২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।শনিবার

বিদ্যালয়ের শ্রেনী কক্ষে চলছে প্রধান শিক্ষকের কোচিং বাণিজ্য।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মোঃ আব্দুর রাজ্জাক রাজা নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি ঃ

প্রধান শিক্ষক এবং সহকারি প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে স্কুল ভবনেই চলছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য। সরকারি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে এই কোচিং বাণিজ্য চলছে টাঙ্গাইলের নাগরপুর শহীদ শামসুল হক পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। বৃহস্পতিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে এর সত্যতা পাওয়া গেছে স্কুল ভবনগুলো ঘুরে। করোনাকালিন স্কুল বন্ধ থাকায় আর শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখার জন্য এই প্রাইভেট পড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তারা। জানা যায়, ১৯৭১ স্থালে স্থাপিত হয় নাগরপুর শহীদ শামসুল হক পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়টি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবকের অভিযোগ, শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখার দাবিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কেতাব আলী ও সহকারি প্রধান শিক্ষক জুলহাস উদ্দিন শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের লোভ দেখিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ চালাচ্ছেন এই কোচিং বাণিজ্য। ভালো ফলাফলের আসায় বাধ্য হয়েই ওই কোচিং সেন্টারে পাঠাতে হচ্ছে তাদের শিক্ষার্থীদের। কমপক্ষে স্কুলের শতাধিক ছাত্রী ও বহিরাগত ছাত্র পড়ছে ওই কোচিং সেন্টারে। বেতনও নেয়া ছাত্রী প্রতি পাঁচশ টাকা। তবে স্কুল ভবনে কিভাবে প্রধান শিক্ষক আর সহকারি প্রধান শিক্ষক এই কোচিং বাণিজ্য চালাচ্ছেন এ নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ তারা।

সরেজমিন বিদ্যালয় ভবনের নিচতলার তিনটি কক্ষে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পড়াতে দেখা গেছে। একটি কক্ষে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর মোট ১৩জন শিক্ষার্থীকে পড়াচ্ছেন প্রধান শিক্ষক কেতাব আলী। ষষ্ঠ শ্রেণীর গণিত আর সপ্তম শ্রেণীর ১৪জন শিক্ষার্থীকে ইংরেজি পড়াচ্ছেন সহকারি প্রধান শিক্ষক জুলহাস উদ্দিন আর অস্টম শ্রেণীর ১১জন শিক্ষার্থীকে ইংরেজি পড়াচ্ছেন বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম।

স্কুল ভবনে প্রাইভেট পড়ানোটা ভ‚ল হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন নাগরপুর শামসুল হক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কেতাব আলী।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার লায়লা খানমের সাথে মুঠো ফোনে কোচিং বানিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

নাগরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মনিরুজ্জামান বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত জবাব চাইব, তাদের জবাব দেয়ার পর উর্ধতন কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি