১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩০শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।রবিবার

রংপুরে একটিএম বুথ থেকে টাকা চুরি; ব্যাংক কর্মকর্তা আটক।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

রংপুরে প্রাইম ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে এক ব্যাংক কর্মকর্তার মাথ্যমে লাখ লাখ টাকা চুরি হওয়ার ঘটনা ঘটেছে । চুরির রহস্য উদঘাটন করে শনিবার রাতে রংপুর নগরী থেকে আবু রায়হান নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করেছে রংপুর পিবিআই পুলিশ।

পিবিআই সূত্র জানায়, গত বছরের ৬ অক্টোবর প্রাইম ব্যাংক রংপুর শাখার এ্যাসিসটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট পীষুয কুমার রায় রংপুর মেট্রোপলিটন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে বলেন, নগরীর প্রেস ক্লাবের বিপরীতে মন্দিরের পার্শ্বে রংপুর ভবনের নিচতলায় অবস্থিত তাদের ব্যাংকের এটিএম বুথ হতে ৯ লাখ ৬৩ হাজার টাকা অজ্ঞাত হ্যাকার অথবা চোর, ই- ট্রাঞ্জেকশন, ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে চুরি করেছে । মামলাটি এক পর্যায়ে রংপুর পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে এসআই ওয়াহেদুজ্জামানকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। এরপরে ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে এটিএম বুথটির ভল্টের যন্ত্রপাতি পরীক্ষা নিরিক্ষা করে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা ভল্ট থেকে উদ্ধার করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দেয়া হয়।

রোববার দুপুরে পিবিআই এসপি জানান, এটিএম বুথে টাকা লোড দেয়ার সময় ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত ২ জন পাসওয়ার্ডধারী অফিসার উপস্থিত থাকেন। তারা হলেন প্রাইম ব্যাংকের রংপুর শাখার কাস্টমাস সার্ভস অফিসার মোঃ মোস্তাফিজ, অফিসার আবু রায়হান। তারাই ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত গোপন পাসওর্য়াডধারী অফিসার এবং তারাই র্দীঘদিন হতে ভল্টে টাকা লোড দিয়ে আসছেন। গত গত বছরের ১৭ জুন বিকেলে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এটিএম বুথের কাস্টমার এর জন্য সংরক্ষিত ডিজিটাল প্যাড অকেজো হলে তা ব্যাংক কতৃপক্ষের নজরে আসে। ব্যাংকের স্থানীয় শাখা কর্মকর্তারা ঢাকা প্রধান কার্যালযে যোগাযোগ করে প্রকৌশলীদের প্রযুক্তিগতগত সহায়তা চায়। গত বছরের ৪ অক্টোবর ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মকতারা এটিএম বুথটি মেরামত করার জন্য যুগপৎ দুটি পাসওয়ার্ড দিয়ে ভল্ট স্বাভাবিকভাবেই খুলে দেখেন যে, ভল্ট হতে ৩ টি ক্যাসেট চুরি হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে তদন্তের একপর্যায়ে জানা যায় যে, আবু রায়হান বগুড়ায় বদলী হওয়ার পরেও তিনি গত বছরের ২০ আগস্ট পর্যন্ত প্রাইম ব্যাংক শাখায় কর্মরত ছিলেন। ১৭ জুন এটিএম বুথ বিকল হওয়ার আগ পর্যন্ত ৩ বার ভল্টে লোড দেয়া হয়। প্রথম দিন টাকা লোড দেয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন পাসওয়ার্ড বহনকারী অফিসার মোঃ ফরহাদ ও আবু রায়হান। ২য় বার উপস্থিত ছিলেন আবু রায়হান ও ব্যাংকের ফ্যাসিলিটিজ স্টাফ মিলন মিয়া। তিনি এটিএম বুথে উপস্থিত হয়ে মোঃ মিলন মিয়া এর মোবাইল ফোন থেকে সিনিয়র অফিসার মোঃ ফরহাদ এর সাথে কথা বলে ফরহাদের নিকট রক্ষিত পাসওয়ার্ডটি নেন এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ভল্ট এর ডোর খুলে টাকা লোড দেন। সর্বশেষ ৩য় বার ভল্টে টাকা লোড করার পূর্বে অফিসার আবু রায়হান ব্যাংকের অভ্যন্তরে সিনিয়র অফিসার মোঃ ফরহাদ এর নিকট থেকে চিরকুটে পাসওয়ার্ড লিখে নিয়ে ৩০ লাখ টাকা টাকা বুথে নিয়ে যান এবং ভল্ট লোড দেন।

রংপুর পিবিআই পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন জানান, গোপন দুটি পাসওর্য়াডই উক্ত ব্যাংকের একমাত্র অফিসার আবু রায়হান জানতেন। নিজ বদলী আদেশের সুযোগ নিয়ে তিনি তার নিকটে থাকা ২ টি গোপন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে সুকৌশলে পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে এটিএম বুথের ভল্টে থাকা মোট ৯ লাখ ৬৩ হাজার টাকা চুরি করেন। এই ঘটনার সাথে জড়িত আরো কেউ থাকলে তাদের গ্রেফতার ও চুরি যাওয়া টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতকে আদালতের পাঠানো হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।

অররবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনা ঃ

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে আসাদুল ইসলাম (১৯) নামে কয়রার এক কলেজছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার ভোরে আসাদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে। আমাদী জায়গীমহল খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় আসাদুলের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কলেজছাত্র আসাদুল। কিন্তু প্রেমিকা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভিডিও কলে রেখে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

কলেজছাত্রের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, আসাদুল ইসলামের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানতাম। মেয়েটির সঙ্গে কয়েকবার দেখাও করেছেন তিনি। পরে ঐ মেয়েটিকে বিয়ের জন্য আসাদুল তার পরিবারকে জানান। তার পরিবার তাদের বিয়েতে রাজি হয়। কিন্তু পরে জানতে পারি মেয়েটি রাজি হয়নি। হয়তো সেই দুঃখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কয়রা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন জানান, কলেজছাত্রটি আলাদা ঘরে থাকতেন। সেখানেই তার মরদেহ পাওয়া গেছে। তার সোজাসুজি রাখা ভিডিও কল চালু অবস্থায় একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে অপর প্রান্তে থাকা কাউকে ভিডিও কলে রেখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কয়রার যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।

মহম্মদপুরের দীঘা ইউনিয়নের দীঘা গ্রামে স্বামী -স্ত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা – ভিভিও লিংক https://www.facebook.com/share/v/9BEDCU22mRgdpqjn/?mibextid=oFDknk

মহম্মদপুরের দীঘা ইউনিয়নের দীঘা গ্রামে স্বামী -স্ত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা – ভিভিও লিংক https://www.facebook.com/share/v/9BEDCU22mRgdpqjn/?mibextid=oFDknk

মহম্মদপুরের দীঘা ইউনিয়নের দীঘা গ্রামে স্বামী -স্ত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা – ভিভিও লিংক https://www.facebook.com/share/v/9BEDCU22mRgdpqjn/?mibextid=oFDknk

মহম্মদপুরের দীঘা ইউনিয়নের দীঘা গ্রামে স্বামী -স্ত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা – ভিভিও লিংক

মহম্মদপুরের দীঘা ইউনিয়নের দীঘা গ্রামে স্বামী -স্ত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা – ভিভিও লিংক