১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।মঙ্গলবার

ভান্ডারিয়ায় সাবান কিনতে গিয়ে মাদরাসা ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

এম এফ এইচ রাজু পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ

 

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া মাদ্রাসা ছাত্রীকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগে উঠেছে চার যুবকের বিরুদ্ধে। উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের চড়াইল গ্রামে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। বিগত পাঁচ বছর পূর্বে তার পিতামাতার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে ছাত্রীটি নানা বাড়ি থেকে স্থানীয় একটি মাদরাসায় পড়াশুনা করতো।

ছাত্রীর নানা তানজের আলী জানান, শুক্রবার রাত ৭ টার দিকে নাতনি বাড়ির পার্শ্ববর্তী আব্দুল হালিমের দোকানে সাবান কিনতে যায়। এরপর তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ঘন্টা দুয়েক খোজাঁখুজি শেষে প্রতিবেশীর বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। তিনি আরো বলেন, আমার নাতনী আত্মরক্ষার্থে প্রতিবেশী মিজানের ঘরে আশ্রয় নেয়।

 

শিশুটির বড় খালা বিলকিস জানান, সাবান কিনতে গেলে তাকে একই গ্রামের সবুজ মোল্লার ছেলে সাকিব জোরপূর্বক পাশর্বতী হাওলাদার বাড়ির সুপারি বাগানে নিয়ে যায়। এসময় সাকিবসহ দলবেধেঁ ধর্ষণ করে লিটন হাওলাদারের ছেলে সিরাজ, মোঃ আলোর ছেলে সাহেন শাহ এবং মোঃ মিজানের ছেলে সজিব।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক যুবক জানান, এ ঘটনা জানাজানি হলে ধামাচাপা দিতে স্থানীয় টেম্পু চালক জাহাঙ্গীর মাঝি ও রাছেল মাঝির নেতৃত্বে দুই হাজার টাকায় মিমাংসা করা হয়। শনিবার সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তিভোগী ছাত্রীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

 

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য এবিএম নাজমুল হাসান বাশার জানান, শনিবার সকালে ঘটনাটি জেনেছি। বাড়ি না থাকায় বিস্তারিত জানার সুযোগ হয়নি।

অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে বাড়িতে গিয়ে ঘরে তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে। প্রতিবেশীরা জানান ঘটনার পর তারা পালাতক রয়েছে।

 

 

 

ভান্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুমুর রহমান বিশ্বাস বলেন, শনিবার সকালে খবর পেয়ে ভান্ডারিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখ সহ অজ্ঞাত একজনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মামলা করেন। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি