২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।শনিবার

রংপুরে জাতীয় শোক দিবস পালিত।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী, স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণের মধ্য দিয়ে রংপুরে জাতীয় শোক দিবস পালিত হচ্ছে। দিবসের বিভিন্ন আয়োজন থেকে বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত বিদেশে পালিয়ে থাকা পলাতক খুনিদের অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে এনে ফাঁসির রায় কার্যকরের দাবি তোলা হয়।

রোববার (১৫ আগস্ট) সকাল আটটায় রংপুর নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধার আর ভালোবাসার স্রোত যেতে থাকে জিলা স্কুল মোড়ে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের দিকে। ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু; ফাঁসি ফঅঁসি চাই-পলাতক খুনিদের ফাঁসি চাই’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে বঙ্গবন্ধু চত্বর। সকাল দশটায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ছাফিয়া খানম, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল ওয়াহাব ভূঞা, বাংলাদেশ পুলিশের রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি দেবদাস ভট্টাচার্য, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল আলীম মাহমুদ, জেলা প্রশাসক আসিব আহসান, জেলা পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু, মহানগর সভাপতি সাফিয়ার রহমান সফি, সাধারণ সম্পাদক বাবু তুষার কান্তি মণ্ডল।

পরে গার্ড অব অনার প্রদান ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালের সামনে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন ও বিশেষ দোয়া মোনাজাত করা হয়। এসময় রংপুর বিভাগীয়, সিটি করপোরেশন, মেট্রোপলিটন ও জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর একে একে সরকারি, বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার প্রতিনিধিরা ছাড়াও মহানগর ও জেলা যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা লীগ, শ্রমিক লীগ, জয়বাংলা সাংস্কৃতিক জোট, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, রংপুর প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ম্যুরালে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার ফুলে ফুলে ভরে যায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল। এদিকে দিবসটি উপলক্ষে সকাল ৭টার দিকে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ করে উত্তোলন. কালোব্যাজ ধারণ ও বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগসহ অঙ্গ সহযোগি সংগঠন। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সাড়ে এগারোটায় ভার্চুয়াল আলোচনা সভা করা হয়। এতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্ম নিয়ে আলোচনা করে বিশিষ্টজন। এছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ কোরান খতম, আলোচনা সভা, হামদ-নাত ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

রংপুর মহানগরীসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের ৪৬তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ, কালোব্যাজ ধারণ, আলোচনা সভা, শিশু-কিশোরদের প্রবন্ধ লেখা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও কাঙালি ভোজসহ মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো। রংপুর জেলা মডেল মসজিদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুবিধাজনক সময়ে রয়েছে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি