২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।মঙ্গলবার

রংপুরের পীরগাছায় পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় তিন সন্তানের জননী এক গৃহবধুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

রিয়াজুল হক সাগর, রংপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

রংপুরের পীরগাছায় পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় তিন সন্তানের জননী এক গৃহবধুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা পারুল ইউনিয়নের গুঞ্জর খাঁ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের স্বামীর পরিবার বিষয়টি আত্মহত্যা বলে জানালেও তার আপন ভাই বলছে, তার বোনকে কৌশলে হত্যা করা হয়েছে। এটি হত্যা না আত্মহত্যা এ নিয়ে দেখা দিয়েছে রহস্য। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পারুল ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ খাঁন ও কল্যাণী ইউপি চেয়ারম্যান নুর আলম।

গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও ভোর রাতে তিনি মারা যান। নিহত গৃহবধু হাজেরা বেগম (৩৬) ওই গ্রামের কীটনাশক ব্যবসায়ী সাহেব আলীর স্ত্রী ও পাশর্^বর্তী কল্যাণী ইউনিয়নের তালুক উপাসু গ্রামের মৃত হাকিম উদ্দিনের মেয়ে। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় পুলিশ তার মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মর্গে পাঠায়।

নিহতের ভাই ফজর আলী জানান, নিহত হাজেরা বেগমের স্বামী কীটনাশক ব্যবসায়ী সাহেব আলী দীর্ঘদিন থেকে পরকীয়ায় আসাক্ত। তাদের সংসারে তিনটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের মাঝে দীর্ঘদিন থেকে ঝগড়া বিবাদ চলে আসছিলো। গত বুধবার রাতেও এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাজেরা বেগমকে মারপিট করে সাহেব আলী। বৃহস্পতিবার রাতে আবারো বিষয়টি নিয়ে ঝগড়া সৃষ্টি হলে হাজেরা বেগমকে বেদম মারপিট করে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন। এতে হাজেরা বেগম অচেতন হয়ে পড়লে তার মুখে কীটনাশক ঢেলে দিয়ে রাত ২ টার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর রাতে হাজেরা বেগম মারা যান।

গতকাল শুক্রবার সকালে কল্যাণী ও পারুল ইউপি চেয়ারম্যানের মধ্যস্ততায় মিমাংসার জন্য বসা হলেও নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় তা সম্ভব হয়নি। পরে পীরগাছা থানা পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য রংপুর মর্গে পাঠায়। নিহতের স্বামী সাহেব আলী পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

হাজেরা বেগমের ভাই ফজর আলী বলেন, আমার বোনের মাথা, ঘাড়,গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে। তাকে কৌশলে হত্যা করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে স্বামীর পরিবার।

পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি