২৩শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৮ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।মঙ্গলবার

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় জায়গীর বাতাসনে একটি যাত্রীবাহি বাসে পেট্রল বোমা মেরে শিশুসহ সাতজনকে পুড়িয়ে হত্যার মামলার আসামি গ্রেফতার।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রিয়াজুলল হক সাগর, রংপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় জায়গীর বাতাসনে একটি যাত্রীবাহি বাসে পেট্রল বোমা মেরে শিশুসহ সাতজনকে পুড়িয়ে হত্যার মামলার অন্যতম আসামি ফারুখ হোসেনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। ঘটনার পর থেকে দীর্ঘ আট বছর আত্মগোপনে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর ওই নেতা।

মঙ্গলবার (০৯ নভেম্বর) বিকেলে মিঠাপুকুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে সোমবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফারুখ হোসেনকে একই উপজেলার পায়রাবন্দ এলাকার একটি বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি মিঠাপুকুর উপজেলার জয়রামপুর আনোয়ার গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে। যাত্রীবাহি বাসে পেট্রল বোমা মেরে শিশুসহ সাতজনকে পুড়িয়ে হত্যার ওই ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।মঙ্গলবার দুপুরে আসামি ফারুখ হোসেনকে রংপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের (মিঠাপুকুর) আমলি আদালতে হাজির করা হয়। পরে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিল না এবং তার জন্য কেউ জামিন আবেদনও করিনি।

ওসি আমিরুল ইসলাম জানান, মিঠাপুকুরের বাতাসন এলাকায় ২০১৪ সালে চলন্ত বাসে আগুন ধরিয়ে দিয়ে শিশুসহ সাত নিরপরাধ মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি জামায়াত নেতা ফারুখ হোসেন। তিনি ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিলের পর গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। একই সঙ্গে আসামির মালামাল ক্রোকের আদেশ দেন আদালত।

দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকায় তাকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নাশকতাসহ ধংসাত্মক কর্মকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগসহ ৮টি মামলা রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

খুলনার কয়রায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলার আয়োজনে ও কয়রা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় এ সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম মোহসিন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আলম।
এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী, বাঙ্গালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ গাজী, আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল সহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

নিরাপদ খাদ্যের মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ মোকলেছুর রহমান।

কয়রায় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত।

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।