১৪ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।শুক্রবার

বিলাইছড়িতে ডাক্তার ও নার্সের অশেষ প্রচেষ্টায় স্বভাবিকভাবে সন্তান জন্মদিল হাইরিক্স মাদার।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা।

বিলাইছড়ি(রাঙ্গামাটি)­প্রতিনিধি-বিলাইছড়ি উপজেলা একটি দূর্গম উপজেলা।সদর কিংবা শহরের সঙ্গে সরাসরি কোন যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই।হাসপাতালে মুমূর্ষ রোগীর জন্য নেই কোন এম্বুলেন্স ব্যবস্থাও।

যেতে হলে বোটে করে কাপ্তাই হয়ে সেখান থেকে আবার গাড়িতে করে যেতে হয়।ঠিক তেমনি সদরের বেলায়ও একই কথা।

তাই যাওয়ার পথে সময় যেমনি বেশি লাগে তেমনি ভাড়াও দিতে হয় বেশি।সেজন্য কান্ট্রি বোট দিয়ে রোগী নিয়ে আসা-যাওয়া খুবই রিক্স।

তাই সম্প্রতি উপজেলায় ১ টি আধুনিক ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল চালু হওয়াতে জনবল ও অন্যান্য বিশেষ সুবিধা কম থাকলেও,রয়েছে

বেশ অভিজ্ঞতা ডাক্তার,নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীদের।করোনা ও অন্যান্য সেবার পাশাপাশি গর্ভবতী মহিলাদেরও সেবা দিয়ে যাচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

তেমনিভাবে গতকাল সন্ধ্যা ৭ঃ১৫ মিনিটে সময় নার্সের অশেষ প্রচেষ্টায় অপারেশন ছাড়া স্বাভাবিকভাবে পুত্র সন্তান জন্মদিল একজন হাই রিক্স মাদার (high risk mother).

দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র স্বাব নার্স খালেদা ও মুক্তি বড়ুয়া জানান,হাইরিক্স হলেও পজিশন খুবই ভালো হওয়াতে নর্মাল ডেলিভারি করতে পেরেছি। নার্সের সাথে সহযোগী হিসেবে উপস্থিত ছিল রত্না তঞ্চঙ্গ্যাসহ অন্যান্য বেশ কয়েকজন।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনার কর্মকর্তা ডা.রশ্মি চাকমা সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান,

আমি ট্রেনিং- এ ছিলাম। তবে আমার স্বাস্থ্য বিভাগে সবাই নিয়মিত সেবাদানে তৎপর। কিন্তু হাসপাতালে জনবল কম। তারপরেও আমরা সকল রোগীকে নিয়মিত সেবা দিতে সদা প্রস্তুত।

উল্লেখ্য যে,গর্ববতী মহিলাকে শেষবারে চেক-আপ করা হয়েছিল আগস্ট মাসে প্রথম দিকে রাঙ্গামাটি মাতৃমঙ্গল হাসপাতালে।সেখানে ডা.লেলিন চেকআপ করে তাকে হাইরিক্স মাদার হিসেবে রিপোর্ট দেন।সময়ে আগে হাসপাতাল শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শও দেন।

তাকে নিয়ে বেশ চিন্তিত ছিলেন তার পরিবার ও আত্মীয়রা।তবে হাই রিক্সা মাদার কথাটি তখন সন্তান সম্ভবাকে বলা হয়নি।

সে হিসেবে ঐ মহিলাকে উপজেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে,ডাক্তারদের পরামর্শে, নার্সদের অভিজ্ঞতায় স্বাভাবিকভাবে পুত্র সন্তান জন্ম নিল ঐ হাইরিক্স মা।যা চমক দেখালো উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

মহিলার নাম গোপাদেবী তঞ্চঙ্গ্যা।স্বামী:-অ­নুপম তঞ্চঙ্গ্যা। সদর ইউনিয়ন ৩ নং ওয়ার্ডের কুতুবদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে মা ও পুত্র সন্তান উভয়ে সুস্থ রয়েছেন। নবজাত শিশুটিসহ তার সবার বড় ২ মেয়ে ২ ছেলে মোট ৪ ছেলে-মেয়ের জননী হলো।

এইসব অপারেশন ছাড়া নজিরবিহীন সাফল্যে দেখে সবাই খুশি।

তাই সন্তানের পরিবার পক্ষ থেকে ডাক্তার নার্স এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সবাই ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

 

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি