২২শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৭ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

প্রেমের টানে মেক্সিকো’র তরুণী বাংলাদেশে।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

স্বপন মাহমুদ,সরিষাবাড়ী প্রতিনিধি:

 

ভাষা-সংস্কৃতি, ধর্ম-বর্ণসহ নানা সংস্কারের ভেদাভেদ ভুলে শুধু প্রেমের টানে মেক্সিকো দেশ থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন ‘গ্লাডির্স নাইলী ট্রোরেবিয়ো মোরালিয়ার্স’ (৩২) নামে এক তরুণী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকের পরিচয়ে হাজার হাজার কিলোমিটার দূর থেকে উড়ে এসেছেন বাংলাদেশের জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের চর পোগলদিঘা গ্রামে রবিউল হাসান রোমনের (২৮) কাছে। ভালোবাসার টানে ঘর ছাড়ার ঘটনা সমাজে অহরহ দেখা গেলেও দেশ ছাড়ার ঘটনা এই আধুনিক যুগেও কিছুটা বিরল। গত রোববার (২১নভেম্বর) সকালে মেক্সিকো থেকে বাংলাদেশের শাহ-জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন এই তরুণী। পরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে কোর্ট ম্যারেজ করে তাদের বিয়ে হয়।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের চর পোগলদিঘা (৭নং ওয়ার্ড) গ্রামের হাজী মোঃ নজরুল ইসলামের মেজো ছেলে রবিউল ইসলাম রোমেন সাথে ২০১৯ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইজবুকে পরিচয় হয় মেক্সিকো’র তরুণী নাইলীর। তার পর থেকেই আড়াই বছর যাবত প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয় তাদের। সেই সম্পর্কের জের ধরে গত রোববার বাংলাদেশে আসেন এই তরুণী। জাতি হিসেবে একজন খ্রিস্টান পরিবাবরে জন্ম তার। মেক্সিকো ইউনির্ভাসিটি থেকে (সাইনোক্লোজি) বিষয়ের উপর পড়াশুনা শেষ করে বর্তমানে ফুড ব্যবসায়ী হিসেবে বিজনেস করেন। তার পিতা একজন বিশিষ্ট বিজনেসম্যান। সব কিছু অপেক্ষা করে চলে আসেন বাংলাদেশে। পরে ইসলামের শরীয়ত মোতাবেক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ঢাকা জর্জকোর্টের মাধ্যমে তাদের ধর্মীয় রীতিনীতিতে ১লক্ষ টাকার কাবিন করে বিবাহ সম্পুর্ন করে পারিবারিক ভাবে গ্রহণ করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

 

হাজী নজরুল ইসলাম বলেন, এই সম্পর্কের কথা আমার ছেলে আমাদের জানানোর পরে আমরা পরিবাবারের সকলেই মিলে বিমানবন্দরে গিয়ে মেয়েটিকে গ্রহণ করি। পরে জর্জকোটের মাধ্যমে বিবাহ সম্পুর্ন করে ছেলে এবং ছেলের বউকে বাড়িতে নিয়ে আসি।

 

তরুণী গ্লাডির্স নাইলী ট্রোরেবিয়ো মোরালিয়ার্স ও রবিউল হাসান রোমন বলেন, ফেইজবুকে পরিচয়ের বন্ধুতের মাধ্যমেই দুজন দু’জনের সম্পর্ক। আড়াই বছর যাবত আমাদের সম্পর্ক। ইতিমধ্যে আমি বাংলাদেশ থেকে মেক্সিকো যাওয়া জন্য অনেক চেষ্টা করেছি কিন্তু যেতে পারিনি। অবশেষে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ শেষে টুরিস্ট-ভিশায় আমাকে বিয়ে করার জন্য সে বাংলাদেশে এসেছেন। পরবর্তীতে বিয়ের সব ডকুমেন্ট কাজপত্র নিয়ে মেক্সিকোতে গিয়ে আমাকে ঐ দেশে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

 

এ ঘটনায় পোগলদিঘা ইউপি চেয়ারম্যান সামস্ উদ্দিন জানান, মেক্সিকো থেকে এক তরুণী বাংলাদেশের চর পোগলদিঘা এলাকায় এসেছে। তারা জর্জকোটের মাধ্যমে ইসলামের শরীয়ত মোতাবেক কোর্ট-ম্যারেজ করে গ্রামের বাড়িতে ছেলের পরিবারের কাছে এসেছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

অরবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনাঃ

খুলনার কয়রায় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৬ জুলাই মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলার আয়োজনে ও কয়রা উপজেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় এ সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুলী বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সচেতনতামূলক সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম মোহসিন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্হিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আলম।
এসময় আরও উপস্হিত ছিলেন, কয়রা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম বাহারুল ইসলাম, উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সরদার নুরুল ইসলাম কোম্পানি, দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আছের আলী মোড়ল, মহারাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহনেওয়াজ শিকারী, বাঙ্গালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস সামাদ গাজী, আমাদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জুয়েল সহ সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ।

নিরাপদ খাদ্যের মূল প্রবন্ধ উপস্হাপন করেন খুলনা জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোঃ মোকলেছুর রহমান।

কয়রায় নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত।

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।