২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।শনিবার

মহেশপুর ঘরের আড়াই কিশোর  কিশোরীর ঝুলন্ত লাশ।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ঝিনাইদহ থেকে শাকিল আহমেদ।

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার চাপাতলা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে শনিবার সকালে আবু সাইদ (১৭) ও সোহানা খাতুন (১৪) নামে দুই কিশোর কিশোরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশ দুইটি একই আড়ায় ঝুলে ছিল। মেয়েটি নিজের ওড়না আর ছেলেটি গামছা বাধা অবস্থায় ছিল। তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক জানাজানি হলে দুই পরিবার মেনে না নেওয়ায় এই কিশোর প্রেমিক প্রেমিকা এক সঙ্গে আত্মহত্যা করতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করছে পুলিশ। আবু সাইদ চাপাতলা গ্রামের আবু সুলতানের ছেলে। অন্যদিকে সোহানা খাতুন নেপা ইউনিয়নের কাঞ্চনপুর গ্রামের শাহাজামালের মেয়ে। সে কাঞ্চনপুর হাই স্কুলে অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রী। তারা সম্পর্কে বেয়াই বিয়াইন। স্বরুপপুর ইউনিয়নের চাপাতলা গ্রামের মেম্বর মোমিনুল ইসলাম জানান, আত্মহননকারী আবু সাইদ তার চাচাতো ভাই আল-আমিনের শ্যালিকা সোহানা খাতুনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক করে। কথাটি জানাজানি হলে উভয় পরিবার তাদের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি। হয়তো এই কারণেই তারা আত্মহত্যা করতে পারে। মেম্বর মোমিনুল ইসলাম আরো জানান লাশ দুইটি সোহানার দুলাভাই আল আমিনের আরেকটি ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলে ছিল। শনিবার সকালে দুইটি লাশ এক সঙ্গে ঝুলতে দেখে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। মহেশপুর থানার পুলিশ খবর পেয়ে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে লাশ উদ্ধার করে। দুই জনের শরীরে কালশিটে দাগ ও রক্ত ছিল প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন। সোহানার বোন শেলী খাতুন জানান, স্কুল বন্ধ থাকার কারণে গত দেড় মাস ধরে সোহানা তার বাড়িতেই ছিল। এই সুযোগে হয়তো তার চাচাতো দেবর সাইদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু তাই বলে তারা এ ভাবে মারা যাবে তা কল্পনা করতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে মহেশপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত করতে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মহেশপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি