২৩শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৮ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।মঙ্গলবার

বিলাইছড়িতে ইউপি নির্বাচনঃ চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ৩ জন স্বতন্ত্র ৮ জন। 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

সুজন কুমার তঞ্চঙ্গ্যা।

বিলাইছড়ি (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধিঃ- বিলাইছড়ি উপজেলায় মোট ৪ টি ইউনিয়নের মধ্যে নির্বাচন হচ্ছে ৩ টি ইউনিয়নে। বাদ পড়েছে ৪ নং বড়থলি ইউনিয়ন। আসন্ন ১১ নভেম্বর ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে প্রচার- প্রাচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে মহিলা মেম্বার ও ওয়ার্ড মেম্বার বা সাধারণ সদস্য সহ সকল প্রার্থীরা। সব এলাকায় পোস্টারে পোস্টারে ছেঁয়ে গেছে,ভরে গেছে আনাচে- কানাচে।চলছে শীতের হাওয়ার আগেই নির্বাচনী হাওয়া।

 

সিডিউল মোতাবেক খুব কম সময়ে বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় পর্বতে গিয়ে নিজেকে জয়ী করার জন্য ভোটারদের ভোট পাওয়ার জন্য শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা বিনিময়সহ ভাব বিনিময় করছেন প্রার্থীরা দিন- রাত। প্রচার- প্রচারণায় সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। তবে অনেক প্রার্থীদের সঙ্গে কথা হলে, তারা বেশ জন সমর্থক পাচ্ছেন বলেও জানান। প্রচারণায় কেউ পিছিয়ে নেই বলেও জানান স্বানীয় ও ভোটাররা।

 

তিন ইউনিয়নে মোট ১১ জন চেয়ারম্যানের প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহন করছেন। তার মধ্যে আওয়ামী লীগের ৩ জন বাকীরা স্বতন্ত্র প্রার্থী। ইউনিয়ন ভিত্তিক প্রার্থীর মধ্যে ১ নং বিলাইছড়ি ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন ৩ জন,তারমধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ভদ্রসেন চাকমা। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সুনীল কান্তি দেওয়ান, ও মিথুন তঞ্চঙ্গ্যা, (অমিতাভ)।

২ নং কেংড়াছড়ি ইউনিয়নে ৪ জন,তারমধ্যে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী রামাচরণ মার্মা (রাসেল),স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন টিপু চাকমা, অমর জীব চাকমা ও সমতোষ চাকমা। এবং ৩ নং ফারুয়া ইউনিয়নে ৪ জনের মধ্যে আওয়মীলীগের মনোনীত প্রার্থী বিদ্যালাল তঞ্চঙ্গ্যা, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন জীবন বিকাশ তঞ্চঙ্গ্যা, চাথোয়াই মার্মা ও নির্মল তঞ্চঙ্গ্যা।

 

 

প্রচারণায় কমতি নেই,সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার পদ প্রার্থীরাও। তারা তাদের প্রচারণায় বেশ জন সমর্থন পাচ্ছেন বলেও জানা যায়। এর মধ্যে ১ নং বিলাইছড়ি ইউনিয়নের – রিতা চাকমা,মাধুরী চাকমা,সপ্না তঞ্চঙ্গ্যা,বলাকা রানী চাকমা ,তনাবী তঞ্চঙ্গ্যা,অনুভা তঞ্চঙ্গ্যা ও রানী বালা তঞ্চঙ্গ্যা এবং ২ নং কেংড়াছড়ি ইউনিয়ন ৮ জন ও ৩ নং ফারুয়া ইউনিয়নে ৯ জন মোট-২৪ জন।

 

আর সাধারণ সদস্য (মেম্বার)পদে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন বিলাইছড়িতে ২৪ জন, কেংড়াছড়িতে ১৯ জন ও ফারুয়াতে ৩১ জন সর্বমোট ৭৪ জন।বিনা প্রতিদ্বন্ধীতায় ২ জন।

 

অন্যদিকে, অনেক ভোটারদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান,সবাই ভোট চাইতে আসে, কাকে রেখে কাকে দেবো,কাকে ফেলে কাকে দেবো এরা বসন্তের কোকিল নয়তো। চিন্তায় পড়েছেন ভোটাররাও। তবে নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একজন ভোটার জানান,এরারে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী বাছাই করার সময় এসেছে। তিনি জানান, যিনি বিপদে- আপদে পাশে থাকবে, উন্নয়নের দ্বারা অব্যাহত রাখবে, ত্রাণ চুরি করবেন না,আত্নীয় ও দলীয়করণ করবেন না, ন্যায় বিচার করবেন এবং সকলের সমান অধিকার বজায় রাখবেন এমন ব্যক্তিকে নির্বাচন করে ভোট দিবেন বলে জানান।

 

সবমিলিয়ে বিনাপ্রতিদ্বন্ধীতায় ২ জন সহ ১১১ জন। এবারে নির্বাচনে ১১ নভেম্বরকে ঘিরে চলছে নানা প্রচার- প্রচারণা,নিজে জয়ী হবার জন্য এবং নিজের মনোনীত প্রার্থীকে জয়ী করার জন্য সব হিংসা- বিভেদ ভুলে দেখা যায় একে অপরে- পরস্পরে নতুন সহানুভূতি ও ভলোবাসার বন্ধন। এ যেন এক নতুন ঐক্যের সন্ধি।তবে সকলের একটাই দাবি সুস্থ নির্বাচন। ভোটাররা যাতে ঠিকমত ভোট দিতে পারে।

তাই আমাদের সকলের কর্তব্য একটি সুস্থ নির্বাচন উপহার দেওয়া।

 

 

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

খুলনার কয়রায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলার আয়োজনে ও কয়রা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় এ সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম মোহসিন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আলম।
এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী, বাঙ্গালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ গাজী, আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল সহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

নিরাপদ খাদ্যের মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ মোকলেছুর রহমান।

কয়রায় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত।

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।