১৭ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।৩রা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ।সোমবার

নির্বাচন সামনে রেখে বেড়েছে পেশাদার সন্ত্রাসীদের আনাগোনা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সন্ত্রাসীদের অবৈধ অস্ত্র-বিস্ফোরকের চালান ঠেকাতে তৎপরতা চালাচ্ছে। কারণ বিভিন্ন নির্বাচনের আগে পেশাদার সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়ে যায়। অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরকের হাতবদল হয়। নাশকতায় এবং নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বি গ্রুপের বিপক্ষে ব্যবহার হয় ওসব অস্ত্র-বিস্ফোরক। আগামী সংসদ নির্বাচন ঘিরে ইতিমধ্যে পেশাদার সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়েছে। বিশেষ ধরনের কোড ও সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরকের হাতবদল হচ্ছে। ইতিমধ্যে ওই ধরনের বেশ কয়েকটি গ্রুপকে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সাম্প্রতিক সময়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডে ক্ষুদ্রাস্ত্রের চাহিদা বেড়েছে। পাশাপাশি সীমান্তের ফাঁক গলে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরকের চালানও ঢুকছে। সম্প্রতি অস্ত্রবাজ সন্ত্রাসীদের এমন ধরনের গতিবিধি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে এসেছে। আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীরা বিস্ফোরককে মাটি বলে। বিস্ফোরক বিক্রির দেনদরবারের সময়ে নিজেদের মধ্যে কথোপকথনে এ বিশেষ কোড ও সাংকেতিক ভাষা ব্যবহার করে থাকে। পাশাপাশি রিভলবারকে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো চাকতি এবং পিস্তলকে সাতের মাল’ ও পাঁচের মাল বলে অভিহিত করে। সেভেন পয়েন্ট সিক্স-ফাইভ পিস্তলের যেটিতে ৭টি গুলি লোড করা যায় সেটিকে সাতের মাল এবং যেটিতে ৫টি গুলি লোড করা যায় সেটিকে পাঁচের মাল বলে নিজেদের মধ্যে দেনদরবার করছে। সম্প্রতি রাজধানীর ফকিরাপুলের একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে ৫ কেজি গান পাউডারসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। ওই বিস্ফোরক রাজনৈতিক নাশকতার কাজে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছিল। ঘটনাটির তদন্ত চলছে। তার আগেও বিভিন্ন সময়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের সময়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ কোড ও সাংকেতিক ভাষা ব্যবহারের সন্ধান পেয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন সময়ে গ্রেফতার হওয়া সন্ত্রাসীদের জিজ্ঞাসাবাদেও আন্ডারওয়ার্ল্ডের অস্ত্র বাজারের এমন বিশেষ কোড ব্যবহারের তথ্য মিলেছে। আগে বড় অস্ত্রকে হাতি পিস্তল বা রিভলবারকে ঘোড়া এবং গুলিকে কলাগাছ নামে বিশেষ কোড দিয়ে হাতবদল করার তথ্য পাওয়া গেছে। আর বোমাকে সাউন্ডবক্স নামে হাতবদলেরও তথ্য রয়েছে।
সূত্র জানায়, পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যানুযায়ী শুধু গত সেপ্টেম্বর মাসেই সারাদেশে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ৩১৪টি এবং বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় ৪২৬টি মামলা হয়েছে। আর এলিট ফোর্স র‌্যাবের তথ্যানুযায়ী চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত গত ১০ মাসে সারাদেশে বিভিন্ন ধরনের ৮৫৭টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন প্রকারের ২০ হাজার ১৮৭টি গোলাবারুদ, ৪১০টি ককটেল, বোমা ও গ্রেনেড এবং ৩১৪ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়। নির্বাচন এলে আন্ডারওয়ার্ল্ডে অবৈধ অস্ত্রের চাহিদা ও দাম বেড়ে যায়। তখন অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি অস্ত্রের জোগানদাতা হিসেবে একশ্রেণির বৈধ ব্যবসায়ীর সিন্ডিকেটও তৎপর হয়ে ওঠে।
সূত্র আরো জানায়, একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে সন্ত্রাসীদের অপতৎপরতা ঠেকাতে পুরোপুরি প্রস্তুতি নিয়েছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পাশাপাশি নির্বাচনের আগে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে আরো কঠোর হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রয়োজনে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চালানো হবে। সেই লক্ষ্যে সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক হয়েছে। তাতে আসন্ন নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সে অনুযায়ী আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের তালিকা হালনাগাদ করার পাশাপাশি অস্ত্র মামলা ও বিভিন্ন নাশকতার মামলার আসামিদের দিকে কড়া নজরদারির বিষয়ও বৈঠকে উঠে আসে।
এদিকে অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক প্রসঙ্গে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের স্পেশাল অ্যাকশন গ্রুপের (এসএজি) অতিরিক্ত উপকমিশনার জাহাঙ্গীর আলম জানান, অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি বৈধ অস্ত্রের অবৈধ কারবারিদের দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। শুধু নির্বাচন নয়, কোনো উৎসব বা কর্মসূচিতেই যাতে সন্ত্রাসীরা অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার করতে না পারে সেদিকে আর্মস এনফোর্সমেন্ট টিম সতর্ক রয়েছে।
অন্যদিকে একই প্রসঙ্গে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানান, অবৈধ অস্ত্র সব সময়ের জন্যই ভয়ঙ্কর। সেজন্য র‌্যাব ওসব অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও অস্ত্রবাজদের গ্রেফতারে সবসময়ই অভিযান চালায়। জাতীয় নির্বাচনের আগে-পরেও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ অভিযান জোরালোভাবেই অব্যাহত থাকবে। অবৈধ অস্ত্রবাজদের দিকে কঠোর নজরদারি রয়েছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে সেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি
পর থেকে চোর আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটচ্ছে গ্রামের ছাগল মালিকরা। মইদুল ইসলামের ২ টি ছাগল চুরি হয়েছে। এর ধারাবাহিক এই চুরির ঘটনার পর থেকে গ্রামজুড়ে চোর আতঙ্ক
বিরাজ করছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার পাঁচলিয়া গ্রাম থেকে গত ১মাসে ৯ বাড়ি থেকে ১৬ টি ছাগল চুরির ঘটনা ঘটেছে। পল্লী চিকিৎসক আব্দুল আলিমের ১টি, তহিদুল ইসলামের ১টি, আশরাফুল ইসলামের ৩টি, সাইদুল ইসলামের
১টি, জহির হোসেনের ১টি, দুরুদ মন্ডলের ১টি, তসলেম উদ্দিনের ২টি, ও আবু কালামের ২টি রয়েছে। চোরেরা ছাগল মেরে রেখে যায় আরও ১টি।
মইদুল ইসলাম বলেন, গত ১০ বছর ধরে আমি পঙ্গু হয়ে ঘরে পড়ে আছি। মাঠে অল্প একটু জমি আছে, তা থেকে খাবার ধানটা কোন রকম আসে। বাজার আর অন্যান ব্যয়ভার চলতো
আমার ছাগল বিক্রি করে। ছাগল ২টি পেয়েছিলাম আমি ছাগল পোষানি থেকে। তাও নিয়ে গেল চোরেরা। তিনি বলেন,
৩ছেলে মেয়ে আর স্ত্রী নিয়ে আমার সংসার। সংসারের আয় করি আমি একাই। এদিকে একের পর এক ছাগল চুরির ঘটনায় নির্ঘুম রাত কাটছে ওই গ্রামের ছাগল মালিক লালন খন্দকার ও মমিনুর রহমান। তারা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে
ছাগল পালন করে আসছি। এমন সমস্যা হয়নি কোনদিন
প্রায় দিন না ঘুমিয়ে রাত কাটছে এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে দোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল জলিল বিশ্বাস বলেন, চুরির ঘটনা ঘটেছে আমি জানি। বিষয়টি উপজেলা আইন শৃঙ্খলা সভায় তোলা হয়েছে। তবে আজ পর্যন্ত কোনো
ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কোটচাঁদপুরের লক্ষ্মীপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক ( এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, চায়ের দোকানে গল্প শুনেছি ১/২ টা ছাগল চুরি হয়েছে। এই ব্যাপারে আজ পর্যন্ত কেউ কোন অভিযোগ ও করেনি

ঝিনাইদহের৷কোটচাদপুর ১ মাসে ১৬ টি ছাগল চুরি