১৪ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩০শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।রবিবার

যে চার সমস্যার চক্করে সিলেট নগরবাসীর দুর্ভোগ চরমে।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

এম এ রশীদ সিলেট থেকেঃঃ

 

গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দিনভর লেগে থাকে যানজট। প্রায় রাস্তা ভাঙাচোরা হওয়ায় ঝাঁকুনি সহ্য করেই যানবাহনে চলতে হয়। ঘরের ভেতরেও মশার কামড়ে শান্তিতে বসে থাকার জো নেই। পানিরও তীব্র সংকট বিভিন্ন এলাকায়। এই চার সমস্যার চক্করে পড়ে সিলেট নগরবাসীর দুর্ভোগ এখন চরমে। এমন অভিযোগ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের।

 

গত এক সপ্তাহ নগরের ২৭টি ওয়ার্ডের অন্তত অর্ধশতাধিক এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, সুরমামার্কেট, লামাবাজার, চৌহাট্টা, আম্বরখানা, শিবগঞ্জ, সোবহানীঘাট ও কদমতলী এলাকায় যানজট সবচেয়ে বেশি। এসব স্থানে সকাল ১০টার পর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত থেমে থেমে যানজট লেগেই থাকে। প্রায় প্রতিটি এলাকায়ই রয়েছে মশার উপদ্রব।

 

নগরের শামীমাবাদ এলাকার বাসিন্দা চল্লিশোর্ধ্ব নাজমুল হোসেন গত শনিবার দুপুরে তাঁর বাসা থেকে রিকশাযোগে শিবগঞ্জ এলাকায় যাচ্ছিলেন। বেলা দেড়টার দিকে তাঁর সঙ্গে চৌহাট্টা এলাকায় কথা হয়। নাজমুল বলেন, ‘বাসা থেকে বেরোনোর পর প্রথম দফা কাজলশাহ এলাকায়, দ্বিতীয় দফা রিকাবিবাজার এলাকায় এবং তৃতীয় দফা চৌহাট্টা এলাকায় যানজটের কবলে পড়লাম। যে রাস্তা ১৫ মিনিটে পেরোনোর কথা, এখন পৌনে এক ঘণ্টায় একই দূরত্ব পেরিয়েছি। সামনে আরও কয়েক দফা হয়তো যানজটের কবলে পড়তে হবে।’

 

সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে নগরের চৌহাট্টা এলাকায় সড়কের বাঁ দিক সিগন্যালের আওতামুক্ত রাখার উদ্যোগ নিয়েছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘লেফট সাইট ক্লিয়ার’ বা ‘বাঁ দিক মুক্ত’। এতে সিগন্যালে কোনো যানবাহনকে বেশি সময় আটকে থাকতে হচ্ছে না। ফলে ওই এলাকায় যানজট কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে এসেছে। শিগগিরই একই পদ্ধতি নগরের নাইওরপুল ও রিকাবিবাজারেও প্রয়োগ করা হবে।

 

শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় ভাঙাচোরা সড়কে সারাক্ষণ ধুলা ওড়ে। এতে সড়কে চলাচলকারী মানুষ থেকে শুরু করে আশপাশের ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

 

ফয়সাল মাহমুদ আরও বলেন, নগরের বন্দরবাজার এলাকার কোর্ট পয়েন্ট থেকে সুরমা মার্কেট পর্যন্ত ‘মিডল্যান্ড ডিভাইডার’ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এতে ইচ্ছা করলেই কোনো চালক এখন রাস্তার মধ্যে গাড়ি ঘুরিয়ে অন্য পথে যেতে পারছেন না। এ পদ্ধতি চালুর কারণে ওই চালককে ওই সড়কের মোড় ঘুরেই তবে অন্য পথে যেতে হচ্ছে। এতেও যানজট কমছে। এ পদ্ধতিও আরও কিছু এলাকায় শুরু করা হবে।

 

নগরের বাসিন্দাদের মতে, যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। নগরের বাসিন্দা ও যানবাহনের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। সে তুলনায় রাস্তাঘাটের সম্প্রসারণ কম ঘটছে। আবার নগরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় অবাধে নিষিদ্ধঘোষিত ব্যাটারিচালিত ‘ইজিবাইক’ অবাধে চলছে। ফলে যানজটও বাড়ছে।

 

করেরপাড়া এলাকার বাসিন্দা গৃহিণী সুমা তালুকদার বলেন, দিনরাতে সমানতালে মশা কামড়ায়। অথচ মশকনিধনের ওষুধ ছিটাতে সিটি কর্তৃপক্ষকে দেখা যায় না।

 

সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলছেন, নিয়মিতভাবে নগরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মশকনিধনের ওষুধ ছিটানো হয়। তবে শীতের মৌসুম শুরু হয়ে যাওয়ায় মশার উপদ্রবও বাড়বে। এটি বিবেচনায় নিয়ে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে নগরের সব কটি এলাকায় মশার ওষুধ ছিটানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

 

নগরবাসীর অভিযোগ, ভাঙাচোরা রাস্তার মধ্যে সবচেয়ে বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছে আম্বরখানা, শাহী ঈদগাহ, মিরাবাজার, শিবগঞ্জ, টিলাগড়, পাঠানটুলা ও পুরাতন রেলস্টেশন এলাকা। শুষ্ক মৌসুম হওয়ায় ভাঙাচোরা সড়কে সারাক্ষণ ধুলা ওড়ে। এতে সড়কে চলাচলকারী মানুষ থেকে শুরু করে আশপাশের ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

 

 

শুকনা মৌসুমে ভাঙাচোরা সড়ক ধুলায় ধূসর। এর মধ্যে ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ। গত সোমবার সকালে সিলেট নগরের আম্বরখানা-টিলাগড় সড়কের ইলেকট্রিক সাপ্লাই এলাকার দৃশ্য।

 

এ ছাড়া বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে নগরের কাষ্টঘর, ঘাসিটুলা, মজুমদারপাড়া, লামাপাড়া, সোনারপাড়া, সেনপাড়া, শাপলাবাগ, হাতিমবাগ, বাগবাড়িসহ অন্তত অর্ধশতাধিক এলাকায়।

 

সিটি করপোরেশনের পানি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর জানান, কিছু এলাকায় পানিসংকট থাকলেও কোথাও তীব্র নয়। অন্তত সাড়ে তিন হাজার অবৈধ সংযোগকারীর কারণে সংকট তৈরি হচ্ছে। এসব সংযোগকারীর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। নগরে ১৭ হাজার গ্রাহকের বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে চার কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে নগরের ৮ থেকে ১০ লাখ বাসিন্দার দৈনিক পানির চাহিদা কমবেশি ৮ কোটি লিটার। এর বিপরীতে ১টি পানি পরিশোধনাগার ও ৪০টি নলকূপের সাহায্যে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করছে সিটি কর্তৃপক্ষ।

 

সিটি করপোরেশেনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, নগরের ভাঙাচোরা রাস্তাঘাট সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আম্বরখানা-শাহী ঈদগাহ সড়ক প্রশস্তকরণের অংশ হিসেবে বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ এবং নাইওরপুল-টিলাগড় সড়কের পানির সংযোগের কাজ শেষ করেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়ক পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এর বাইরে নগরের অন্যান্য ভাঙাচোরা সড়কের কাজও শুরু হবে। সড়ক পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।

অররবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনা ঃ

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে আসাদুল ইসলাম (১৯) নামে কয়রার এক কলেজছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার ভোরে আসাদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে। আমাদী জায়গীমহল খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় আসাদুলের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কলেজছাত্র আসাদুল। কিন্তু প্রেমিকা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভিডিও কলে রেখে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

কলেজছাত্রের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, আসাদুল ইসলামের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানতাম। মেয়েটির সঙ্গে কয়েকবার দেখাও করেছেন তিনি। পরে ঐ মেয়েটিকে বিয়ের জন্য আসাদুল তার পরিবারকে জানান। তার পরিবার তাদের বিয়েতে রাজি হয়। কিন্তু পরে জানতে পারি মেয়েটি রাজি হয়নি। হয়তো সেই দুঃখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কয়রা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন জানান, কলেজছাত্রটি আলাদা ঘরে থাকতেন। সেখানেই তার মরদেহ পাওয়া গেছে। তার সোজাসুজি রাখা ভিডিও কল চালু অবস্থায় একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে অপর প্রান্তে থাকা কাউকে ভিডিও কলে রেখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কয়রার যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।

মহম্মদপুরের দীঘা ইউনিয়নের দীঘা গ্রামে স্বামী -স্ত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা – ভিভিও লিংক https://www.facebook.com/share/v/9BEDCU22mRgdpqjn/?mibextid=oFDknk

মহম্মদপুরের দীঘা ইউনিয়নের দীঘা গ্রামে স্বামী -স্ত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা – ভিভিও লিংক https://www.facebook.com/share/v/9BEDCU22mRgdpqjn/?mibextid=oFDknk

মহম্মদপুরের দীঘা ইউনিয়নের দীঘা গ্রামে স্বামী -স্ত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা – ভিভিও লিংক https://www.facebook.com/share/v/9BEDCU22mRgdpqjn/?mibextid=oFDknk

মহম্মদপুরের দীঘা ইউনিয়নের দীঘা গ্রামে স্বামী -স্ত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা – ভিভিও লিংক

মহম্মদপুরের দীঘা ইউনিয়নের দীঘা গ্রামে স্বামী -স্ত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা – ভিভিও লিংক