজনের স্ত্রী ২০০৮ সালের প্রেগন্সির আল্ট্রাসনোগ্রাফি রিপোর্ট দিয়ে ২০২০ সালে নারী নির্যাতন তুলে ধরে মারামারির মামলা করেন তিনি।পুনরায় ডঃ মিরাতুল জেসমিনকে রেফারেন্স হিসেবে উল্লেখ করে সন্তান প্রসবের ৪৪ দিন পর অ্যানেসথেসিয়ালজিস্ট অবঃ ডাঃ আওরঙ্গজেব সেলিম ন্যাশনাল কমিউনিটি হাসপাতাল থেকে মেডিকেল সার্টিফিকেট দেন যা মামলার নথিতে স্পস্ঠ। সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে ডাঃ আওরঙ্গজেব বলেন,আতিকার কোন জখম কিংবা কোন ইনফেকশন নিয়ে সিজার করা হয় নি স্বাভাবিক ভাবেই সন্তান প্রসব করা হয়েছে।আমি কোন প্রকার মেডিকেল সার্টিফিকেট দেই নি এবং সেটা আমি দিতেও পারি না।তারা কোথায় পেল কিভাবে পেল তাও আমার জানা নেই। ডাঃ মিরাতুল জেসমিনের কাছে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের বলেন,আমি সাধারণ প্রক্রিয়ায় সিজার করেছি কোন মারামারি সংক্রান্ত বিষয়ে ডিল করি নি।কেন আমার নাম সার্টিফিকেটে রেফারেন্স করবে বা কিসের জন্য রেফারেন্স করেছে সেই বিষয় আমি অবগত নই এবং কেউ আমাকে এই বিষয়ে অবগত করেন নি। একই ঘটনাকে দেখিয়ে পৃথক মামলা করা,আদালতে মিথ্যা তথ্য প্রদান করে মামলায় পরোয়ানার মাধ্যমে গ্রেফতার দেখানো নিরপরাধ ব্যক্তির সম্মানে আঘাত এবং তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে মনে করেন আইন সহায়তা কেন্দ্র আসক ফাউন্ডেশনের অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক খন্দকার সাইফুল ইসলাম সজল। ভুল করে অথবা আর্থিক লোভে,এমন ঘটনা যেহেতু হরহামেশাই হয়ে থাকে,তার মানে ধরা যেতে পারে এটি সমাজের একটি ব্যাধি৷যেই ব্যাধিতে আক্রান্ত আমাদেরই চারপাশের অসংখ্য মানুষ৷কারো গায়ে ইউনিফর্ম আছে,কারো নেই৷

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

খুলনার কয়রায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলার আয়োজনে ও কয়রা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় এ সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম মোহসিন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আলম।
এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী, বাঙ্গালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ গাজী, আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল সহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

নিরাপদ খাদ্যের মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ মোকলেছুর রহমান।

কয়রায় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত।

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।