১৫ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

পার্বত্য শান্তিচুক্তির দুই যুগ পূর্তিতে কাপ্তাই হ্রদে নৌকাবাইচ ।

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

 

 

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি::

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং পার্বত্য শান্তিচুক্তির ২৪তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রাঙ্গামাটি রিজিয়নের সার্বিক তত্বাবধানে ও রাঙ্গামাটি জোনের ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশেষ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা।

 

সোমবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাঙ্গামাটি শহরের রিজার্ভ বাজার কাপ্তাই হ্রদের মধ্যটিলা হতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পর্যন্ত নৌকা বাইচের এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় রাঙ্গামাটি জেলার বিভিন্ন উপজেলা হতে ৪টি ধাপে পুরুষ বড় নৌকা ১২টি দল, মহিলাদের বড় নৌকা ৮টি দল, পুরুষ সাম্পান নৌকা ১৬টি দল ও মহিলা ডিঙ্গি নৌকা ১৫টি দলসহ মোট ৫১টি দল অংশ নেয়।

 

খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরী, সদর দপ্তর ৩০৫ পদাতিক ব্রিগেড ও রিজিয়ন কমান্ডার (রাঙ্গামাটি রিজিয়ন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ ইফতেকুর রহমান পিএসসি, কর্ণেল জিএস (ডিজিএফআই) কর্ণেল সলমন ইবনে এ রউফ, সেক্টর কমান্ডার (বিজিবি সেক্টর রাঙ্গামাটি) কর্ণেল মোঃ তারিকুল ইসলাম, সিবিজিএমএস, জেলা পুলিশ সুপার মীর মোদদাছছের হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শিল্পী রাণী রায়, পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী প্রমূখ। এছাড়া সামরিক ও বেসামরিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রতিযোগিতায় চারটি ধাপে বিজয়ী মহিলাদের ডিঙ্গি নৌকা অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ১ম স্থান রাঙ্গামাটি সদর উপজেলার কিল্ল্যামুড়া এলাকার মিতা ত্রিপুরা, ২য় স্থান মগবান এলাকার রিপা চাকমা, ৩য় স্থান কিল্লামুড়া এলাকার মিতা ত্রিপুরা(২)। পুরুষদের সাম্পান নৌকা প্রতিযোগিতার মধ্যে ১ম স্থান সাওতালপাড়া এলাকার জামাল ও তার সাথী, ২য় স্থান কিল্ল্যামুড়া এলাকার জলকান্তি ত্রিপুরা, ৩য় স্থান সুমন ও তার সাথী। মহিলাদের বড় নৌকার মধ্যে চ্যাম্পিয়ন কিল্ল্যামুড়া এলাকার আলোরানী ত্রিপুরা, ১ম রানার আপ কিল্ল্যামুড়া এলাকার চিকনা ত্রিপুরা, ২য় রানার আপ কিল্ল্যামুড়া এলাকার সুমিতা ত্রিপুরা। পুরুষদের বড় নৌকা অংশগ্রহণকারী দলের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন কিল্ল্যামুড়া এলাকার চিরমনি ত্রিপুরা, ১ম রানার আপ কিল্ল্যামুড়া এলাকার সবিল ত্রিপুরা, ২য় রানার আপ কিল্ল্যামুড়া এলাকার প্রশান্ত ত্রিপুরা।

 

প্রসঙ্গত, নয়নাভিরাম রুপের রানী হিসেবে আখ্যায়িত রাঙ্গামাটি জেলায় রয়েছে পাহাড়, নদী, ঝর্ণা, সবুজের বিশাল সমাহার স্বচ্ছ জলের মিলন মেলার নিবিড় সম্পর্ক। ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে কাপ্তাই বাঁধ নির্মানের ফলে কর্ণফুলী নদীতে সৃষ্টি হয় কৃত্রিম এই হ্রদ। কাপ্তাই লেককে ঘিরেই মূলত রাঙ্গামাটি জেলায় পর্যটন শিল্প গড়ে উঠেছে।

 

 

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

মুক্তাগাছা প্রতিনিধি:

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুরের দায়ের কোপে ভাতিজা বউ শিউলী আক্তার খুন হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বাঁশাটি ইউনিয়নের গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানাযায়, উপজেলার গোয়ারী উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সিএনজি চালক শরিফুল ইসলামের স্ত্রী শিউলী আক্তার (৩০) স্বপরিবারে ঘুমাচ্ছিল। এ সময় তার চাচা শ্বশুর মৃত নেওয়াজ আলীর পুত্র সোলায়মান মিয়া তাদেরকে ডাকা ডাকি করে ঘর থেকে বের হতে বলে। দরজা খুলে শরিফুল ও তার স্ত্রী শিউলী ঘর থেকে বের হলে সোলায়মান তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালজ করে। এক পর্যায়ে সোলায়মানের হাতে থাকা দা দিয়ে এলোপাতারি কোপাতে শুরু করে। সোলায়মান দা’ দিয়ে শিউলীর ঘাড়ে কোপ দিলে শিউলী ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে সোলায়মান দা নিয়ে শরিফুলকে ধাওয়া দিলে শরিফ প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে লাফ দিয়ে প্রণে বাঁচায়। পরে প্রতিবেশীরা এসে তাকে উদ্ধার করে।
নিহত শিউলী একই উপজেলার মুজাটি গ্রামের মৃত হামেদ আলীর মেয়ে। গত ১২ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। শিউলর ৫ মাসের মেয়ে শিশুসহ ৩ কন্যা সন্তান রয়েছে।
উল্লেখ্য গত শুক্রবার বিকেলে শিউলীর ৬ বছরের মেয়ে লামিয়া এর সাথে সোলায়মানের পুত্রের তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ঝগড়া হয়। সেই ঝগড়ার জেরেই সকালে নিহতের বাড়িতে এসে তাদের ঘুম থেকে ডেকে এ খুনের ঘটনা ঘটান।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মুক্তাগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) জহিরুল ইসলাম মুন্না জানান, শনিবার সকালে উপজেলার গোয়ারী উত্তর গ্রামে হত্যার ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঠায়। মামলার প্রস্তুতি চলছে। এঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মুক্তাগাছায় চাচা শ্বশুড়ের দায়ের কোপে ৩ সন্তানের জননী খুন।

অররবিন্দ কুমার মণ্ডল, কয়রা, খুলনা ঃ

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে আসাদুল ইসলাম (১৯) নামে কয়রার এক কলেজছাত্র গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

৯ জুলাই, মঙ্গলবার ভোরে আসাদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে। আমাদী জায়গীমহল খান সাহেব কোমর উদ্দীন কলেজে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মেয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় আসাদুলের। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন কলেজছাত্র আসাদুল। কিন্তু প্রেমিকা বিয়েতে রাজি না হওয়ায় তাকে ভিডিও কলে রেখে নিজ ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে জানা গেছে।

কলেজছাত্রের প্রতিবেশী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, আসাদুল ইসলামের সঙ্গে উত্তরবঙ্গের একটি মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে জানতাম। মেয়েটির সঙ্গে কয়েকবার দেখাও করেছেন তিনি। পরে ঐ মেয়েটিকে বিয়ের জন্য আসাদুল তার পরিবারকে জানান। তার পরিবার তাদের বিয়েতে রাজি হয়। কিন্তু পরে জানতে পারি মেয়েটি রাজি হয়নি। হয়তো সেই দুঃখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

কয়রা থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ইব্রাহিম হোসেন জানান, কলেজছাত্রটি আলাদা ঘরে থাকতেন। সেখানেই তার মরদেহ পাওয়া গেছে। তার সোজাসুজি রাখা ভিডিও কল চালু অবস্থায় একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে অপর প্রান্তে থাকা কাউকে ভিডিও কলে রেখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। তার অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রেমিকাকে ভিডিও কলে রেখে কয়রার যুবকের গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা।