১৮ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৪ঠা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।মঙ্গলবার

বিদায়ী পুলিশ কনস্টেবলকে ফুল সজ্জিত গাড়িতে করে অন্যরকম বিদায় দিলেন পরশুরাম থানা পুলিশ। 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

আবদুল মান্নানঃ- পরশুরাম প্রতিনিধি।

 

দীর্ঘ চাকরি জীবন শেষে বিদায় জানাতে অবসর নেওয়া পুলিশ কনস্টেবল মোঃ সিরাজ মিয়াকে ফুল সজ্জিত গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দিলেন পরশুরাম থানা পুলিশ।

 

৩৯ বছর চাকরি জীবন শেষে স্বেচ্ছায় অবসর নেয়া পুলিশ কনস্টেবল মো. সিরাজ মিয়াকে ৩১ আগস্ট(মঙ্গলবার) বিরল সম্মান দিয়ে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন পরশুরাম থানা পুুলিশ। সারাজীবন পুলিশ ভ্যানের পেছনে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার চাকরি জীবনের বিদায়ের শেষ দিনে পুলিশ ভ্যানকে সুসজ্জিত করে কর্মকর্তার আসনে বসিয়ে দিয়ে সিরাজ মিয়াকে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছেন পরশুরাম থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যের একটি টিম। একজন কনেস্টবলকে এভাবে বিরল সম্মান দেয়ায় পুলিশ পরিবারসহ নেটিজনদের প্রশংসায় ভাসছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

 

পুলিশ সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার (৩১আগস্ট) দুপুরে চাকরির শেষদিনে পরশুরাম থানার কনস্টেবল মো.সিরাজকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময়ও তিনি জানতেন না তার মত একজন কনস্টেবলকে এভাবে সম্মান দিবেন থানার ওসি। গিয়ে দেখেন ওসি মু খালেদ হোসেন তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি পুুলিশ ভ্যানকে সুসজ্জিত করেছেন। গাড়িতে কর্মকর্তাদের আসনে বসিয়ে আবেগপ্লুত হয়ে অশ্রুসিক্ত হৃদয়ে বিদায় দেন ওসিসহ অন্যরা। চাকরি জীবনের বিদায়ের শেষ দিনে এভাবে সম্মান পেয়ে সবাইকে স্যালুট দেন কনস্টেবল মোঃ সিরাজ মিয়া। বিদায়কালে রিবল সম্মান পেয়ে তার চোখে ভেসে উঠে আনন্দাশ্রু।

তার আগের দিন সোমবার(৩০ আগস্ট) পরশুরাম থানা অফিসার ইনচার্জ মু খালেদ হোসেন সহ থানার অফিসার ও ফোর্সের পক্ষ থেকে বিদায়ী কনস্টেবল মোঃ সিরাজ মিয়াকে সম্মামনা ক্রেস্ট এবং শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয়।

 

আবেগ আপ্লুত কনস্টেবল মোঃ সিরাজ মিয়া বলেন, ‘পুলিশ সদস্য হয়ে বিদায়বেলায় পরশুরাম থানার ওসি স্যারের এ ধরনের সম্মানজনক সংবর্ধনা পেয়ে গর্বিত। পরিবারের সদস্য ছাড়াও প্রতিবেশীদের কাছে নিজেকে একজন সফল ও গর্বিত পুলিশ সদস্য হিসেবে প্রমাণ করতে পেরে ফেনী জেলা পুলিশ সুপার খোন্দকার নূরু নবী স্যার ও পরশুরাম থানার ওসি স্যারের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই সৃতি আমি কোনদিন ভুলতে পারবো না।

 

পরশুরাম থানার ওসি মু খালেদ হোসেন জানান, ৩৯ বছর পুলিশ জীবনে সার্ভিস দিয়েছেন তিনি। জেলা পুলিশ সুপার খোন্দকার নূরু নবী স্যারের নির্দেশে বিদায় বেলা এতটুকু সম্মান দিতে পেরে তার মনটা খুশিতে ভরে গেছে। এটা করতে পেরে আমিও মানসিক শান্তি পেয়েছি। তিনি আমাদের পুলিশ পরিবারের একজন সদস্য। বিদায়বেলায় তাকে সম্মান দিতে পেরে নিজেরই প্রশান্তি লাগছে।ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি