১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

বাঘাইছড়িতে এশায়াত মাহফিল অনুষ্ঠিত ।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বাঘাইছড়ি প্রতিনিধিঃ-

অরাজনৈতিক তরিক্বতভিত্তিক আধ্যাত্মিক সংগঠন মুনিরীয়া যুব তবলীগ কমিটি বাংলাদেশ ১৪৩ নং মারিশ্যা শাখার উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপলক্ষে শুক্রবার বাদে আসর রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফ কমপ্লেক্স স্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত “এশায়াত মাহফিল” অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

সুচিন্তা ফাউন্ডেশন পার্বত্য চট্টগ্রামের সমন্বয়ক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মুহাম্মদ লুৎফর রহমান রাজীব এর উপস্থাপনায় আয়োজিত এশায়াত মাহফিলে মডেল টাউন জামে মসজিদের সম্মানিত খতিব ও সংগঠনের সভাপতি আলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মদ আমিনুল হক মুনিরী ছাহেব এর সভাপতিত্বে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাঘাইছড়ি উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ফজলে আহমদী পাঠক ফোরামের উপদেষ্টা মুহাম্মদ আলী হোসেন।

 

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাদ্রাসা পাড়া জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও মাদ্রাসা পাড়া মহল্লা কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মুহাম্মদ শাহ আলম কোম্পানী, বটতলী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষক লীগ বাঘাইছড়ি পৌরসভার সভাপতি মুহাম্মদ ওসমান গনি, এফ ব্লক হেফজখানার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মদ মাহমুদুর রহমান, সংগঠনের দিঘীনালা-বাঘাইহাট সমন্বিত সাংগঠনিক টিমের সমন্বয়ক মাওলানা মুহাম্মদ বশির উদ্দিন আনসারী, বাঘাইছড়ি উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মুহাম্মদ আব্দুল সবুর, বাঘাইছড়ি উপজেলা সদর ব্যাবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বাঘাইছড়ি প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুল মাবুদ, ৭নং পৌর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শামসুর রহমান, মাওলানা মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন, বাঘাইছড়ি পৌরসভায় কর্মরত মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান, মুহাম্মদ মাহমুদুর রহমান মাষ্টার, শ্রমিক নেতা মুহাম্মদ সিরাজুল হক, ছাত্রলীগ নেতা মুহাম্মদ শাহআলম প্রমুখ।

 

এসম প্রধান অতিথি বলেন, প্রিয় নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রেম ঈমানের পূর্বশর্ত; তাই একটি মাত্র দিনে আবদ্ধ না থেকে বছরের প্রতিটি দিনই ঈদে মিলাদুন্নবী পালন করে থাকেন নবী প্রেমিক ঈমানদারগণ। কুরআন ও হাদিসের নির্দেশনা মোতাবেক অন্তরে নবী প্রেম ধারণ করে অধিক পরিমাণ ইবাদতের মাধ্যমে মানুষকে ইনসানে কামেল এ পরিণত করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফ। কাগতিয়া দরবারের আধ্যাত্মিক আমল এর মাধ্যমে যুবসমাজ নৈতিক অবক্ষয় হতে মুক্ত থেকে দক্ষ-দেশপ্রেমিক মানবশক্তিতে পরিণত হচ্ছে; যা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ বিনির্মানে সুন্দর সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

সভাপতির বক্তব্যে আলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মদ আমিনুল হক মুনিরী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা কাগতিয়া আলীয়া গাউছুল আজম দরবার শরীফের বিভিন্ন কার্যক্রম-উদ্যোগ-আধ্যাত্মিকতার চর্চা সম্পর্কে বিস্তারিত অবগত হয়ে তরিক্বত কনফারেন্স ২০২১, এশায়াত সম্মেলন ২০২১ এবং সর্বশেষ গত ১১ রবিউল আউয়াল কেন্দ্রীয় পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত পবিত্র জশনে জুলুছে ঈদে মিলাদুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাহফিল এর সফলতা কামনা করে পৃথক পৃথক বাণী পাঠিয়ে দরবারের ও তরিক্বতের সফলতা কামনা করেন। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।

 

এশায়াত মাহফিলে গৃহীত কর্মসূচিসমূহঃ পবিত্র কোরআন তেলওয়াত, হামদ-নাত-কছিদা পাঠ, আয়াতে শেফা পাঠ, ফাতেহা শরীফ আদায়, মোরাকাবা মাহফিল, দোয়া ইউনুছ-জিকির-দরুদ শরীফ আদায়, আলোচনা সভা, মিলাদ-কিয়াম-মুনাজাত।

 

মিলাদ-কিয়াম শেষে দেশ জাতির উন্নতি-অগ্রগতি কামনায়, কাগতিয়া তরিক্বতের রাহবার আওলাদে রাসূল অধ্যক্ষ হযরত শায়খ ছৈয়্যদ মোর্শেদে আজম মাদ্দাজিল্লুহুল আলী ছাহেব সহ উপস্হিত সকলের হায়াতে খিজরী ও সুস্হতা কামনা করে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন আলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মদ আমিনুল হক মুনিরী ছাহেব।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।

অররবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনা ঃ

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে আসাদুল ইসলাম (১৯) নামে কয়রার এক কলেজছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার ভোরে আসাদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে। আমাদী জায়গীমহল খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় আসাদুলের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কলেজছাত্র আসাদুল। কিন্তু প্রেমিকা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভিডিও কলে রেখে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

কলেজছাত্রের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, আসাদুল ইসলামের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানতাম। মেয়েটির সঙ্গে কয়েকবার দেখাও করেছেন তিনি। পরে ঐ মেয়েটিকে বিয়ের জন্য আসাদুল তার পরিবারকে জানান। তার পরিবার তাদের বিয়েতে রাজি হয়। কিন্তু পরে জানতে পারি মেয়েটি রাজি হয়নি। হয়তো সেই দুঃখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কয়রা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন জানান, কলেজছাত্রটি আলাদা ঘরে থাকতেন। সেখানেই তার মরদেহ পাওয়া গেছে। তার সোজাসুজি রাখা ভিডিও কল চালু অবস্থায় একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে অপর প্রান্তে থাকা কাউকে ভিডিও কলে রেখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কয়রার যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।