২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।শনিবার

বাঘায় অসহায় বিধবা, পাওনা টাকা ফেরত পেতে থানার স্বরনাপন্ন । 

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধিঃ

 

 

রাজশাহীর বাঘা উপজেলায় পাওনা টাকা ফেরত পেতে জাহানারা (৬০) নামের এক অসহায় বিধবা থানার স্বরনাপন্ন হয়েছে। সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনি এ ব্যাপারে বাঘা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ভুক্তভোগী বিধবা উপজেলার হরিণা গ্রামের মৃত আফতাব আলীর স্ত্রী।

 

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, আফতাব আলী হরিণা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিছন্নতা কর্মী হিসাবে কর্মরত ছিলেন। বিদ্যালয় সংলগ্ন পূর্ব পার্শ্বে তার বসতবাড়ি। বাড়ির সামনে ছিল একটি মুদি দোকান। চাকুরির পাশাপাশি তিনি ব্যাবসা করতেন। ব্যাবসা সুত্রে পার্শ্ববর্তী সোনাদহ গ্রামের কছিম উদ্দিনের ছেলে কাঠ ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান এর সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়েওঠে। বিগত চার বছর আগে আফতাব চাকুরী থেকে অবসর গ্রহন করেন। অবসরকালীন ভাতা হিসাবে তিনি একযোগে ৩ লক্ষ টাকা পান। এ বিষয়ে কাঠ ব্যাবসায়ী মান্নান জানতে পেরে তিনি আফতাব কে বুঝিয়ে শুনিয়ে ব্যাবসার লভ্যাংশ দেওয়ার শর্তে ৩ মাস মেয়াদে ৩ জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা বুঝিয়ে নেন। কিন্তুু বিধি বাম টাকা লেনদেন হওয়ার কিছু দিনের মধ্যে আফতাব মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ জনিত কারনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তিন মাস হাসপাতালে চিকৎসা গ্রহনের পর তিনি তার নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

 

ভুক্তভোগী জাহানারা বলেন,স্বামীর মৃত্যুর পর আমি পাওনা টাকা কাঠ ব্যাসায়ী মান্নানের কাছে চাইতে গেলে ৬ মাসের সময় নেয়। কিন্তুু ৬ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও তিনি টাকা না দিয়ে নানান তালবাহানায় দিবো দিচ্ছি করে ৪ বছর অতিক্রম করেছে। সর্বশেষ গেল মৌসুমের আম বিক্রি করে টাকা দিতে চেয়েছিলেন। তাই আমি গত (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ১০ টার সময় তার বাড়িতে টাকা চাইতে গেলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং পুনরায় টাকা চাইতে গেলে মারধর করবে বলে হুমকি দেয়। এছাড়াও আর কখনও টাকা দিবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয়। তাই আমি কোন উপায় না পেয়ে টাকা উদ্ধারের জন্য থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। অভিযোগে উল্লেখিত ১নং,২ নং ও ৩ নং প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী একই গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন সরকারের ছেলে কামাল উদ্দিন (পোস্ট মাস্টার), রেকাত প্রাঃ এর ছেলে জালাল উদ্দীন, মিন্টু আলীর স্ত্রী নূরী বেগম বলেন, আফতাব ও মান্নানের মধ্যে টাকা লেন-দেনের সময় আমারা উপস্থিত ছিলাম এবং আমাদের সামনেই আফতাব ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা মান্নান কে দিয়েছিল।

 

এ ব্যাপারে মান্নানকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়েও তিনি কল রিসিভ করেননি।

 

স্থানীয়রা জানান, তাদের কোন ছেলে না থাকায় আফতাব মারা যাওয়ার পর তার স্ত্রী খুবই অসহায় হয়ে পড়েন। তাদের নিজের জমি না থাকায় ইউপি সদস্যের সহযোগিতায় অন্যের জমিতে একটি ছোট ঘর করে স্বামীর রেখে যাওয়া শেষ সম্বল ছোট্ট দোকানটিকে আকড়ে ধরে তিনি থাকেন সেই কুড়ে ঘরে।

 

বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এ ব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি