১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

পেছালো চতুর্থ ধাপের ইউপি নির্বাচন: ভোটগ্রহণ ২৬ ডিসেম্বর।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

মাহামুদুল হাসান।

 

চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন হয়েছে। পূর্বঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২৩ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ২৬ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ওই দিন এইচএসসি পরীক্ষা থাকার কারণে নির্বাচন কমিশন ভোট গ্রহণের তারিখে পরিবর্তন আনার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিব হুমায়ন কবীর খোন্দকার বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

 

আগামী ২ ডিসেম্বর দেশে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার শিডিউল অনুযায়ী, চতুর্থ ধাপের ভোটগ্রহণের দিন ২৩ ডিসেম্বর সকালে ও বিকালে পরীক্ষার সিডিউল রয়েছে। ওই দিন সকালে ভূগোল দ্বিতীয়পত্র এবং বিকালে আরবি দ্বিতীয়পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগের দিনও সকাল-বিকাল এ দুটি বিষয়ের প্রথমপত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।

 

জানা গেছে, এইচএসসি পরীক্ষার দিনে ভোটগ্রহণের তারিখের বিষয়টি নজরে এলে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদার সঙ্গে কথা বলেন। দেড় বছর পরে পরীক্ষা অনুষ্ঠানের বিষয়টির প্রসঙ্গ টেনে তিনি পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ভোটগ্রহণের তারিখ পরিবর্তনের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অনুরোধ করেন। যার প্রেক্ষিতে চতুর্থ ধাপের ইউপি ভোট ৩ দিন পিছিয়ে ২৬ ডিসেম্বর পূণনির্ধারণ করা হয়েছে।

 

এছাড়া ডিসেম্বরে আরেকটি ধাপের ইউপি নির্বাচনের পরিকল্পনা করলেও সেটার চিন্তা বাদ দিয়ে জানুয়ারিতে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ কারণে ভোটের শিডিউল দিতে সোমবার কমিশন সভা ডাকা হলেও তা ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা’র পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক উপকমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর এস এম আমিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এইচএসসি পরীক্ষার দিনে ইউনিয়ন পরিষদ ভোটের তারিখের বিষয় নজরে আসার পর শিক্ষামন্ত্রী নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। যতদূর জানি পরীক্ষার তারিখ পেছাবে না। উনারা (নির্বাচন কমিশন) সমন্বয় করে ভোটের তারিখ পরিবর্তন করবে।’

 

নির্বাচন কমিশন সচিব হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ২৩ ডিসেম্বরের ভোটের দিনটি পরিবর্তন করেছে। এ ক্ষেত্রে ভোটগ্রহণ ২৩ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে কমিশন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর আমাদের হাতে যেহেতু সময় রয়েছে, তাতে ভোটের তারিখ পেছালে কোনও সমস্যা হবে না।’

 

নির্বাচন কমিশন চতুর্থ ধাপে দেশের ৮৪০টি ইউনিয়ন পরিষদে ভোট গ্রহেণর জন্য গত ১০ নভেম্বর তফসিল ঘোষণা করেছিল।

 

 

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।

অররবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনা ঃ

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে আসাদুল ইসলাম (১৯) নামে কয়রার এক কলেজছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার ভোরে আসাদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে। আমাদী জায়গীমহল খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় আসাদুলের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কলেজছাত্র আসাদুল। কিন্তু প্রেমিকা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভিডিও কলে রেখে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

কলেজছাত্রের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, আসাদুল ইসলামের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানতাম। মেয়েটির সঙ্গে কয়েকবার দেখাও করেছেন তিনি। পরে ঐ মেয়েটিকে বিয়ের জন্য আসাদুল তার পরিবারকে জানান। তার পরিবার তাদের বিয়েতে রাজি হয়। কিন্তু পরে জানতে পারি মেয়েটি রাজি হয়নি। হয়তো সেই দুঃখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কয়রা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন জানান, কলেজছাত্রটি আলাদা ঘরে থাকতেন। সেখানেই তার মরদেহ পাওয়া গেছে। তার সোজাসুজি রাখা ভিডিও কল চালু অবস্থায় একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে অপর প্রান্তে থাকা কাউকে ভিডিও কলে রেখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কয়রার যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।