২২শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৭ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

রংপুরের হারাগাছ মেট্রোপলিটন থানা এলাকায় পুলিশি নির্যাতনে মৃত্যু; ময়নাতদন্তে আঘাতের চিহ্ন নেই।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

 

রিয়াজুল হক সাগর রংপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

রংপুরের হারাগাছ মেট্রোপলিটন থানা এলাকায় পুলিশের হাতে তাজুল ইসলাম (৫৫) নামে একজন আটকের পর নির্যাতনে মৃত্যুর অভিযোগ উঠে। শনিবার পুলিশের কাছে মৃত তাজুলের ময়না তদন্তের রিপোর্ট দিয়েছে রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগ। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে প্রাথমিকভাবে তাজুলের দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে হৃদপিণ্ড ও ভিসেরা পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে আরও কিছু সময় লাগবে। বিষয়টি জানিয়েছেন রমেকের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. রাজিবুল ইসলাম ও মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ পুলিশ কমিশনার (ডিবি এন্ড মিডিয়া) সাজ্জাদ হোসেন।

ডাক্তার রাজিবুল জানান, ময়নাতদন্তে তাজুলের দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে কিনা এটা জানার জন্য নিহতের হৃদপিণ্ড রমেক হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে পাঠানো হবে। সেখান থেকে রিপোর্ট এলে হৃদরোগে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। এছাড়া তাজুলের ভিসেরা রাজশাহী’র ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে। সেখান থেকে রিপোর্ট পেতে কিছুটা সময় লাগবে। ভিসেরার রিপোর্ট এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ আরও পরিস্কার হবে।

পুলিশের উপ-কমিশনার সাজ্জাদ হোসেন ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রিপোর্টে তাজুলের দেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

তাজুলের মৃত্যুর বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে এক আইনজীবী বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনেন। হাইকোর্ট ময়নাতদন্তের রিপোর্টসহ অন্যান্য কাগজপত্র জমা দেয়ার নির্দেশ দেন পুলিশকে। এর পরপরই তাজুলের মৃত্যুর ঘটনায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মেহেদুল করিমকে প্রধান করে চার সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ৭ কর্মদিবসে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। হারাগাছের ঘটনার বিষয়ে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও ইউডি মামলার নথি হাইকোর্ট চাওয়ায় এগুলো হাইকোর্টে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

গত পহেলা নভেম্বর সোমবার সন্ধ্যায় হারাগাছ মেট্রোপলিটন থানা এলাকার দরদী স্কুলের সামনে থেকে তাজুল ইসলামকে মাদকসহ আটক করে পুলিশ। এর কিছুক্ষণ পরেই তাজুল মারা যান। তাজুলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদে থানা ঘেরাও করে এলাকাবাসী। এসময় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী থানায় ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও বেশ কয়েকটি গাড়ি এবং থানার দরজা জানালা ভাঙচুর করে। পরে রংপুর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় নিহত তাজুলের ছোট ভাই মর্তুজার রহমান আবু একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া নিহত তাজুলের কাছ থেকে মাদক উদ্ধার ও থানা ঘেরাও করে হামলা, গাড়ি ভাঙচুর, সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

খুলনার কয়রায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলার আয়োজনে ও কয়রা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় এ সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম মোহসিন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আলম।
এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী, বাঙ্গালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ গাজী, আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল সহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

নিরাপদ খাদ্যের মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ মোকলেছুর রহমান।

কয়রায় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত।

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।