২৩শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৮ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।মঙ্গলবার

বকশীগঞ্জে আসন্ন ইউপি নিবার্চনে ভোট কেন্দ্র পরিবর্তনের দাবি!

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বকশীগঞ্জ(জামালপুর) প্রতিনিধি।

জামালপুরের বকশীগঞ্জে আসন্ন ইউপি নির্বাচন উপলক্ষে একটি ভোট কেন্দ্র পরিবর্তন করার দাবি করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। এবিষয়ে তারা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বকশীগঞ্জ উপজেলার ৬ নম্বর নিলাখিয়া ইউনিয়নের ৯ টি গ্রাম নিয়ে গঠিত ৯ নম্বর ওয়ার্ড। নিলাখিয়া ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে বড় ওয়ার্ড এটি। জনসংখ্যা ও ভোটার সংখ্যায় অন্যান্য ওয়ার্ডের চেয়ে অনেক বেশি। এই ওয়ার্ডের দাড়িয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিগত সময়ে নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এই ওয়ার্ডের মধ্যে অবস্থিত জানকিপুর মির্ধাপাড়া, নতুন বাশকান্দা, পুরাতন বাশকান্দা ও ভাটিয়া পাড়া গ্রাম। এই গ্রাম গুলো থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত দাড়িয়াপাড়া ভোট কেন্দ্র।

এই কেন্দ্রে আরো কয়েকটি গ্রামের মানুষ এই ভোট দিতে যায়। ৩ কিলোমিটার দূরে ভোট কেন্দ্র হওয়ায় এবং যাতায়াত ব্যবস্থা নাজুক হওয়ায় অনেক মানুষ ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।

পাশাপাশি ভোট কেন্দ্রের পাশে অবস্থিত দাড়িয়া পাড়া গ্রামের কতিপয় ব্যক্তি নিবার্চনকে বাঁনচাল করার পাঁয়তারা করে থাকেন। ওই ব্যক্তিরা বরাবরই তাদের নিজ কেন্দ্র বলে দাপট দেখানো সহ ভোট কেন্দ্র দখল করা ও ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে থাকেন। ফলে ভোটারগণ ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন।

২০১৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দাড়িয়া পাড়া গ্রামের কতিপয় দুর্বৃত্তরা এই কেন্দ্র জোরপূর্বক দখল নিতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর হামলা করেন এবং ভোটারদের উপর আক্রমণ করেন।

এছাড়াও ভাটিয়া পড়া কেন্দ্রে যাওয়ার রাস্তাটি ভাঙাচোরা ও গ্রামীণ রাস্তা হওয়ায় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টহল দেওয়া খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। ফলে প্রভাবশালী ওই চক্রটি কেন্দ্র নিজেদের দখলে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করে থাকেন।

নানা অসঙ্গতি ও সব দিক বিবেচনা করে মির্ধাপাড়া সহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ দাড়িয়াপাড়া ভোট কেন্দ্র পরিবর্তন করার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, আগামি নির্বাচনে দাড়িয়া পাড়া ভোট কেন্দ্র বাতিল করা অথবা নতুন করে অতিরিক্ত আরেকটি কেন্দ্র স্থাপন করা হলে সর্ব শ্রেণির মানুষের ভোট প্রদান করতে সুবিধা হবে। তাই তারা জানকিপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন একটি কেন্দ্র করার দাবি জানিয়েছেন।

নিলাখিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ৩ বারের নির্বাচিত বর্তমান ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম লিচু জানান, স্থানীয় জনগণ যাতে করে নির্বিঘেœ ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেন এবং তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন সেই পরিবেশ তৈরি করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

পুরাতন কেন্দ্র পরিবর্তন বা নতুন কেন্দ্র স্থাপন করার বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

 

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

খুলনার কয়রায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলার আয়োজনে ও কয়রা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় এ সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম মোহসিন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আলম।
এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী, বাঙ্গালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ গাজী, আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল সহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

নিরাপদ খাদ্যের মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ মোকলেছুর রহমান।

কয়রায় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত।

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।