১৪ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।শুক্রবার

মানিকগঞ্জে ইটভাটার ট্রাকে সড়কের বেহাল দশা।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মোশারফ হোসেন (মানিকগঞ্জ) জেলা প্রতিনিধিঃ

 

 

মানিকগঞ্জের সদর উপজেলার আটিগ্রাম ইউনিয়নের মালুটিয়া গ্রামের ১ কিলোমিটার রাস্তা যেন মরণফাঁদ। স্থানীয় ইটভাটার ট্রাক চলাচলের কারণে রাস্তার বেহাল অবস্থা হয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আশপাশের ১০ এলাকার কয়েক হাজার মানুষ।

 

জানা গেছে, এলজিইডি ২০১৬ সালের ২৩ জুন ঊনপঞ্চাশ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা ব্যয়ে মালুটিয়া হতে দেবিপুর পর্যন্ত এসবি ইট সলিং দ্ধারা রাস্তাটি বাস্তবায়ন করে। রাস্তাটি বাস্তবায়ন হওয়ার পর থেকেই স্থানীয় ইটভাটার মাটিবাহী ও অতিরিক্ত ইট ভর্তি ট্রাক চলাচল করে ধ্বংস করে দিচ্ছে। নির্মাণের চার বছর পার না হতেই রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চলাচলের একমাএ রাস্তা হওয়ার এতে চরম ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে আশপাশের ১০ এলাকার মানুষদের।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ইটভাটার ইট ভর্তি ট্রাক চলাচল করে রাস্তার দুপাশ নিচু করে ফেলেছে। রাস্তার ইট সলিং ভেঙে গিয়ে ছোট বড় খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। রাস্তার অনেক জায়গার ইট সরে গিয়ে রাস্তার মাঝখানে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে ছোট বড় যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। চলমান বন্যায় রাস্তার দুপাশে পানি এমন অবস্থায় অতিরিক্ত ইট ভর্তি ট্রাক চলাচল করে রাস্তাটির আরো বেহাল দশা করেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই চলাচলের অনুপোযোগী হয়ে পড়ছে।

 

স্থানীয়রা জানান, রাস্তাটি হওয়ার পর থেকে এলাকার চেয়ারম্যান নিজের স্বার্থে ইটভাটার মাটির ট্রাক দিয়ে মাটি ও ইট নিয়ে রাস্তাটি নষ্ট করে ফেলেছে। চলমান বন্যার সময়েও ৬ হাজার ইট ভর্তি ট্রাক যাতায়াত করছে। যে রাস্তায় ২ হাজার ইট নিয়ে ট্রাক চললে রাস্তার ক্ষতি হয় সেখানে ৬ হাজার ইট বোঝাই দিয়ে ট্রাক চালাচ্ছে নিজ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। যার ফলে রাস্তা দিয়ে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

 

ভ্যান চালক কামাল বলেন, ভ্যান চালিয়ে তার সংসার চলে। ভাঙা রাস্তার কারনে ভ্যান চালাতে তার কষ্ট হয়। একটু ভারী মাল বোঝাই দিলেই ভ্যান উল্টে যায়। পেটের তাগিদে জীবনের ঝুঁকি এই রাস্তা দিয়েই ভ্যান চালাতে হচ্ছে।

 

ভগবানপুর গ্রামের অনিল চন্দ্র দাস বলেন, আমাদের যাতায়াতের প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তার বেহাল অবস্থা হয়ে পড়েছে। আমরা চরম অবহেলিত এলাকায় বসবাস করি। রাস্তা দিয়ে ইটভাটার ট্রাক চলাচল করে রাস্তা ধ্বংশ করে ফেলেছে। যার ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে আট্রিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরে আলম সরকার বলেন, রাস্তাটি বাস্তবায়ন হওয়ার পর দুবার বন্যায় কিছু ক্ষতি হয়েছে। শুধু আমার ইট ভাটার ট্রাক চলে না । এলাকার কিছু ইটভাটার ট্রাক চলাচল করে রাস্তার ক্ষতি করেছে। আবার আমরাই রাস্তায় ইট ফেলে রাস্তা ঠিক করতেছি।

 

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি