১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

মতলবের কৃতি লেখক ড. এ এইচ খান রচিত ‘ফাদার অব দি নেশন’ এখন বিশ্ব দরবারে।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মোঃ রিফাত পাটোয়ারী চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধিঃ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে অনেকেই অনেক লেখা লিখেছেন। গল্প, প্রবন্ধ, উপন্যাস এবং কাব্যগ্রন্থ। পেয়েছেন নানা খ্যাতি। অনেকের লেখা দেশের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্থান পেয়েছে। এতে সমৃদ্ধ হয়েছে বাংলা সাহিত্য, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিতি পেয়েছে এক অন্যরকম বাংলাদেশের। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গবেষণা মূলক এমনি একটি গ্রন্থ ফাদার অব দি নেশন। যার লেখক চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার ২নং নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নের পাঁচ ঘড়িয়া খান বাড়ির মরহুম মকবুল খানের বড় ছেলে। তাঁর পিতাকে সবাই মকবুল ১, ২, ৩, ৪ লঞ্চের মালিক বলে চিনেন সবাই।

 

ড. খান গ্রিন ইউনিভার্সিটির একজন শিক্ষক এবং ডিরেক্টর। স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের দায়িত্বেও আছেন তিনি। বহু বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে নির্ভরযোগ্য বিভিন্ন উৎস থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাষণসমূহ এবং নিজ হাতে লেখা চিঠিপত্র সংগ্রহ করেন। সংগৃহিত এ তথ্য ভান্ডারকে আপামর জনতার হাতে পৌঁছে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর নির্বাচিত ভাষণ ১-৪ খন্ডে। তিনি বঙ্গবন্ধুর পূর্ণাঙ্গ জীবনী রচনা করেছেন উপন্যাসের মাধ্যমে। গ্রন্থটি ২০০৬ সালে প্রকাশিত হয়। বইটির প্রকাশনা উৎসবের দিন রাতেই অর্থাৎ ২৩ ফেব্রুয়ারী তৎকালীন সরকারের রোষাণলে পড়েন এবং মিথ্যা মামলায় আটক হন।

 

ইতোমধ্যে বইটি বাংলা ভাষা থেকে ইংরেজিতে অনুদিত হয়েছে। ইংরেজিতে অনুবাদ হওয়া ‘ফাদার অব দি নেশন’ এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় অনলাইন মার্কেট প্লেস এমাজান.কম-এ আপলোড হয়েছে। ফলে মতলবের কৃতি সন্তান ড. আফজাল হোসেন খান এর লেখা ‘ফাদার অব দি নেশন’ দেশের গন্ডি পেরিয়ে এখন আন্তর্জাতিক পাঠকের হাতে। দেশকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর চিন্তা চেতনা, ত্যাগ ও সংগ্রামের প্রামান্য পান্ডুলিপি দেখতে পাচ্ছে বিশ্ব পাঠক।

 

ছাত্রজীবন থেকেই ড. আফজাল হোসেন খান লেখালেখির সাথে সম্পৃক্ত। স্কুলের গন্ডি পেরোনোর সাথে সাথেই প্রকাশিত হয় তার প্রথম উপন্যাস ‘হৃদয়ে রক্তক্ষরণ’। তারপর একে একে প্রকাশিত হয়েছে উপন্যাস ‘ঘর পালানো মেয়ে’, ‘শ্রাবণীর শ্রাবণে’, কবিতার বই ‘এই মেয়ে’। জাতীয় কবিকে নিয়ে তার গবেষণা মূলক গ্রন্থ ‘নজরুল জীবন কথা’। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিয়ের নানান রীতিনীতি নিয়ে ‘বিয়ে’ তাঁর একটি তথ্যবহুল গ্রন্থ। তিনি হযরত সোলাইমান শাহ এবং শেখ হাবিবুর রহমান এর জীবনী নিয়ে লিখেছেন ‘দোহাই লেংটা’ ও শেখ হাবিবুর রহমান সাহিত্য রত্ন ও তাঁর অবদান নামক গ্রন্থ।

 

ড. খানের ইউসুফ জুলেখা, রাধাকৃষ্ণসহ একাধিক গ্রন্থ বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সকল রচনার সংকলন প্রকাশ করেন ‘স্মৃতি বড় মধুর স্মৃতি বড় বেদনার’ নামে। তিনি বাংলাদেশ কালচারাল ফোরামের সভাপতি এবং নানা সংগঠনের সদস্য হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করছেন। তিনি অভিনয় করেছেন চলচ্চিত্র, টেলিফিল্ম, নাটক ও মঞ্চে। লিখেছেন অসংখ্য গান। তাঁর রচিত ফাদার অব দ্য নেশন অবলম্বনে হয়েছে যাত্রা, নাটক। ব্যক্তি জীবনে তিনি এক সন্তানের জনক। তাঁর স্ত্রী বিসিএস কর্মকর্তা।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি