২১শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।মঙ্গলবার

প্রতিমন্ত্রী মুরাদ ছাত্রদল করতেন, দাবি মির্জা ফখরুলের

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

তথ্য প্রতিমন্ত্রী মো. মুরাদ হাসান ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় ছাত্রদল করতেন বলে দাবি করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে তিনি বলেন, পরে অবশ্য মুরাদ ছাত্রলীগে যোগ দেন।

স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস উপলক্ষে সোমবার দুপুরে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিএনপির মহাসচিব।

খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মুরাদ হাসানের বক্তব্য–সংবলিত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে। আজ মুরাদের সেসব বক্তব্যের সমালোচনা করতে গিয়েই তার অতীত রাজনীতি নিয়ে এ তথ্য দেন বিএনপির মহাসচিব। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দুর্ভাগ্যের কথা, সে নাকি ছাত্রদল করত। সে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক ছিল। পরবর্তীকালে সে ছাত্রলীগে যোগদান করেছে। ধিক্কার দিই আমি তাকে।’

এই বক্তব্যের পর দর্শকসারিতে থাকা যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার আহ্বায়ক গোলাম মাওলা দাঁড়িয়ে মির্জা ফখরুলকে তার বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানান। ডা. মুরাদ কখনো ছাত্রদল করেননি বলে চিৎকার করেন তিনি। এ সময় হলরুমে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। পরে অন্য নেতা–কর্মীরা পরিস্থিতি শান্ত করেন।

মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যের সমর্থনে বলেন, ‘একসময় সে ছাত্রদল করেছে। পরবর্তীকালে সে ছাত্রলীগের নেতা হয়ে প্রেসিডেন্ট (ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি) হয়েছে। এটা দুর্ভাগ্য আমাদের। এ রকম একটা ছেলে ছাত্রদলে ছিল।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে স্পষ্ট প্রশ্ন করতে চাই প্রধানমন্ত্রীকে, এই কথা সত্য কি মিথ্যা আপনাকে জানাতে হবে। কারণ, আপনি প্রধানমন্ত্রী। এই দেশের মানুষের নিরাপত্তা এবং নিজের মর্যাদাকে রক্ষা করা ও একই সঙ্গে এই ভয়াবহ উক্তি যদি দেশের একজন মন্ত্রী করতে পারে, আপনার সরকারের অবস্থান কী, আমরা জানতে চাই। এটার উত্তর দিতে হবে। কারণ, এতে আপনাকে জড়িয়ে কথা বলা হয়েছে।’

বিএনপি মহাসচিব জানান, ওই বক্তব্যে মুরাদ হাসান বলছেন, ‘যা কিছু করছি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে করছি এবং তিনি সবকিছু জানেন।’ এই বক্তব্যটুকু অত্যন্ত মারাত্মক।

মুরাদ হাসান ছাত্রদল করতেন বলে মির্জা ফখরুলের দাবির বিষয়টি যাচাই করতে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। তার ব্যক্তিগত সহকারী (রাজনৈতিক) জাহিদ নাইমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি