১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

পিরোজপুরে যুবলীগের পৌর সাধারণ সম্পাদক গুলিবিদ্ধ।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

এম এফ এইচ রাজু

পিরোজপুর প্রতিনিধিঃ

 

পিরোজপুরে সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নে নৌকা মার্কার প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণাকালে পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল মাহবুব শুভ গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এ সময় বিদ্রোহী প্রার্থীর হামলায় আরো কয়েক জন গুরুতর আহত হয়েছে।

 

রোববার রাতে ৮ টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা উপজেলার মল্লিকবাড়ী এলাকা থেকে দলীয় সমাবেশ শেষে ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান পিরোজপুর জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান মানিক।

 

আহত অন্যান্যেরা হলেন, পিরোজপুর সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সহ-সভাপতি হাসান সিকদার, জেলা যুবলীগ নেতা ইরতিজা হাসান রাজু সহ কয়েকজন। গুরুতর আহতবস্থায় পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ছাত্রলীগে সাবেক সভাপতি ফয়সাল মাহবুব শুভকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।

 

আহত জেলা যুবলীগ নেতা ইরতিজা হাসান রাজু জানান, নৌকা মার্কার পক্ষে প্রচারণা জন্য শংকরপাশা এলাকায় আমারা যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ যাই। শংকারপাশা ইউনিয়নের মল্লিকবাড়ী এলাকায় গেলে হঠাৎ করে আনারস মার্কার প্রার্থী নাসির হোসেন মাতুব্বরের লোকজন তাদের উপর গুলি করে এবং অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। এ সময় আনারস মার্কার লোকজনের গুলিতে পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল মাহবুব শুভ গুলিবিদ্ধ হয় এবং দর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সহ-সভাপতি হাসান সিকদারে মাথায় অস্ত্র দিয়ে কোপ দেয়। এছাড়াও আরো কয়েক জন নেতা-কর্মীকে পিটিয়ে আহত করে। পরে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সহাসয়তায় পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল মাহবুব শুভ সহ আহতদের উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।

 

পিরোজপুর জেলা যুবলীগের সাবেক আহবায়ক সাদউল্লাহ লিটন জানান, নৌকা মার্কার পক্ষে শান্তিপূর্ণ প্রচারণা করার সময় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আনারস মার্কার প্রার্থী নাসির হোসেন মাতুব্বরের লোকজন তাদের উপর গুলি করে এবং অস্ত্র নিয়ে তাদের উপর এ হামলা করেছে।

 

পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রানা সাহা বলেন, গুরুত্বর অবস্থায় ফয়সাল মাহবুব শুভ ও হাসহাসান সিকদারকে হাসপাতালে আনা হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এছাড়া অন্য আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

 

পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, শংকরপাশা ইউনিয়ে নির্বাচনী সহিংসতায় ফয়সাল মাহাবুব শুভ নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংর্ঘষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

এ বিষয় জেলা আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও আনারস মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী নাসির উদ্দিন মাতুব্বরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।

অররবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনা ঃ

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে আসাদুল ইসলাম (১৯) নামে কয়রার এক কলেজছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার ভোরে আসাদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে। আমাদী জায়গীমহল খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় আসাদুলের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কলেজছাত্র আসাদুল। কিন্তু প্রেমিকা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভিডিও কলে রেখে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

কলেজছাত্রের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, আসাদুল ইসলামের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানতাম। মেয়েটির সঙ্গে কয়েকবার দেখাও করেছেন তিনি। পরে ঐ মেয়েটিকে বিয়ের জন্য আসাদুল তার পরিবারকে জানান। তার পরিবার তাদের বিয়েতে রাজি হয়। কিন্তু পরে জানতে পারি মেয়েটি রাজি হয়নি। হয়তো সেই দুঃখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কয়রা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন জানান, কলেজছাত্রটি আলাদা ঘরে থাকতেন। সেখানেই তার মরদেহ পাওয়া গেছে। তার সোজাসুজি রাখা ভিডিও কল চালু অবস্থায় একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে অপর প্রান্তে থাকা কাউকে ভিডিও কলে রেখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কয়রার যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।